আদুরে শিশু, ছোট্ট বিড়ালছানা বা কুকুরছানা দেখলেই অনেকেরই জড়িয়ে ধরতে বা গাল টানতে ইচ্ছে করে। অনেক সময় এটি এতটাই তীব্র হয় যে মনে হয় যেন আরও শক্ত করে টেনে ধরতে ইচ্ছে করছে। কিন্তু এই অনুভূতি কি দুষ্টুমি, নাকি এর পেছনে আছে মস্তিষ্কের বিশেষ কোনো প্রক্রিয়া?
এটি দুষ্টুমি নয়, আবেগের প্রকাশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই আচরণ কোনো ক্ষতি করার উদ্দেশ্য নয়। বরং এটি প্রবল মমতা ও ভালোবাসার একটি অদ্ভুত আবেগপ্রবণ প্রকাশ। ছোট শিশু বা আদুরে প্রাণী দেখলে মানুষের মধ্যে এমন প্রতিক্রিয়া দেখা খুবই সাধারণ।
কিউট অ্যাগ্রেশন কী?
মনোবিজ্ঞানীরা এই অনুভূতিকে বলেন কিউট অ্যাগ্রেশন। গবেষকদের মতে, অত্যন্ত আদুরে কিছু দেখলে আমাদের মধ্যে যে অতিরিক্ত ইতিবাচক আবেগ তৈরি হয়, তা নিয়ন্ত্রণ করার জন্যই মস্তিষ্ক এমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করে।
এর ফলে মানুষ আদুরে জিনিসকে জড়িয়ে ধরতে, টিপে ধরতে বা চেপে ধরতে চায়—কিন্তু এর পেছনে কোনো ক্ষতির উদ্দেশ্য থাকে না।
মস্তিষ্কে কী ঘটে এই সময়?
আদুরে কিছু দেখলে মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের একটি হরমোন নিঃসৃত হয়, যা আনন্দ ও পুরস্কারের অনুভূতি তৈরি করে। এই অনুভূতি এতটাই তীব্র হতে পারে যে মস্তিষ্কের আবেগ নিয়ন্ত্রণকারী অংশ সক্রিয় হয়ে ওঠে।
এই অংশ দ্রুত আবেগকে নিয়ন্ত্রণ করে, যাতে মানুষ বাস্তবে কোনো ক্ষতিকর আচরণ না করে।
কেন এমন অনুভূতি হয়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এক ধরনের জটিল মানসিক প্রতিক্রিয়া, যেখানে ভেতরের অনুভূতি আর বাহ্যিক প্রকাশ এক হয় না। একে বলা হয় দ্বিমুখী আবেগপ্রকাশ।
ইয়েল বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের মতে, এই প্রবণতা সব বয়স ও সংস্কৃতির মানুষের মধ্যেই দেখা যায়।
এটা কি ক্ষতিকর?
গবেষকরা বলছেন, কিউট অ্যাগ্রেশন আসলে ক্ষতিকর নয়। বরং এটি অতিরিক্ত ইতিবাচক আবেগ সামলানোর একটি স্বাভাবিক উপায়।
তবে সমস্যা হতে পারে যদি কেউ নিজের আবেগ নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয় এবং আচরণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
সবাই কি এই অনুভূতি পায়?
প্রায় অর্ধেক থেকে ৬০ শতাংশ মানুষ এই ধরনের অনুভূতি অনুভব করেন। তবে যারা অনুভব করেন না, তাদের মধ্যে কোনো সমস্যা নেই বলেই মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আদুরে কিছু দেখলে এমন প্রতিক্রিয়া আসা মানবমস্তিষ্কেরই একটি স্বাভাবিক ও জটিল আবেগপ্রক্রিয়ার অংশ।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



