ফুচকা, চটপটি বা মুড়ি বাঙালির খাবারে ঝালের উপস্থিতি যেন অবিচ্ছেদ্য অংশ। ঝাল না হলে অনেকের কাছেই খাবারের স্বাদই যেন অসম্পূর্ণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এই ঝাল শরীরের জন্য আসলে ভালো, নাকি ক্ষতিকর?
গবেষকরা বলছেন, সঠিক পরিমাণে ঝাল খাবার শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। মরিচে থাকা ক্যাপসাইসিন নামের উপাদান হজম প্রক্রিয়া উন্নত করে। যা পাকস্থলীতে হজমরসের নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে খাবার দ্রুত হজম হয়।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত ঝাল খাবার খাওয়ার সঙ্গে কিছু গুরুতর রোগের ঝুঁকি কমার সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যানসার এবং শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে। সপ্তাহে কয়েকদিন ঝাল খাবার গ্রহণকারীদের ক্ষেত্রে মৃত্যুঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কম থাকার কথাও উঠে এসেছে গবেষণায়।
হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে
ঝাল খাবারের ক্যাপসাইসিন রক্তে খারাপ কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধেও ভূমিকা রাখে। যা হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হতে পারে।
ক্যানসারের বিরুদ্ধে সহায়ক ভূমিকা
প্রাথমিক গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যাপসাইসিন কিছু ক্যানসার কোষের বৃদ্ধি ধীর করতে পারে এবং কোষ ধ্বংসেও সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে প্রোস্টেট ক্যানসারের ক্ষেত্রে এ নিয়ে গবেষণা চলছে।
ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
ঝাল খাবার বিপাকক্রিয়া বাড়াতে সাহায্য করে এবং ক্ষুধা কিছুটা কমাতে পারে। ফলে ওজন নিয়ন্ত্রণে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি ইনসুলিন নিয়ন্ত্রণেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
প্রদাহ ও ব্যথা কমায়
ক্যাপসাইসিন শরীরের প্রদাহ কমাতে সাহায্য করে এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে সুরক্ষা দিতে পারে। এটি শরীরে প্রাকৃতিক ব্যথা উপশমকারী উপাদান এন্ডোরফিন নিঃসরণে সহায়তা করে। যা ব্যথা কমানোর পাশাপাশি মানসিক প্রশান্তিও দিতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝাল যতই উপকারী হোক না কেন অতিরিক্ত গ্রহণ শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তাই পরিমাণমতো ঝাল খাওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর উপায়।
আরটিভি/জেএমএ




