নতুন সম্পর্ক শুরু হলে সবকিছুই যেন স্বপ্নের মতো লাগে। প্রিয় মানুষটির প্রতিটি কথা ভালো লাগে। ছোট ভুলও মনে হয় মিষ্টি অভ্যাস। অনেকেই কয়েক মাসের মধ্যেই ভাবতে শুরু করেন, এই মানুষটিকেই হয়তো সারাজীবনের জন্য চাই। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখানেই একটু থামা জরুরি।
গবেষণা বলছে, সম্পর্কের শুরুতে আমাদের মস্তিষ্কে কিছু রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে। যার কারণে আবেগ অনেক বেশি কাজ করে। এ সময় মানুষ সঙ্গীর খুঁতগুলো ঠিকভাবে বুঝতে পারেন না। তাই এই সময়টাকে বলা হয় হানিমুন পর্যায়। যা সাধারণত তিন মাস থেকে এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই সময়ের মধ্যেই বিয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ। কারণ তখন আবেগ বেশি থাকে। কিন্তু বাস্তব চিন্তা কম কাজ করে। তাই অনেক বিশেষজ্ঞ পরামর্শ দেন, বিয়ের প্রস্তাব দেওয়ার আগে অন্তত এক বছর সময় নেওয়া উচিত।
পরিসংখ্যানও একই কথা বলছে। বেশিরভাগ দম্পতি বিয়ের আগে দুই থেকে পাঁচ বছর সময় নেন। যারা খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, তাদের তুলনায় যারা এক থেকে দুই বছর অপেক্ষা করেন, তাদের বিচ্ছেদের ঝুঁকি কমে যায়। আর তিন বছর বা তার বেশি সময় নিলে এই ঝুঁকি আরও কমে।
তবে শুধু সময়ই সব নয়। সম্পর্ক কতটা গভীর এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা কেমন, এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু বিষয় যাচাই করা জরুরি। যেমন—দুজন কি কখনো বড় কোনো সমস্যা একসঙ্গে সামলেছেন? ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়েছে কি? কঠিন সময়ে সঙ্গীর আচরণ কেমন, তা কি জানা আছে?
এছাড়া বয়স ও জীবনের পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। কম বয়সে সম্পর্ক হলে সিদ্ধান্ত নিতে সময় বেশি লাগা স্বাভাবিক। কারণ তখন ক্যারিয়ার ও ভবিষ্যৎ গড়ার সময় থাকে। আর একটু বেশি বয়সে সম্পর্ক শুরু হলে তুলনামূলক কম সময়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া যেতে পারে।
তাই বিয়ের জন্য সঠিক সময় কোনো নির্দিষ্ট দিন নয়। এটি তখনই আসে, যখন সম্পর্কটি পরিণত, স্থিতিশীল এবং দুজন মানুষই ভবিষ্যৎ নিয়ে একমত হন।
আরটিভি/জেএমএ




