গরমকাল এলেই চারদিকে নানা ধরনের ফুল ফোটে, রোদের তাপ বাড়তে থাকে এবং হঠাৎ বৃষ্টিও দেখা দেয়। কিন্তু এই সুন্দর মৌসুম অনেকের জন্য নিয়ে আসে কষ্টের সময়। নাক বন্ধ হয়ে যাওয়া, চোখ চুলকানো আর লাগাতার হাঁচি-কাশির যন্ত্রণা। বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ এই মৌসুমি অ্যালার্জিতে ভোগেন, যাকে সাধারণভাবে বলা হয় হে ফিভার।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সমস্যা আরও বাড়ছে এবং অনেকের ক্ষেত্রে লক্ষণও আগের চেয়ে তীব্র হচ্ছে। তবে সঠিক পদ্ধতি জানলে এই ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রথমেই যে বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো সঠিক ওষুধ নির্বাচন। নাকের স্প্রে সাধারণত ট্যাবলেট ওষুধের চেয়ে বেশি কার্যকর। কারণ এটি সরাসরি নাকের ভেতরে কাজ করে। বিশেষ করে এমন স্প্রে, যেখানে দুই ধরনের উপাদান একসঙ্গে থাকে। এটি সবচেয়ে বেশি উপকার দেয়।
অন্যদিকে কিছু নাকের স্প্রে আছে যা সাময়িক আরাম দিলেও দীর্ঘ সময় ব্যবহার করলে সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া এসব ব্যবহার না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
যারা বড়ি ওষুধ খান, তাদের ক্ষেত্রে নতুন ধরনের ওষুধ বেছে নেওয়া ভালো। কারণ এগুলো কম ঘুম ঘুম ভাব আনে এবং বেশি কার্যকর হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, চিকিৎসা শুরু করার সঠিক সময় হলো উপসর্গ দেখা দেওয়ার আগেই। আগে থেকেই প্রস্তুতি নিলে অ্যালার্জির প্রভাব অনেক কম হয়।
শুধু ওষুধ নয়, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করাও খুব জরুরি। নাকের স্প্রে বা চোখের ড্রপ অনেকেই ভুলভাবে ব্যবহার করেন। ফলে ওষুধ ঠিকমতো কাজ করে না। সঠিক পদ্ধতিতে ব্যবহার করলে এটি বেশি কার্যকর হয়।
এছাড়া প্রতিরোধমূলক কিছু অভ্যাসও গুরুত্বপূর্ণ। যেমন—বাইরের পরিবেশে গেলে চোখে চশমা বা মুখে মাস্ক ব্যবহার করা, ঘরের জানালা বন্ধ রাখা এবং বাইরে থেকে ফিরে ভালোভাবে গোসল করা। এতে ধুলা ও ময়লা-কণা শরীরে আটকে থাকে না।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, অনেকেই হে ফিভারকে সাধারণ সমস্যা ভেবে উপেক্ষা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন চলতে থাকলে এটি ঘুম, শ্বাস-প্রশ্বাস এমনকি শিশুদের পড়াশোনাতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তাই চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—লক্ষণ অবহেলা না করে সঠিক চিকিৎসা, সঠিক অভ্যাস এবং সময়মতো ব্যবস্থা নিলে এই মৌসুমি অ্যালার্জি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সূত্র: বিবিসি
আরটিভি/জেএমএ



