আজ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে শোকাহত মায়েদের দিন। যা আন্তর্জাতিক শোকাহত মা দিবস হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর মে মাসের প্রথম রবিবার এই দিনটি পালন করা হয়। এ বছর দিনটি পড়েছে ৩ মে।
এই দিনটি তাদের জন্য, যারা সন্তানের মৃত্যু, গর্ভপাত, মৃত সন্তান জন্ম বা অন্য কোনো কারণে সন্তান হারিয়েছেন। একই সঙ্গে তাদেরও সম্মান জানানো হয়, যারা নানা কারণে মা হতে পারেননি, কিন্তু মাতৃত্বের অনুভূতি বহন করছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সন্তানের মৃত্যু একজন মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় আঘাতগুলোর একটি। একজন মা শুধু সন্তানকেই হারান না, হারান তার স্বপ্ন, আশা আর ভবিষ্যতের সব পরিকল্পনা। এই কষ্ট অনেক সময় বছরের পর বছর ধরে থেকে যায়।
অনেক মায়ের জন্য সাধারণ ‘মা দিবস’ আনন্দের বদলে কষ্টের হয়ে ওঠে। তাই এই দিনটি তাদের জন্য আলাদা করে তৈরি করা হয়েছে, যাতে তারা নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে পারেন এবং অন্যদের সঙ্গে সংযুক্ত হতে পারেন।
এই দিনে অনেকেই মোমবাতি জ্বালান, সন্তানের স্মৃতিতে ফুল দেন বা চিঠি লেখেন। কেউ কেউ একই অভিজ্ঞতার মানুষদের সঙ্গে কথা বলে মন হালকা করেন। বিশেষ কিছু আয়োজনের মাধ্যমে তাদের পাশে থাকার চেষ্টা করা হয়।
মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, এমন মায়েদের পাশে থাকা খুব জরুরি। ছোট ছোট সহানুভূতি—একটি কথা, একটি আলিঙ্গন। তাদের কষ্ট কিছুটা হলেও কমাতে পারে।
২০১০ সালে অস্ট্রেলিয়ার কার্লি মেরি ডাডলি তার মৃত সন্তানকে স্মরণ করে এই দিনের সূচনা করেন। এরপর ধীরে ধীরে এটি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে।
এই দিনটি মনে করিয়ে দেয়—সন্তান কোলে না থাকলেও, একজন মা তার সন্তানকে সারাজীবন হৃদয়ে ধারণ করে বেঁচে থাকেন।
আরটিভি/জেএমএ




