গরমে স্বস্তি পেতে এসির ঠান্ডা বাতাসে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন? কিন্তু চিকিৎসকদের সতর্কবার্তা বলছে, এই আরামই হতে পারে শরীরের জন্য বড় বিপদ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই গরমের দিনে খুব কম তাপমাত্রায় এসি চালিয়ে দীর্ঘ সময় কাটান। এতে সাময়িক আরাম মিললেও শরীরে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে গলা ব্যথা, শুকনো কাশি এবং শ্বাসতন্ত্রে অস্বস্তি খুব সাধারণ হয়ে উঠছে।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসির ঠান্ডা বাতাসে দীর্ঘ সময় থাকলে গলা শুকিয়ে যাওয়া, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া এমনকি টনসিলের মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে। অনেকের ক্ষেত্রে এটি সাধারণ সর্দি-কাশি মনে হলেও, আসলে এর পেছনে থাকে ঠান্ডা বাতাসের প্রভাব।
বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, এসির শুষ্ক বাতাস ফুসফুসেও প্রভাব ফেলতে পারে। যাদের আগে থেকেই ঠান্ডা লাগার প্রবণতা আছে, তাদের ক্ষেত্রে হাঁপানি বা অ্যালার্জির ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসি ঘরের বাতাস থেকে আর্দ্রতা কমিয়ে দেয়। ফলে বাতাস অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। এই শুষ্ক পরিবেশই গলা ও শ্বাসতন্ত্রে জ্বালা বা অস্বস্তি তৈরি করে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, খুব কম তাপমাত্রায় এসি না চালিয়ে মাঝামাঝি তাপমাত্রায় ব্যবহার করা উচিত। সাধারণত মাঝারি তাপমাত্রা শরীরের জন্য বেশি নিরাপদ বলে মনে করা হয়।
এছাড়া এসির ফিল্টার নিয়মিত পরিষ্কার না করলে সেখানে ধুলোবালি, ছত্রাক ও জীবাণু জমতে পারে। যা বাতাসের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে আরও সমস্যা তৈরি করতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, অনেকেই এসির কারণে হওয়া সমস্যা সাধারণ সর্দি ভেবে অবহেলা করেন। কিন্তু দীর্ঘদিন এমন চলতে থাকলে শ্বাসযন্ত্রে জটিলতা তৈরি হতে পারে।
তাই এসি ব্যবহার আরামদায়ক হলেও সঠিক নিয়ম না মানলে তা শরীরের জন্য হয়ে উঠতে পারে নীরব বিপদের কারণ।
আরটিভি/জেএমএ



