রোদে বের হওয়ার আগে সানস্ক্রিন ব্যবহার করছেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশিরভাগ মানুষই এটি ঠিকভাবে ব্যবহার করেন না। ফলে সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বক পুরোপুরি সুরক্ষা পায় না।
সূর্য থেকে আসা অতিবেগুনি রশ্মি মূলত দুই ধরনের, একটি ত্বকের গভীরে প্রবেশ করে বয়সের ছাপ বাড়ায়। আর অন্যটি ত্বক পুড়িয়ে ফেলে এবং ক্যানসারের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। সামান্য পরিমাণে এই রশ্মি শরীরে ভিটামিন তৈরিতে সাহায্য করলেও অতিরিক্ত সংস্পর্শ ক্ষতিকর।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দিনের সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ সময় হলো সকাল শেষ থেকে দুপুর পর্যন্ত। যখন সূর্যের তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকে।
সানস্ক্রিনে থাকা সুরক্ষার মাত্রা বোঝাতে একটি সংখ্যা লেখা থাকে। সংখ্যা যত বেশি, সুরক্ষা তত বেশি। চিকিৎসকদের মতে, অন্তত মাঝারি বা তার বেশি সুরক্ষা যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার করা উচিত।
এছাড়া আরেকটি বিষয় হলো সুরক্ষার তারকা চিহ্ন। এটি ত্বককে আরেক ধরনের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে রক্ষা করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বেশি তারকা থাকলে সুরক্ষা বেশি ভালো হয়।
কিন্তু শুধু সানস্ক্রিন ব্যবহার করলেই যথেষ্ট নয়। সঠিক পরিমাণে ব্যবহার করাও জরুরি। একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের পুরো শরীরে সাধারণত কয়েক চামচ পরিমাণ সানস্ক্রিন প্রয়োজন হয়।
এটি শুধু মুখে নয়, গলা, কান, হাত-পা এমনকি চুল কমে গেলে মাথার ত্বকেও লাগাতে হয়। রোদে বের হওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে এটি ব্যবহার করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, ঘাম, পানি বা তোয়ালে দিয়ে মুছে গেলে সানস্ক্রিনের কার্যকারিতা কমে যায়। তাই প্রতি কিছু সময় পর পর আবার ব্যবহার করতে হবে।
শিশুদের ক্ষেত্রে সতর্কতা আরও বেশি জরুরি। ছয় মাসের কম বয়সী শিশুদের রোদে না নেওয়াই ভালো। বড় শিশুদের জন্য বেশি সুরক্ষা যুক্ত সানস্ক্রিন ব্যবহার এবং টুপি ও রোদচশমা পরানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
চিকিৎসকদের মতে, সানস্ক্রিন ঠিকভাবে ব্যবহার না করলে রোদে ত্বক দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বড় সমস্যা তৈরি হতে পারে।
তাই রোদ থেকে সুরক্ষা পেতে সঠিক নিয়মে সানস্ক্রিন ব্যবহারই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।
আরটিভি/জেএমএ




