সূর্যের আলো পাওয়া, নিয়মিত সাপ্লিমেন্ট খাওয়া—সবকিছু করার পরেও অনেকের শরীরে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি থেকেই যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি এখন সাধারণ একটি স্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত হয়েছে। এক সমীক্ষা অনুযায়ী, জনসংখ্যার বড় একটি অংশই এই ঘাটতিতে ভুগছে, যা অনেক সময় টেরই পাওয়া যায় না।
অন্ত্রের সমস্যায় বাধা পায় শোষণ
ভিটামিন ডি শরীরে কার্যকর হতে হলে ঠিকভাবে হজম ও শোষিত হতে হয়। কিন্তু অন্ত্রের কিছু রোগ যেমন সিলিয়াক রোগ, ক্রোন রোগ বা দীর্ঘমেয়াদি হজমের সমস্যা থাকলে এই ভিটামিন ঠিকভাবে শোষিত হয় না। ফলে ভালো খাবার খেলেও শরীরে এর ঘাটতি থেকেই যায়।
কিছু ওষুধও হতে পারে দায়ী
কিছু নির্দিষ্ট ওষুধ দীর্ঘদিন ব্যবহার করলে ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কমে যেতে পারে। বিশেষ করে হাঁপানি, বাত বা খিঁচুনির ওষুধ, এমনকি ওজন কমানোর কিছু ওষুধ শরীরে এই ভিটামিনের কার্যকারিতা বাধাগ্রস্ত করে।
অতিরিক্ত শরীরের মেদেও সমস্যা বাড়ে
শরীরে অতিরিক্ত চর্বি থাকলে ভিটামিন ডি শরীরে আটকে যায় এবং রক্তে প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছাতে পারে না। ফলে স্থূল মানুষের ক্ষেত্রে একই মাত্রা বজায় রাখতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ভিটামিন ডি-এর প্রয়োজন হয়।
লিভার ও কিডনির দুর্বলতাও বড় কারণ
ভিটামিন ডি প্রথমে ত্বকে তৈরি হয়, পরে লিভার ও কিডনির মাধ্যমে সক্রিয় হয়। কিন্তু এই দুটি অঙ্গের সমস্যা থাকলে ভিটামিন ডি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। ফ্যাটি লিভার, কিডনির রোগ বা বয়সজনিত দুর্বলতাও এই ঘাটতির পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
শুধু রোদে থাকা বা সাপ্লিমেন্ট বা ওষুধ খেলেই সবসময় ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি পূরণ হয় না। শরীরের ভেতরের নানা সমস্যা, ওষুধ এবং জীবনযাপন এই ঘাটতির পেছনে বড় ভূমিকা রাখে। তাই সমস্যাটি দীর্ঘদিন চললে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/জেএমএ




