বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ কোমর ও পিঠ ব্যথায় ভোগেন। ঘুম থেকে ওঠার পর শরীর অনেক সময় শক্ত ও টানটান লাগে। বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় শুয়ে থাকার কারণে মেরুদণ্ডের চারপাশে তরল ভারসাম্য বদলে যায়। ফলে সকালে প্রথম নড়াচড়ায় ব্যথা বা শক্তভাব বেশি অনুভূত হয়।
ভুলভাবে দিনের শুরু বাড়ায় ব্যথা
ঘুম থেকে উঠে দ্রুত ঝুঁকে কাজ করা, মোবাইল বা অন্যান্য কাজে দীর্ঘক্ষণ সামনে ঝুঁকে থাকা—এসব অভ্যাস শরীরের মেরুদণ্ডে অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে। এতে পিঠের পেশি আরও টানটান হয়ে যায় এবং ব্যথা বাড়তে পারে।
মাত্র ৮ মিনিটের নিয়মিত ব্যায়ামই হতে পারে সমাধান
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সকালে মাত্র ৮ মিনিটের ধীর ও নিয়ন্ত্রিত শরীরচর্চা পিঠের ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। এটি কোনো কঠিন ব্যায়াম নয়, বরং ধীরে ধীরে শরীরকে নড়াচড়ার উপযোগী করে তোলার একটি সহজ রুটিন।
শ্বাস-প্রশ্বাস ও হালকা নড়াচড়ার ভূমিকা
প্রথম ধাপে ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়ার মাধ্যমে শরীরকে শিথিল করা হয়। এরপর কোমর ও পেটের পেশিকে ধীরে ধীরে সক্রিয় করা হয়। এই ধাপে শরীরের ভেতরের টান কমে এবং মেরুদণ্ড ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসে।
পায়ের পেশি ও কোমরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা
হালকা স্ট্রেচিংয়ের (শরীরের পেশিগুলোকে ধীরে ধীরে টেনে লম্বা করার ব্যায়াম। যেমন—হাত উপরে তোলা, পা সোজা করে ধীরে টান দেওয়া, বা শরীর এক পাশে বাঁকানো।) মাধ্যমে পায়ের পেছনের পেশি ও কোমরের সংযোগস্থলের চাপ কমানো হয়। এতে শরীরের ভারসাম্য উন্নত হয় এবং হাঁটা-চলায় স্বস্তি আসে।
কোমর ও নিতম্বের পেশি শক্ত করা
হালকা ব্রিজিং (মেঝেতে শুয়ে হাঁটু ভাঁজ করে পা মাটিতে রাখেন, তারপর কোমর ধীরে ধীরে ওপরের দিকে তুলেন) ধরনের নড়াচড়ার মাধ্যমে নিতম্বের পেশি সক্রিয় করা হয়, যা মেরুদণ্ডকে সাপোর্ট দেয়। একই সঙ্গে কোমরের সামনের দিকের টান কমাতে সাহায্য করে।
ওপরের পিঠের নড়াচড়া ব্যথা কমায়
পাশ ফিরে ধীরে ধীরে শরীর ঘোরানোর মতো হালকা ব্যায়াম উপরের পিঠের শক্তভাব কমায়। এতে মেরুদণ্ড আরও নমনীয় হয় এবং চাপ কমে যায়।
প্রতিদিনের ছোট অভ্যাসেই বড় পরিবর্তন
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘমেয়াদি পিঠব্যথা কমাতে বড় কোনো ব্যায়াম নয়, বরং প্রতিদিন সকালে অল্প সময়ের নিয়মিত অভ্যাসই সবচেয়ে কার্যকর। দিনের শুরু সঠিকভাবে করলে সারাদিন শরীর থাকে বেশি সক্রিয় ও ব্যথামুক্ত।
সূত্র: সিএনএন
আরটিভি/জেএমএ




