ভালোবাসার মানুষ দূরে চলে গেলে শুধু মনই খারাপ হয় না, তার প্রভাব পড়ে শরীর ও মস্তিষ্কেও। বুকের ভেতর চাপ লাগা, ঘুম না হওয়া, খাওয়ায় অরুচি কিংবা সবসময় অস্থির লাগা—এসবই হতে পারে ভালোবাসা হারানোর কষ্টের লক্ষণ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই কষ্ট শুধু আবেগের নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মানুষের মস্তিষ্ক ও শরীরের গভীর সম্পর্ক। আন্তর্জাতিক সংবাদসংস্থা সিএনএনের এক প্রতিবেদনে এমনটাই জানা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনে কোনো না কোনো সময়ে বেশিরভাগ মানুষই ভালোবাসা হারানোর যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যান। প্রেম ভাঙা ছাড়াও প্রিয় বন্ধুর দূরে চলে যাওয়া কিংবা কাছের মানুষের মৃত্যু থেকেও এই কষ্ট তৈরি হতে পারে।
একজন চিকিৎসক ও মস্তিষ্কবিজ্ঞানী সিএনএনকে বলেন, ভালোবাসা হারানোর ব্যথা অনেক সময় শারীরিক আঘাতের চেয়েও বেশি কষ্ট দেয়। কারণ মানুষের মস্তিষ্ক মানসিক কষ্ট আর শারীরিক ব্যথাকে প্রায় একইভাবে অনুভব করে। তাই সম্পর্ক ভাঙার পর বুক ভার লাগা বা শ্বাস আটকে আসার অনুভূতি একেবারেই স্বাভাবিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালোবাসার সম্পর্ক মানুষের জীবনে গভীর বন্ধন তৈরি করে। সেই বন্ধন ভেঙে গেলে মস্তিষ্ক সেটিকে বিপদের সংকেত হিসেবে নেয়। ফলে দুঃখ, ভয়, একাকিত্ব এমনকি হতাশাও তৈরি হতে পারে।
তবে এই কষ্ট থেকে বেরিয়ে আসার পথও আছে। চিকিৎসকদের মতে, নিজেকে একা না রেখে কাছের মানুষদের সঙ্গে সময় কাটানো সবচেয়ে বেশি সাহায্য করে। বন্ধু বা পরিবারের সঙ্গে কথা বলা, বাইরে ঘুরতে যাওয়া কিংবা প্রিয় কাজের মধ্যে নিজেকে ব্যস্ত রাখা মানসিক যন্ত্রণা কমাতে সাহায্য করে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, শরীরচর্চাও মন ভালো রাখতে কার্যকর ভূমিকা রাখে। কারণ হাঁটাহাঁটি বা ব্যায়ামের সময় শরীরে এমন কিছু উপাদান তৈরি হয়, যা মানসিক চাপ ও কষ্ট কমাতে সাহায্য করে।
অনেকেই সম্পর্ক ভাঙার পর নিজেকে গুটিয়ে নেন। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, সেটিই সবচেয়ে বড় ভুল। বরং এই সময়ে প্রিয়জনদের পাশে থাকা এবং নতুনভাবে জীবনকে গ্রহণ করার চেষ্টা করা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের ভাষায়, ভালোবাসা মানুষকে যেমন সুখ দেয়, তেমনি কষ্টও দেয়। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই কষ্ট কমে যায়। কারণ মানুষের মন ভাঙে ঠিকই, কিন্তু আবার ধীরে ধীরে জোড়াও লাগে।
আরটিভি/জেএমএ



