গ্রামীণ বাংলাদেশে মটমটিয়া গাছ অত্যন্ত পরিচিত একটি ভেষজ উদ্ভিদ। অনেক জায়গায় এটি বন মরিচ বা জংলি মরিচ নামেও পরিচিত। এর বৈজ্ঞানিক নাম হলো Croton bonplandianus।
এই গাছটির বৈশিষ্ট্য এবং ভেষজ গুণাবলি নিচে বিস্তারিত দেওয়া হলো:
উদ্ভিদের পরিচিতি ও বৈশিষ্ট্য
আকার: এটি সাধারণত ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত উঁচু হয় এবং ঝোপালো প্রকৃতির হয়ে থাকে।
পাতা: পাতাগুলো দেখতে অনেকটা মরিচ পাতার মতো ল্যান্স আকৃতির, যার কিনারা হালকা খাঁজকাটা থাকে।
কান্ড: এর কান্ড ছিঁড়লে বা ভাঙলে সাদা দুধের মতো কষ বা আঠা বের হয়।
ফুল ও ফল: ডগার দিকে লম্বা মঞ্জুরিতে সাদাটে ছোট ছোট ফুল এবং তিন কোণাকার সবুজ ফল হয়।
প্রধান ভেষজ গুণাবলি
এটি কৃমি এবং পেট ব্যথায় ব্যবহৃত হয়। এছাড়া এর আরও কিছু চমৎকার গুণ রয়েছে।
কৃমিনাশক: গ্রামবাংলায় ছোট বাচ্চাদের কৃমির উপদ্রব কমাতে এই গাছের পাতার রস দারুণ কাজ করে।
পেট ব্যথা ও হজম: পেট ফাঁপা বা হজমের সমস্যার চিকিৎসায় এই পাতার রস মধু বা অল্প লবণ দিয়ে খাওয়ার প্রচলন আছে।
চর্মরোগ সারাতে: দাঁদ, চুলকানি বা একজিমার মতো চর্মরোগে এই গাছের পাতার রস বা পেস্ট মাখলে দ্রুত উপশম পাওয়া যায়।
রক্তপাত বন্ধে: হঠাৎ হাত-পা কেটে গেলে মটমটিয়া পাতার রস বা এর ডগা থেকে বের হওয়া কষ লাগালে খুব দ্রুত রক্তপাত বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্ষতস্থান শুকায়।
কাশি ও শ্বাসকষ্ট: হালকা সর্দি-কাশিতেও অনেক সময় এর রস ব্যবহার করা হয়।
সতর্কতা
মটমটিয়া একটি ঔষধি গাছ হলেও এর কষ বা আঠা চোখে গেলে জ্বালাপোড়া করতে পারে। এছাড়া যেকোনো ভেষজ ওষুধ সরাসরি সেবনের আগে সঠিক মাত্রা জেনে নেওয়া অথবা অভিজ্ঞ কবিরাজ বা চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
আরটিভি/এসকে




