ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

শরীরের ব্যথার আসল কারণ কী পেশি সমস্যা? 

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৩ মে ২০২৬, ১০:২২ এএম
ছবি: সংগৃহীত

অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারপরও শরীরে বারবার ব্যথা, টান বা শক্তভাব অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ শুধু ব্যায়ামের অভাব নয়—বরং শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া ভুল পেশি কাজের ধরন।

আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ভুল ভঙ্গি, একই ধরনের কাজ বারবার করা। এসব কারণে শরীরের কিছু পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অন্য পেশিগুলো বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই বলা যায় শরীরের ক্ষতিপূরণমূলক কাজের ধরন।

সমস্যা হলো, শুরুতে এই পরিবর্তন শরীরকে চলতে সাহায্য করলেও সময়ের সঙ্গে তা ব্যথা ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

কোথা থেকে শুরু হয় সমস্যা

শরীর এক ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা। এক অংশ দুর্বল হলে অন্য অংশ তার কাজ টেনে নেয়। যেমন—দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কোমর ও পেটের গভীর পেশি দুর্বল হয়ে যায়। আর নিতম্ব ও পায়ের পেশি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তখন হাঁটা, বসা বা ব্যায়ামের সময় কোমর ও পেছনের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।

একইভাবে, মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় কাটালে বুক ও ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। ফলে হাত তোলা বা ভারী কিছু ধরার সময় ঘাড় ও কাঁধের পেশি অস্বাভাবিকভাবে বেশি কাজ করতে বাধ্য হয়।

আরও পড়ুন

শরীর কীভাবে ইঙ্গিত দেয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় শরীর এই ভুল কাজের ধরনে চলে গেছে—

  • ব্যায়ামের সময় কোমর বা পেছনের পেশিতে বেশি চাপ অনুভব হওয়া
  • হাত তুললে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
  • শরীরের এক পাশ বেশি ব্যবহার হওয়া
  • নির্দিষ্ট পেশিতে বারবার ব্যথা বা ক্লান্তি

কীভাবে সমস্যা কমানো যায়

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো জটিল ব্যায়াম নয়—বরং ধীরে এবং সচেতনভাবে চলাফেরা করাই মূল সমাধান।

প্রথমত: ধীরে ধীরে ব্যায়াম করা জরুরি। এতে কোন পেশি কাজ করছে তা বোঝা যায় এবং ভুল কাজ কমে।

দ্বিতীয়ত: শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখা দরকার। বুক নয়, পেট ও পাঁজরের পাশ দিয়ে শ্বাস নিলে শরীরের গভীর পেশি সক্রিয় হয়।

তৃতীয়ত: শরীরের শক্ত জায়গাগুলো শিথিল করা জরুরি, বিশেষ করে কোমর, নিতম্ব ও পিঠের পেশি।

শরীরের ব্যথা সবসময় আঘাতের কারণে হয় না। অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের ভুল কাজের ফল। সঠিকভাবে নড়াচড়া, শ্বাস নেওয়া এবং পেশির ভারসাম্য ঠিক রাখলে এই ব্যথা অনেকটাই কমে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার পেছনে না ছুটে শরীর কীভাবে কাজ করছে—সেটা বোঝাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।

সূত্র: সিএনএন


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
ঘন ঘন পায়ে ঝিঁঝিঁ ধরছে? খেতে পারেন এই ৪ শুকনো ফল