অনেকেই নিয়মিত ব্যায়াম করেন, তারপরও শরীরে বারবার ব্যথা, টান বা শক্তভাব অনুভব করেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, এর কারণ শুধু ব্যায়ামের অভাব নয়—বরং শরীরের ভেতরে তৈরি হওয়া ভুল পেশি কাজের ধরন।
আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা—দীর্ঘ সময় বসে থাকা, ভুল ভঙ্গি, একই ধরনের কাজ বারবার করা। এসব কারণে শরীরের কিছু পেশি দুর্বল হয়ে পড়ে। তখন অন্য পেশিগুলো বাধ্য হয়ে অতিরিক্ত কাজ করতে শুরু করে। এই অবস্থাকেই বলা যায় শরীরের ক্ষতিপূরণমূলক কাজের ধরন।
সমস্যা হলো, শুরুতে এই পরিবর্তন শরীরকে চলতে সাহায্য করলেও সময়ের সঙ্গে তা ব্যথা ও অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
কোথা থেকে শুরু হয় সমস্যা
শরীর এক ধরনের সমন্বিত ব্যবস্থা। এক অংশ দুর্বল হলে অন্য অংশ তার কাজ টেনে নেয়। যেমন—দীর্ঘ সময় বসে থাকলে কোমর ও পেটের গভীর পেশি দুর্বল হয়ে যায়। আর নিতম্ব ও পায়ের পেশি ঠিকভাবে কাজ করতে পারে না। তখন হাঁটা, বসা বা ব্যায়ামের সময় কোমর ও পেছনের পেশিতে অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
একইভাবে, মোবাইল বা কম্পিউটারের সামনে বেশি সময় কাটালে বুক ও ঘাড় শক্ত হয়ে যায়। ফলে হাত তোলা বা ভারী কিছু ধরার সময় ঘাড় ও কাঁধের পেশি অস্বাভাবিকভাবে বেশি কাজ করতে বাধ্য হয়।
শরীর কীভাবে ইঙ্গিত দেয়
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু লক্ষণ দেখে বোঝা যায় শরীর এই ভুল কাজের ধরনে চলে গেছে—
- ব্যায়ামের সময় কোমর বা পেছনের পেশিতে বেশি চাপ অনুভব হওয়া
- হাত তুললে ঘাড় শক্ত হয়ে যাওয়া
- শরীরের এক পাশ বেশি ব্যবহার হওয়া
- নির্দিষ্ট পেশিতে বারবার ব্যথা বা ক্লান্তি
কীভাবে সমস্যা কমানো যায়
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় কোনো জটিল ব্যায়াম নয়—বরং ধীরে এবং সচেতনভাবে চলাফেরা করাই মূল সমাধান।
প্রথমত: ধীরে ধীরে ব্যায়াম করা জরুরি। এতে কোন পেশি কাজ করছে তা বোঝা যায় এবং ভুল কাজ কমে।
দ্বিতীয়ত: শ্বাস-প্রশ্বাস ঠিক রাখা দরকার। বুক নয়, পেট ও পাঁজরের পাশ দিয়ে শ্বাস নিলে শরীরের গভীর পেশি সক্রিয় হয়।
তৃতীয়ত: শরীরের শক্ত জায়গাগুলো শিথিল করা জরুরি, বিশেষ করে কোমর, নিতম্ব ও পিঠের পেশি।
শরীরের ব্যথা সবসময় আঘাতের কারণে হয় না। অনেক সময় এটি শরীরের ভেতরের ভুল কাজের ফল। সঠিকভাবে নড়াচড়া, শ্বাস নেওয়া এবং পেশির ভারসাম্য ঠিক রাখলে এই ব্যথা অনেকটাই কমে যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যথার পেছনে না ছুটে শরীর কীভাবে কাজ করছে—সেটা বোঝাই দীর্ঘমেয়াদি সুস্থতার আসল চাবিকাঠি।
সূত্র: সিএনএন
আরটিভি/জেএমএ



