ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

নারীরা কেন পুরুষদের চেয়ে বেশি বাঁচে

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৫ মে ২০২৬, ০২:৪৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বজুড়ে দেখা যায়, নারীরা গড়ে পুরুষদের তুলনায় বেশি বছর বাঁচেন। আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) এর ২০১৬ সালের তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে মানুষের গড় আয়ু ছিল প্রায় ৭২ বছর। তবে নারী ও পুরুষের আলাদা পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নারীদের গড় আয়ু প্রায় ৭৪ বছর দুই মাস, যেখানে পুরুষদের গড় আয়ু প্রায় ৬৯ বছর আট মাস। অর্থাৎ গড়ে নারীরা পুরুষদের তুলনায় কয়েক বছর বেশি বাঁচেন। একই সঙ্গে শতবর্ষী মানুষের মধ্যেও নারীদের সংখ্যাই তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

জিনগত কারণেই কি এই পার্থক্য?

বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের জিনগত গঠন এই পার্থক্যের একটি বড় কারণ। নারীদের শরীরে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে, যেখানে পুরুষদের থাকে একটি এক্স ও একটি ওয়াই ক্রোমোজোম। ফলে নারীদের শরীরে জিনগত ত্রুটি হলে অন্য ক্রোমোজোমটি তা অনেক সময় সামলে নেয়। কিন্তু পুরুষদের ক্ষেত্রে সেই ব্যাকআপ থাকে না।

ভ্রূণ অবস্থাতেই শুরু হয় পার্থক্য

গবেষণায় দেখা গেছে, পুরুষ ভ্রূণের মৃত্যুহার তুলনামূলক বেশি। জন্মের সময়ও ছেলে শিশুদের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকে—বড় আকার, জটিল প্রসব এবং অন্যান্য শারীরিক কারণে।

হরমোনের প্রভাব

পুরুষদের শরীরে টেস্টোস্টেরন হরমোন বেশি থাকে। যা শক্তি ও ঝুঁকিপূর্ণ আচরণের সঙ্গে যুক্ত। এর কারণে অনেক সময় তারা দ্রুতগামী জীবনযাপন, ঝুঁকিপূর্ণ কাজ বা দুর্ঘটনায় বেশি আক্রান্ত হন।

অন্যদিকে নারীদের শরীরে থাকা ইস্ট্রোজেন হৃদযন্ত্র রক্ষা করে এবং ক্ষতিকর উপাদানের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে বলে গবেষণায় জানা যায়।

আরও পড়ুন

জীবনযাপনও বড় কারণ

ধূমপান, মদ্যপান, অতিরিক্ত ঝুঁকিপূর্ণ কাজ ও অনিয়মিত জীবনযাপন পুরুষদের আয়ু কমাতে বড় ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে কিছু দেশে পুরুষদের মধ্যে এসব অভ্যাস বেশি হওয়ায় তাদের গড় আয়ু কমে যায়।

তবে নারীরা কি পুরোপুরি সুস্থ থাকেন?

গবেষণায় দেখা যায়, নারীরা বেশি দিন বাঁচলেও অনেক ক্ষেত্রে তারা দীর্ঘ সময় বিভিন্ন শারীরিক সমস্যায় ভোগেন এবং চিকিৎসা বেশি নেন। অর্থাৎ আয়ু বেশি হলেও স্বাস্থ্য সব সময় ভালো থাকে না।

ভবিষ্যতে কি পার্থক্য কমবে?

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উন্নত চিকিৎসা, হৃদরোগ নিয়ন্ত্রণ এবং জীবনযাত্রার উন্নতির কারণে নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের ব্যবধান ধীরে ধীরে কমে আসছে। ভবিষ্যতে এই পার্থক্য আরও কমে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নারী-পুরুষের আয়ুষ্কালের এই পার্থক্য শুধু একটি সংখ্যা নয়, বরং এর পেছনে জড়িয়ে আছে জিন, হরমোন, জীবনযাপন ও সামাজিক আচরণের জটিল সমন্বয়।

সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
আরও পড়ুন
পাকিস্তানে পুরুষের ধূমপান কমলেও বাড়ছে নারী ধূমপায়ী
বইপড়াসহ পুরুষের যে পাঁচ শখ আকর্ষণ করে নারীদের
শরীরে পানিশূন্যতা? অবহেলা নয়, চিনে নিন লক্ষণ ও বাঁচার উপায়
নারীরা নয়, পুরুষরাই বেশি আবেগপ্রবণ ও দ্রুত প্রেমে পড়ে: গবেষণা