মাত্র কয়েক মিনিট নীরবে বসে শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিলেই মস্তিষ্কে শুরু হতে পারে পরিবর্তন—এমনই চমকপ্রদ তথ্য উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। গবেষকদের মতে, ধ্যান শুরু করার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কের কার্যক্রমে পরিবর্তন দেখা যেতে পারে এবং এই পরিবর্তন প্রায় সাত মিনিটে সবচেয়ে বেশি কার্যকর হয়ে ওঠে।
হার্ভার্ড মেডিকেল স্কুলের অধ্যাপক ড. বলাচুন্ধর সুব্রামানিয়াম জানান, মেডিটেশন বা ধ্যানের প্রথম কয়েক মিনিটেই মস্তিষ্কের তরঙ্গগুলোতে জরুরি পরিবর্তন দেখা যায়, যা প্রায় ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী থাকে।
গবেষণাটি পরিচালিত হয় ১০৩ জন প্রাপ্তবয়স্ক অংশগ্রহণকারীর ওপর, যেখানে তাদের মস্তিষ্কের কার্যক্রম ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাম পরীক্ষার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়। অংশগ্রহণকারীদের শ্বাসের ওপর মনোযোগ দিতে বলা হয়েছিল, যা এক ধরনের মনোসংযোগভিত্তিক ধ্যান।
ফলাফলে দেখা যায়, কয়েক মিনিটের মধ্যেই মস্তিষ্কে কিছু নির্দিষ্ট তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়, যা প্রশান্তি ও মনোযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত। যেমন আলফা, থিটা, বেটা-১ এবং থিটা-আলফা তরঙ্গ বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে কমে যায় ডেলটা ও গামা-১ তরঙ্গ, যা সাধারণত ক্লান্তি ও মনোযোগ বিচ্যুতির সঙ্গে যুক্ত।
গবেষকরা বলছেন, এই পরিবর্তনগুলো প্রমাণ করে যে ধ্যানের মাধ্যমে মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে এক ধরনের “প্রশান্ত সজাগতা” অবস্থায় প্রবেশ করে, যেখানে মানুষ একদিকে শান্ত থাকে, অন্যদিকে মনোযোগও বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় আরও দেখা যায়, অভিজ্ঞ ধ্যানকারীদের ক্ষেত্রে এই পরিবর্তন আরও বেশি শক্তিশালী হয়। অর্থাৎ নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে ধ্যানের প্রভাব সময়ের সঙ্গে আরও গভীর হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকেই ধ্যান শুরু করতে চান না কারণ তারা মনে করেন সময় লাগে বা মন স্থির রাখা কঠিন। তবে নতুন এই গবেষণা বলছে, খুব অল্প সময়, এমনকি কয়েক মিনিট নীরবে শ্বাসের দিকে মনোযোগ দিলেই মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে প্রশান্ত অবস্থায় যেতে শুরু করে।
গবেষকদের মতে, ধ্যান শুধু মানসিক প্রশান্তিই নয়, বরং মনোযোগ, আবেগ নিয়ন্ত্রণ এবং অভ্যন্তরীণ সচেতনতা বাড়াতেও সাহায্য করতে পারে।
তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, একবারের ধ্যানই বড় কোনো স্বাস্থ্য পরিবর্তন নিশ্চিত করে না। এটি মূলত মস্তিষ্কের একটি ভিন্ন অবস্থার ইঙ্গিত দেয়, যা দীর্ঘমেয়াদে নিয়মিত অনুশীলনের মাধ্যমে আরও কার্যকর হতে পারে।
গবেষণাটি বলছে, খুব অল্প সময়ের ধ্যানও মস্তিষ্কে ইতিবাচক পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে, যা মানসিক প্রশান্তি ও মনোযোগ বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
তথ্যসূত্র: সিএনএন
আরটিভি/জেএমএ




