তীব্র গরমের মধ্যে সর্দি-কাশি বা গলা খুসখুসে সমস্যা হলে অস্বস্তির শেষ থাকে না। একদিকে বাইরে প্রচণ্ড গরম, অন্যদিকে অফিস বা ঘরে এসির ঠান্ডা বাতাস—এই তাপমাত্রার ওঠানামাতেই শরীর দুর্বল হয়ে পড়ে। ফলাফল হিসেবে দেখা দেয় জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীর ম্যাজম্যাজ করার মতো সমস্যা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরম ও ঠান্ডার এই অস্থির পরিবেশে শরীর দ্রুত পানিশূন্য হয়ে পড়ে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যেতে পারে। তবে কিছু সহজ ও প্রাকৃতিক পানীয় নিয়মিত খেলে এই অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
লেবুর শরবত
লেবুতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। লেবুর শরবত শরীরকে হাইড্রেটেড রাখে এবং ক্লান্তি দূর করে। এর সঙ্গে পুদিনা পাতা বা সামান্য লবণ মিশালে ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যও বজায় থাকে। তবে অতিরিক্ত চিনি বা বরফ না দেওয়াই ভালো।
মাঠা
দই, ভাজা জিরা, পুদিনা পাতা ও সামান্য লবণ দিয়ে তৈরি মাঠা বা ঘোল শরীরকে ঠান্ডা রাখে এবং হজমে সাহায্য করে। এটি পেটের সমস্যা, পেটফাঁপা এমনকি সর্দি-কাশির সময়ও স্বস্তি দিতে পারে। গরমে শরীরকে ভিতর থেকে ঠান্ডা রাখতে মাঠা বা ঘোল একটি কার্যকর পানীয়।
ছাতুর শরবত
গরমে শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীর ঠান্ডা রাখতে ছাতুর শরবত বেশ উপকারী। এটি শরীরের পানিশূন্যতা দূর করে, ক্লান্তি কমায় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে। রুচি কমে গেলে বা অসুস্থতার সময় এটি সহজেই শরীরকে চাঙ্গা করতে পারে।
কুসুম গরম পানীয়
আদা, তুলসি, দারুচিনি, গোলমরিচ ও যষ্টিমধু ফুটিয়ে তৈরি করা কুসুম গরম পানীয় গলা ব্যথা ও সর্দি-কাশিতে আরাম দেয়। ঠান্ডা হয়ে গেলে এতে সামান্য মধু মিশিয়ে খাওয়া যায়। এটি অ্যালার্জি ও গলার অস্বস্তি কমাতেও সাহায্য করে।
চিকিৎসকদের মতে, এই গরমে শরীর সুস্থ রাখতে শুধু পানি নয়, সঠিক পানীয় বেছে নেওয়াও জরুরি। তাই প্রাকৃতিক এই পানীয়গুলো নিয়মিত খেলে গরমে সর্দি-কাশির অস্বস্তি অনেকটাই কমে যেতে পারে।
আরটিভি/জেএমএ




