ঢাকা সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬, ২৭ আশ্বিন ১৪৩৩

কোন রক্তের গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি?

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
কোন রক্তের গ্রুপে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেশি । ছবি: সংগৃহীত

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ার কথা উঠলেই সাধারণত খাদ্যাভ্যাস, অতিরিক্ত ওজন, শরীরচর্চার অভাব কিংবা পারিবারিক ইতিহাসের মতো বিষয়গুলোই সামনে আসে। তবে নতুন এক গবেষণা বলছে, রক্তের গ্রুপও টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।

গবেষকদের দাবি, অন্য রক্তের গ্রুপের তুলনায় ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষের টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কিছুটা বেশি হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই তথ্য নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। বরং এটি সচেতন থাকার একটি বিষয়।

গবেষণায় যা উঠে এসেছে

সম্প্রতি কয়েকটি গবেষণার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিজ্ঞানীরা রক্তের গ্রুপ ও ডায়াবেটিসের মধ্যে সম্ভাব্য সম্পর্ক খুঁজে দেখেছেন। প্রায় ৫১টি গবেষণার তথ্য পর্যালোচনার পর দেখা গেছে, ‘বি’ রক্তের গ্রুপের মানুষের টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় প্রায় ২৮ শতাংশ বেশি হতে পারে।

তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, এটি শুধু একটি সম্ভাব্য সম্পর্কের ইঙ্গিত। অর্থাৎ কারও রক্তের গ্রুপ ‘বি’ হলেই যে তিনি ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হবেন, এমন নয়।

শুধু রক্তের গ্রুপ নয়, জীবনযাপনও গুরুত্বপূর্ণ

চিকিৎসকদের মতে, ডায়াবেটিসের প্রধান কারণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ওজন, অস্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, দীর্ঘদিন মানসিক চাপ এবং পরিবারের কারও ডায়াবেটিসের ইতিহাস থাকা।

তাই ‘বি’ রক্তের গ্রুপ না হলেও একজন মানুষের ডায়াবেটিস হতে পারে। আবার ‘বি’ গ্রুপের হয়েও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করলে দীর্ঘদিন সুস্থ থাকা সম্ভব।

কেন ‘বি’ গ্রুপে ঝুঁকি বেশি হতে পারে?

বিজ্ঞানীরা মনে করছেন, রক্তের গ্রুপ শরীরের কিছু জৈবিক প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অন্ত্রে থাকা উপকারী জীবাণু, শরীরের বিপাক প্রক্রিয়া এবং ইনসুলিনের কার্যকারিতার সঙ্গে এর কোনো সম্পর্ক থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাবেন যেভাবে

রক্তের গ্রুপ পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, কিন্তু জীবনযাপনের অভ্যাস বদলানো সম্ভব। ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে—

  • নিয়মিত শরীরচর্চা করুন
  • ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন
  • সুষম খাবার খান
  • অতিরিক্ত মিষ্টি ও চিনি এড়িয়ে চলুন
  • পর্যাপ্ত ঘুমান
  • মানসিক চাপ কমানোর চেষ্টা করুন

এ ছাড়া নিয়মিত রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করলে আগেই সতর্ক হওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রক্তের গ্রুপ ডায়াবেটিসের একটি সম্ভাব্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে, তবে সুস্থ থাকার সবচেয়ে বড় চাবিকাঠি হলো সচেতন জীবনযাপন। তাই আপনার রক্তের গ্রুপ যাই হোক, স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই পারে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা
একসময় প্রিয়জনের চিঠির অপেক্ষায় দিন গুনত মানুষ। ডাকপিয়নের হাতে চিঠি এলেই আনন্দে ভরে উঠত মন।
বিশ্ব ডাক দিবস আজ, চিঠির যুগ পেরিয়ে ডাকসেবায় নতুন সম্ভাবনা