ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কল্পনায় হারিয়ে যাচ্ছেন? হতে পারে ভয়ংকর মানসিক সমস্যা

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১০:০৭ এএম
ছবি: সংগৃহীত

কখনও কখনও আমরা সবাই কল্পনায় হারিয়ে যাই। কিন্তু কিছু মানুষের ক্ষেত্রে এই কল্পনার জগৎই হয়ে ওঠে তাদের প্রধান বাস্তবতা। তারা ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের বড় অংশ জুড়ে নিজের মাথার ভেতরই গল্প তৈরি করে চলে—চরিত্র, ঘটনা আর আবেগে ভরপুর এক সমান্তরাল জগৎ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অবস্থাকে বলা হয় অতিমাত্রায় কল্পনায় ডুবে থাকা বা ‘ম্যালঅ্যাডাপটিভ ডে ড্রিমিং’। এতে আক্রান্ত মানুষরা কখনও কখনও দিনে ১০–১২ ঘণ্টাও কল্পনার জগতে কাটিয়ে দেন। তাদের গল্প বছরের পর বছর, এমনকি দশকজুড়েও চলতে থাকে। বাইরে থেকে বিষয়টি আকর্ষণীয় মনে হলেও বাস্তবে এটি অনেকের জীবনকে জটিল করে তোলে।

যুক্তরাষ্ট্রের মনোরোগ বিশেষজ্ঞ কলিন রস আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিকে বলেন, স্বাভাবিকভাবে কল্পনা করা মানুষের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। এটি সৃজনশীলতা, সহানুভূতি এবং মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে। কিন্তু সমস্যা শুরু হয় তখনই, যখন মানুষ কল্পনাকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বরং কল্পনাই মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করে।

আরও পড়ুন

গবেষণায় দেখা গেছে, বিশ্বের প্রায় ২ থেকে ৪ শতাংশ মানুষ এই ধরনের সমস্যায় ভুগতে পারেন। অনেক সময় এটি শৈশবের একাকীত্ব, মানসিক আঘাত বা সামাজিক চাপের সঙ্গে যুক্ত থাকে। কেউ কেউ বাস্তব জীবনের কষ্ট থেকে পালাতে কল্পনার জগতে আশ্রয় খোঁজেন।

এই অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরা প্রায়ই দীর্ঘ সময় একা থাকেন, গান শোনেন বা বারবার একই ধরনের শারীরিক নড়াচড়া করেন, যা তাদের কল্পনার জগৎকে আরও গভীর করে তোলে। ফলে বাস্তব জীবন থেকে ধীরে ধীরে দূরত্ব তৈরি হয়—পড়াশোনা, কাজ বা সম্পর্ক সবকিছুতেই প্রভাব পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাস ধীরে ধীরে আসক্তির মতো রূপ নিতে পারে। কল্পনার জগৎ এতটাই আকর্ষণীয় হয়ে ওঠে যে বাস্তব জীবন অনেক সময় ফিকে মনে হয়। ফলে অনেকে সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন এবং পরে অপরাধবোধ ও হতাশায় ভোগেন।

তবে আশার কথা হলো, এটি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কল্পনার সময় কতটা কাটছে তা নজরে রাখা, নতুন শখ তৈরি করা, দীর্ঘ সময় একা না থাকা এবং মনোযোগ ধরে রাখার অভ্যাস গড়ে তোলা অনেকটাই সাহায্য করতে পারে।

অনেক ক্ষেত্রে মানসিক চিকিৎসা ও থেরাপিও কার্যকর ভূমিকা রাখে। লক্ষ্য থাকে কল্পনাকে পুরোপুরি বন্ধ করা নয়, বরং সেটিকে নিয়ন্ত্রণে এনে বাস্তব জীবনের সঙ্গে ভারসাম্য তৈরি করা।

মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, কল্পনা নিজে সমস্যা নয়—সমস্যা তখনই শুরু হয়, যখন সেই কল্পনা বাস্তব জীবনকে দখল করে নেয়। তাই সচেতনতা ও সঠিক সহায়তা থাকলে এই অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব।

সূত্র: বিবিসি


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
গ্রামীণ জনপদে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ ও মানসিক সমস্যা