গ্রামবাংলায় বহুদিন ধরেই একটি প্রচলিত বিশ্বাস রয়েছে—হাসনাহেনা ফুলের গন্ধে নাকি সাপ ছুটে আসে। তাই অনেকেই বাড়ির আঙিনায় এই গাছ লাগাতে ভয় পান। তবে বিজ্ঞান বলছে, বিষয়টি পুরোপুরি ভিন্ন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাপ হাসনাহেনার গন্ধে আকৃষ্ট হয়ে আসে না। বরং খাবারের সন্ধান ও নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজেই এই গাছের নিচে তাদের দেখা যায়।
সাপ মানুষের মতো নাক দিয়ে গন্ধ অনুভব করে না। তারা জিভের সাহায্যে বাতাসে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক কণা সংগ্রহ করে এবং মুখের ভেতরের বিশেষ একটি অঙ্গের মাধ্যমে সেগুলো বিশ্লেষণ করে। তাই মানুষের কাছে যে সুগন্ধ মনমাতানো মনে হয়, সাপের কাছে তা কেবল কিছু রাসায়নিক সংকেত মাত্র।
রাতের বেলা হাসনাহেনা ফুলের তীব্র গন্ধে বিভিন্ন পোকামাকড় আকৃষ্ট হয়। এসব পোকা খেতে আসে টিকটিকি, গিরগিটি, কুনোব্যাঙসহ ছোট প্রাণী। আর এই প্রাণীগুলোই সাপের পছন্দের খাবার। ফলে খাবারের খোঁজে সাপও সেখানে চলে আসে।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ কারণ হলো হাসনাহেনা গাছের গঠন। গাছটি ঝোপালো হওয়ায় এর নিচে ছায়াময়, ঠান্ডা ও আড়ালযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়। শীতল রক্তের প্রাণী হওয়ায় সাপ এমন জায়গায় বিশ্রাম নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে।
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাপ গবেষক ডক্টর ডেভিড জিসকের মতে, সাপ মাংসাশী প্রাণী। ফুলের সুগন্ধ তাদের স্নায়ুতন্ত্রে কোনো আকর্ষণ সৃষ্টি করে না। তারা মূলত শিকারের গন্ধ ও তাপমাত্রা অনুসরণ করে নির্দিষ্ট স্থানে যায়।
অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ডক্টর ব্রায়ান ফ্রাই বলেন, সাপ কোনো উদ্ভিজ্জ খাবার খায় না। তাই ফুলের প্রতি তাদের স্বাভাবিক কোনো আকর্ষণ নেই। তবে ঝোপালো ও স্যাঁতসেঁতে পরিবেশ তাদের আশ্রয়ের জন্য উপযোগী হওয়ায় এমন জায়গায় সাপের উপস্থিতি বেশি দেখা যায়।
তাই হাসনাহেনা গাছের নিচে সাপ দেখা যাওয়ার ঘটনা সত্য হলেও, এর জন্য ফুলের গন্ধ দায়ী নয়। আসল কারণ হলো খাবারের উপস্থিতি, নিরাপদ আশ্রয় এবং সাপের স্বাভাবিক জীবনধারা।
হাসনাহেনার গন্ধে নয়; খাবার আর নিরাপদ বিশ্রামের টানেই সাপ আসে এই গাছের নিচে।
আরটিভি/জেএমএ




