শরীরে পর্যাপ্ত ভিটামিন ও খনিজের ঘাটতি হলে তা ধীরে ধীরে মুখ, ত্বক, চুল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে লক্ষণ হিসেবে প্রকাশ পায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব লক্ষণ অনেক সময় শরীরের ভেতরের পুষ্টিহীনতার সতর্ক বার্তা হিসেবে কাজ করে। সময়মতো বুঝতে পারলে খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে সমস্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
নিচে এমন ৮টি সাধারণ লক্ষণ তুলে ধরা হলো, যেগুলো ভিটামিন ও খনিজ ঘাটতির ইঙ্গিত দিতে পারে।
ভঙ্গুর চুল ও নখ
শরীরে বায়োটিনের (ভিটামিন বি-৭) ঘাটতি থাকলে চুল ও নখ ভঙ্গুর, পাতলা বা সহজে ভেঙে যেতে পারে। এই ভিটামিন শরীরে শক্তি উৎপাদন ও চুল-নখ মজবুত রাখতে সাহায্য করে।
মুখে ঘা বা ঠোঁট ফাটা
ঠোঁটের কোণে ঘা বা মুখে বারবার আলসারের সমস্যা দেখা দিতে পারে আয়রন ও বি-ভিটামিনের ঘাটতির কারণে।
মাড়ি থেকে রক্ত পড়া
ভিটামিন সি-এর অভাব হলে মাড়ি দুর্বল হয়ে রক্ত পড়তে পারে। দীর্ঘদিন ঘাটতি থাকলে ক্ষত শুকাতে দেরি হয় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়।
রাতকানা ও চোখে সমস্যা
ভিটামিন এ-এর অভাব হলে রাতে কম দেখা বা রাতকানা সমস্যা হতে পারে। গুরুতর ক্ষেত্রে চোখের ভেতরের অংশেও ক্ষতি হতে পারে।
ত্বকে খসখসে দাগ ও খুশকি
ত্বকে খসখসে দাগ, খুশকি বা চুলকানির সমস্যা অনেক সময় ভিটামিন বি-২ ও বি-৬-এর ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত।
অতিরিক্ত চুল পড়া
আয়রন, বায়োটিন, নিয়াসিন ও প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিডের ঘাটতি চুল পড়ার অন্যতম কারণ হতে পারে।
ত্বকে লাল বা সাদা দানা
ত্বকে ছোট ছোট লাল বা সাদা দানার মতো সমস্যা ভিটামিন এ ও সি-এর ঘাটতির সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
অস্থির পা বা অস্বস্তি
পা অস্বাভাবিকভাবে নাড়ানোর প্রবণতা বা অস্বস্তি অনেক সময় আয়রনের ঘাটতির কারণে দেখা দেয়, যাকে “অস্থির পা সিনড্রোম” বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত খাদ্যাভ্যাসে পরিবর্তন আনা জরুরি। শাকসবজি, ফল, ডিম, মাছ, দুধ, বাদাম ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত খেলে শরীরে ভিটামিনের ঘাটতি অনেকটাই পূরণ করা সম্ভব।
তবে যেকোনো ধরনের সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
শরীর সবসময় ছোট ছোট লক্ষণের মাধ্যমে সংকেত দেয়। মুখ, চুল ও ত্বকের পরিবর্তনকে অবহেলা না করে সচেতন হলে বড় ধরনের পুষ্টিহীনতা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
তথ্যসূত্র: হেলথলাইন
আরটিভি/জেএমএ



