ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

আজ বিশ্ব সমুদ্র দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৮ জুন ২০২৬, ১০:০৪ এএম
আজ বিশ্ব সমুদ্র দিবস । ছবি: সংগৃহীত

আজ ৮ জুন বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে বিশ্ব সমুদ্র দিবস। ২০২৬ সালের এবারের প্রতিপাদ্য— “নতুন করে ভাবি: এক সাগর, এক জলবায়ু, এক ভবিষ্যৎ—একসাথে”। সমুদ্রকে আর দূরের কিছু না ভেবে জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখার আহ্বান জানানো হয়েছে এবারের আয়োজনে।

জাতিসংঘের সমুদ্র বিষয়ক দপ্তর ও আন্তর্জাতিক অংশীদার সংস্থাগুলোর উদ্যোগে এই দিবস পালিত হচ্ছে। পাশাপাশি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজির ১৪ নম্বর লক্ষ্য— “জলজ জীবন” (লাইফ বিলো ওয়াটার)—এর সঙ্গেও এই দিবস গভীরভাবে যুক্ত। এই লক্ষ্যের মূল উদ্দেশ্য হলো সমুদ্র, সাগর ও সামুদ্রিক সম্পদ সংরক্ষণ এবং সেগুলোর টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করা।

সমুদ্র: পৃথিবীর প্রাণভিত্তি

জাতিসংঘের তথ্য মতে, পৃথিবীর ৭০ শতাংশের বেশি অংশ সমুদ্র দিয়ে ঘেরা। এটি শুধু জলভাণ্ডার নয়, বরং মানবজীবন ও প্রকৃতির ভারসাম্যের মূল ভিত্তি।

সমুদ্র পৃথিবীর অন্তত অর্ধেক বা ৫০% অক্সিজেন উৎপাদন করে। এটি পৃথিবীর অধিকাংশ জীববৈচিত্র্যের আবাসস্থল এবং বিশ্বজুড়ে ১ বিলিয়নেরও বেশি মানুষের জন্য প্রোটিনের প্রধান উৎস। অর্থাৎ এটি কোটি কোটি মানুষের খাদ্য ও জীবিকার উৎস হিসেবে কাজ করে এবং বৈশ্বিক জীববৈচিত্র্যের বড় অংশ ধারণ করে। এছাড়া সমুদ্র আমাদের অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ; ২০৩০ সালের মধ্যে সমুদ্রনির্ভর অর্থনীতিতে ভবিষ্যতে প্রায় ৪ কোটি মানুষের কর্মসংস্থান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

আরও পড়ুন

সংকটে সমুদ্রের ভবিষ্যৎ

জাতিসংঘ বলছে, বর্তমানে সমুদ্র নানা সংকটের মুখে। বড় মাছের প্রায় ৯০ শতাংশ ইতোমধ্যেই কমে গেছে এবং প্রবালপ্রাচীরের প্রায় অর্ধেক ধ্বংস হয়ে গেছে। অতিরিক্ত আহরণ, দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রের স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে।

সমুদ্র মানবসৃষ্ট কার্বন ডাই-অক্সাইডের প্রায় ৩০ শতাংশ শোষণ করে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে এই সক্ষমতাও ক্রমেই চাপের মুখে পড়ছে।

“নতুন করে ভাবি” বার্তা

জাতিসংঘের এবারের প্রতিপাদ্য মানুষকে আহ্বান জানাচ্ছে সমুদ্রকে নতুনভাবে দেখার জন্য—শুধু সম্পদ আহরণের জায়গা নয়, বরং দায়িত্ব ও সংরক্ষণের ক্ষেত্র হিসেবে। সমুদ্র আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, খাদ্য ও জলবায়ুর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত হলেও দীর্ঘদিন ধরে এটি থেকে দূরত্ব তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এখন সময় এসেছে উপকারভোগী থেকে রূপান্তর হয়ে সমুদ্রের প্রকৃত অভিভাবক হয়ে ওঠার।

বৈশ্বিক উদ্যোগ

জাতিসংঘ বিশ্ব সমুদ্র দিবসকে কেন্দ্র করে প্রায় ২০০টি দেশে তরুণ, পরিবেশকর্মী ও বিভিন্ন সংগঠন একসঙ্গে কাজ করছে। তাদের লক্ষ্য একটি সুস্থ সমুদ্র ও স্থিতিশীল জলবায়ু নিশ্চিত করা।

১৯৯২ সালের রিও ডি জেনিরো আর্থ সামিটে এই ধারণার সূচনা হয়। এরপর থেকে প্রতিবছর ৮ জুন দিনটি বিশ্ব সমুদ্র দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

বিশ্ব সমুদ্র দিবস ২০২৬ কেবল একটি স্মরণ দিবস নয়—এটি সমুদ্র সংরক্ষণ ও টেকসই ভবিষ্যৎ গড়ার এক বৈশ্বিক প্রতিশ্রুতির প্রতীক।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
গর্ভাবস্থায় অনেক নারী হঠাৎ কিছু বিষয় ভুলে যাওয়ার সমস্যায় পড়েন।
গর্ভাবস্থায় ‘ভুলে যাওয়া সমস্যার’ রহস্য খুঁজে পেলেন বিজ্ঞানীরা 
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
কোষ্ঠকাঠিন্য হলেই অনেকের মনে পড়ে ইসবগুলের ভুসির কথা। পানিতে মিশিয়ে খাওয়া পরিচিত এই খাবারটি দীর্ঘদিন ধরে পেট পরিষ্কার রাখতে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। তবে ইসবগুলের উপকারিতা শুধু কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
জেনে নিন ইসবগুল খাওয়ার উপকারিতা
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
বয়সের ছাপ কমানো থেকে শুরু করে মাইগ্রেনের সমস্যা নিয়ন্ত্রণ—বিভিন্ন কারণে বোটক্স ব্যবহার করা হয়।
বোটক্স নেওয়ার আগে জানুন স্নায়ুর এই ঝুঁকিগুলো
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
রাতে বিছানায় শুয়ে আছেন, কিন্তু পায়ে কেমন যেন অস্বস্তি হচ্ছে।
শুয়ে থাকলেই পা নাড়ানোর ইচ্ছা? আজ সচেতন হওয়ার দিন
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
শিয়ালের মাংস খেলে বাতের ব্যথা সারে, তক্ষক খেলে হাঁপানি থেকে যৌনক্ষমতা নানা রোগের চিকিৎসা হয়, আবার জোঁকের তেল নাকি সারিয়ে দেয় বাত-ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা। বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রচলিত রয়েছে এমন নানা লোকবিশ্বাস। তবে এসব দাবির পেছনে বৈজ্ঞানিক ভিত্তি কতটা?
শিয়ালের মাংস, তক্ষক ও জোঁকের তেল, রোগ সারানোর সত্যতা কতটা?
আরও পড়ুন
পানির ৩৩ ফুট গভীরেও বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফল চীনা সোলার প্যানেল
বিপরীতমুখী দুই জাহাজে মুখোমুখি নাবিক বাবা-ছেলে, অতঃপর...
বালির নিচে হারানো সমুদ্রে মিলল ৭ কোটি বছর আগের শিকারির জীবাশ্ম
দেয়ালঘেরা সমুদ্রসৈকত, যেখানে পুরুষ প্রবেশ নিষেধ