বর্ষার মৌসুমে বাজারে দেখা মেলে টক-মিষ্টি স্বাদের রসালো ফল লটকনের। আকারে ছোট হলেও পুষ্টিগুণে ভরপুর এই ফল শরীরের জন্য বেশ উপকারী। পুষ্টিবিদদের মতে, লটকনে রয়েছে আয়রন, পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, জিঙ্কসহ নানা প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান।
এছাড়া এতে রয়েছে ভিটামিন, বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি উপাদান, অ্যামাইনো অ্যাসিড ও এনজাইম, যা শরীরের কোষ ও টিস্যু গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত লটকন খাওয়ার অভ্যাস শরীরের নানা উপকার করতে পারে।
লটকনের ১০ উপকারিতা এক নজরে:
১. ভিটামিনের ঘাটতি পূরণে সহায়ক
লটকনে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি থাকে। মাত্র দুটি লটকনই দৈনিক ভিটামিন সি-এর চাহিদা পূরণে সহায়তা করতে পারে।
২. শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে
ভিটামিন ও খনিজসমৃদ্ধ এই ফল শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষায় সাহায্য করে।
৩. দাঁত, হাড় ও ত্বকের যত্নে উপকারী
নিয়মিত লটকন খেলে দাঁত, মাড়ি, হাড় ও ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা মিলতে পারে।
৪. বমিভাব কমাতে সাহায্য করে
বমি বমি ভাব বা অরুচি অনুভব করলে লটকন উপকারী হতে পারে।
৫. ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়ক
লটকন বেশি খেলে ক্ষুধা কিছুটা কমে যেতে পারে। তাই ওজন কমাতে চাওয়া ব্যক্তিদের জন্য এটি উপকারী ফল হতে পারে।
৬. হাড়ের সুরক্ষায় ভূমিকা রাখে
লটকনে থাকা আয়রন হাড়ের সুস্থতা রক্ষায় সহায়তা করে।
৭. রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে
যারা রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্য লটকন উপকারী হতে পারে। এটি রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে।
৮. মানসিক চাপ কমাতে সহায়ক
লটকন মানসিক চাপ ও ক্লান্তি কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
৯. শরীরে দ্রুত শক্তি জোগায়
এই ফল শরীরে দ্রুত শক্তি বাড়ানোর পাশাপাশি রক্তে চর্বির মাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করতে পারে।
১০. মুখের ঘা কমাতে উপকারী
যাদের মুখে বা ঠোঁটের কোণে ঘা হওয়ার সমস্যা রয়েছে, তারা নিয়মিত লটকন খেলে উপকার পেতে পারেন।
তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, লটকনে পটাসিয়ামের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি। তাই কিডনি-সংক্রান্ত সমস্যায় ভুগছেন এমন ব্যক্তিদের চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বেশি পরিমাণে লটকন খাওয়া উচিত নয়।
আরটিভি/জেএমএ




