ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

বেদনাবিধুর ঐতিহাসিক পলাশী দিবস আজ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৩ জুন ২০২৬, ০৮:৩০ এএম
বেদনাবিধুর ঐতিহাসিক পলাশী দিবস আজ । ছবি: সংগৃহীত

২৩ জুন, বেদনাবিধুর ঐতিহাসিক পলাশী দিবস। ১৭৫৭ সালের এই দিনে পলাশীর আম্রকাননে সংঘটিত এক ঐতিহাসিক ঘটনার মধ্য দিয়ে বাংলার স্বাধীনতার সূর্য অস্তমিত হয়েছিল। দিনটি শুধু একটি যুদ্ধের স্মৃতি নয়, বরং বিশ্বাসঘাতকতা, ষড়যন্ত্র এবং হারানো স্বাধীনতার এক বেদনাময় ইতিহাস।

বাংলা, বিহার ও ওড়িশার (পূর্বে উড়িষ্যা নামে পরিচিত ছিল) শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছিল ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি। নবাবকে ক্ষমতাচ্যুত করতে ব্রিটিশ সেনাপতি রবার্ট ক্লাইভ বিভিন্ন দেশীয় প্রভাবশালী ব্যক্তি ও রাজপরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গোপন সমঝোতা করেন। তাদের আশ্বাস দেওয়া হয়, ব্রিটিশরা ক্ষমতা দখল করতে পারলে মীরজাফরকে বাংলার নবাব করা হবে।

ষড়যন্ত্রের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে নবাব সিরাজউদ্দৌলা একসময় মীরজাফরকে প্রধান সেনাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেন। তবে পরে কোরআন ছুঁয়ে আনুগত্যের শপথ করে তিনি আবার সেই পদ ফিরে পান। ইতিহাস বলছে, এই সিদ্ধান্তই নবাবের জন্য বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

পলাশীর আম্রকাননে যুদ্ধের দিন নবাবের বিশাল বাহিনী থাকলেও অধিকাংশ সেনাপতি যুদ্ধে অংশ নেননি। বিশ্বাসঘাতকতার কারণে প্রায় ৫০ হাজার পদাতিক ও ২৮ হাজার অশ্বারোহী সৈন্য থাকা সত্ত্বেও নবাবের বাহিনী ব্রিটিশদের তুলনামূলক ছোট সেনাদলের কাছে পরাজিত হয়। বিজয়ী হয় ষড়যন্ত্রকারীরা, আর বাংলা হারায় তার স্বাধীনতা।

আরও পড়ুন

পরাজয়ের পর নবাব সিরাজউদ্দৌলা পুনরায় সেনাবাহিনী সংগঠিত করার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনি ধরা পড়েন এবং মীরজাফরের ছেলে মীরনের নির্দেশে নির্মমভাবে নিহত হন।

এরপর বাংলার মসনদে বসানো হয় মীরজাফরকে। ধীরে ধীরে বাংলার শাসনব্যবস্থা ব্রিটিশদের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। পরে বক্সারের যুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসনক্ষমতা পুরোপুরি দখল করে নেয়। শুরু হয় দীর্ঘ ঔপনিবেশিক শাসন।

প্রায় দুই শতক ধরে শোষণ-বঞ্চনার বিরুদ্ধে সংগ্রাম চালিয়ে যায় এ অঞ্চলের মানুষ। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় ব্রিটিশ শাসনের অবসান ঘটে। পরবর্তীতে নানা রাজনৈতিক পরিবর্তন ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে বাংলাদেশ।

ইতিহাসের দীর্ঘ পথচলায় অনেক কিছু বদলে গেলেও নবাব সিরাজউদ্দৌলার প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা আজও অটুট রয়েছে। অন্যদিকে পলাশীর বিশ্বাসঘাতকদের নাম এখনো ইতিহাসে ঘৃণা ও নিন্দার প্রতীক হয়ে আছে।

তাই ২৩ জুন শুধু একটি তারিখ নয়; এটি বাঙালির হারানো স্বাধীনতা, বিশ্বাসঘাতকতার নির্মম পরিণতি এবং ইতিহাস থেকে শিক্ষা নেওয়ার এক গভীর স্মরণদিবস।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে