এসি ব্যবহার না করেও প্রচণ্ড গরমে শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখার কার্যকর কিছু কৌশল

আরটিভি নিউজ

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬ , ০৬:১৭ পিএম


এসি ব্যবহার না করেও প্রচণ্ড গরমে শরীর ও ঘর ঠান্ডা রাখার কার্যকর কিছু কৌশল
ছবি: সংগৃহীত

দেশজুড়ে তীব্র তাপপ্রবাহে জনজীবন প্রায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। বাইরে যেমন প্রখর রোদ ও গরম, তেমনি ঘরের ভেতরেও যেন মিলছে না স্বস্তির ঠান্ডা। অনেকেই এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে এয়ার কন্ডিশনার (এসি) কেনার কথা ভাবছেন। কিন্তু সবার পক্ষে এসি কেনা বা নিয়মিত চালিয়ে রাখা সম্ভব নয়। বিদ্যুতের বাড়তি খরচও অনেকের জন্য বড় চিন্তার বিষয়। তবে কিছু সহজ, কার্যকর ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে এসি ছাড়াও ঘর এবং শরীরকে অনেকটাই শীতল রাখা সম্ভব। জেনে নিন প্রচণ্ড গরমে স্বস্তি পাওয়ার ১৪টি কার্যকর কৌশল।

১. বেশি বেশি পানি পান করুন

ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি ও জৈবিক প্রকৌশলের সিনিয়র লেকচারার ইমেরিটাস ওয়েনডেল পোর্টারের মতে, শরীরকে ঠান্ডা রাখার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো পর্যাপ্ত পানি পান করা। পানি ঠান্ডা হোক বা স্বাভাবিক তাপমাত্রার—এটি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ নয়। কারণ শরীরে প্রবেশ করার পর পানি নিজেই শরীরের তাপমাত্রার সঙ্গে মানিয়ে নেয়।

পর্যাপ্ত পানি পান করলে শরীরে ঘামের উৎপাদন স্বাভাবিক থাকে। আর ঘাম বাষ্পে পরিণত হওয়ার সময় শরীরের অতিরিক্ত তাপ বের করে দেয়, ফলে শরীর স্বাভাবিকভাবেই ঠান্ডা থাকে।

২. ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করুন

গরমে ঠান্ডা পানি দিয়ে গোসল করলে শরীরের তাপমাত্রা দ্রুত কমে আসে এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি পাওয়া যায়। সম্ভব হলে পেপারমিন্টযুক্ত সাবান ব্যবহার করুন। এতে থাকা মেনথল মস্তিষ্কের বিশেষ রিসেপ্টরকে উদ্দীপিত করে, যা শরীরে ঠান্ডার অনুভূতি সৃষ্টি করে।

৩. আইসব্যাগ ব্যবহার করুন

ঘাড়, কবজি কিংবা কপালে আইসব্যাগ বা ঠান্ডা ভেজা কাপড় রাখলে দ্রুত আরাম পাওয়া যায়। এসব স্থানে রক্তনালি ত্বকের খুব কাছাকাছি থাকে। ফলে এসব অংশ ঠান্ডা হলে রক্ত দ্রুত ঠান্ডা হয়ে পুরো শরীরেও তার প্রভাব পড়ে।

৪. টেবিল ফ্যানের সঠিক ব্যবহার

সিলিং ফ্যানের পাশাপাশি একটি টেবিল ফ্যান ব্যবহার করলে ঘরের বাতাস চলাচল আরও ভালো হয়। জানালার পাশে ফ্যান রাখলে এটি ঘরের গরম বাতাস বাইরে বের করে দিতে সাহায্য করে এবং বাইরে থেকে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ঘরে প্রবেশ করে। তবে বাইরে যদি প্রচণ্ড রোদ থাকে, তাহলে আগে জানালার পর্দা টেনে রাখুন। রোদ কমে এলে এই পদ্ধতি ব্যবহার করুন। শরীরের কাছাকাছি ফ্যান রাখলেও গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমে।

৫. জানালায় ভারী পর্দা ব্যবহার করুন

সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জানালার পর্দা টেনে রাখুন। এতে সূর্যের সরাসরি তাপ ঘরে প্রবেশ করতে পারবে না এবং ঘরের ভেতরের তাপমাত্রাও তুলনামূলক কম থাকবে।

৬. সুতি কাপড় ব্যবহার করুন

গরমের সময় সুতি কাপড় সবচেয়ে আরামদায়ক। শুধু পোশাক নয়, বিছানার চাদর ও বালিশের কভারেও হালকা রঙের সুতি কাপড় ব্যবহার করলে ঘুমের সময় শরীর অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা থাকে।

আরও পড়ুন

৭. ঘরে গাছ রাখুন

ইনডোর গাছ শুধু ঘরের সৌন্দর্যই বাড়ায় না, ঘরের পরিবেশও কিছুটা শীতল রাখতে সাহায্য করে। গাছ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং পরিবেশকে আরও সতেজ করে তোলে। কম আলোতে টিকে থাকতে পারে— এমন গাছ ঘরে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়।

৮. প্রয়োজন শেষ হলে চুলা বন্ধ রাখুন

রান্না শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে চুলা বন্ধ করে দিন। এতে যেমন গ্যাসের অপচয় কমবে, তেমনি রান্নাঘরের অতিরিক্ত তাপ অন্যান্য ঘরে ছড়িয়ে পড়বে না।

৯. অব্যবহৃত ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন

যেসব ঘর ব্যবহার করা হয় না বা যেখানে বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা কম, সেসব ঘরের দরজা বন্ধ রাখুন। এতে অপেক্ষাকৃত ঠান্ডা বাতাস ব্যবহারযোগ্য ঘরেই থাকবে।

১০. বাথরুম ও রান্নাঘরে এগজস্ট ফ্যান ব্যবহার করুন

রান্নার সময় উৎপন্ন গরম বাতাস এবং গোসলের পর তৈরি হওয়া গরম বাষ্প দ্রুত বাইরে বের করে দিতে এগজস্ট ফ্যান কার্যকর ভূমিকা রাখে। এটি ঘরের তাপমাত্রা কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।

১১. দিনের বেলায় অপ্রয়োজনীয় বৈদ্যুতিক বাতি বন্ধ রাখুন

প্রয়োজন ছাড়া দিনের বেলায় লাইট জ্বালিয়ে রাখবেন না। এতে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের পাশাপাশি ঘরের অতিরিক্ত তাপও কিছুটা কমবে।

১২. সম্ভব হলে ঘরের বাইরে রান্না করুন

সুযোগ থাকলে উঠান বা খোলা জায়গায় রান্না করুন। কারণ রান্নার সময় উৎপন্ন তাপ পুরো ঘরে ছড়িয়ে পড়ে এবং ঘরের ভেতরের পরিবেশ আরও গরম করে তোলে।

১৩. ঠান্ডা ও স্বাস্থ্যকর খাবার খান

গরমের সময় তরমুজ, বাঙ্গি, শসা, ডাবের পানি, ঠান্ডা ফলের রস কিংবা অন্যান্য শীতল ফল খেতে পারেন। আইসক্রিম খেলে সাময়িক স্বস্তি মিললেও অতিরিক্ত মিষ্টিজাতীয় খাবার এড়িয়ে চলাই ভালো। কারণ অতিরিক্ত চিনি শরীরের ভেতরের বিপাকক্রিয়া বাড়িয়ে তাপের অনুভূতি বাড়াতে পারে।

১৪. ফ্যানের সামনে বরফের পাত্র রাখুন

টেবিল বা স্ট্যান্ড ফ্যানের সামনে একটি পাত্রে বরফ কিংবা খুব ঠান্ডা পানি রেখে দিন। ফ্যানের বাতাস বরফের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হলে ঘরে তুলনামূলক শীতল বাতাস ছড়িয়ে পড়ে। টেবিল ফ্যান না থাকলে সিলিং ফ্যানের নিচেও বরফের পাত্র রাখা যেতে পারে, যা কিছুটা স্বস্তি দিতে পারে।

প্রচণ্ড গরমে সুস্থ থাকতে শুধু ঘর ঠান্ডা রাখাই নয়, শরীরের যত্ন নেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। এসি না থাকলেও কিছু সহজ অভ্যাস ও সঠিক কৌশল অনুসরণ করলে গরমের অস্বস্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব। পর্যাপ্ত পানি পান, ঘরের বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা, হালকা পোশাক এবং সচেতন জীবনযাপন—এই ছোট ছোট পদক্ষেপই তীব্র গরমে এনে দিতে পারে বড় স্বস্তি।

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

logo_appslogo_apps

Loading...

© All Rights Reserved 2016-2026 | RTV Online | It is illegal to use contents, pictures, and videos of this website without authority's permission