ঢাকা শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

এই গরমে নিজেকে যেভাবে ভালো রাখবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৯ জুন ২০২৬, ০১:০০ পিএম
মডেল মাহাদিয়া ইসলাম। ছবি: সৌজন্য

​তীব্র তাপদাহে জনজীবন চরম অতিষ্ঠ । ঘরের বাইরে বের হলেই যেন আগুনের মতো তাপদাহ, আর ঘরে থাকলেও স্বস্তি নেই। এই চরম আবহাওয়ায় শরীর ও মন সতেজ রাখা এক মস্ত বড় চ্যালেঞ্জ। একটু অসাবধানতায় দেখা দিতে পারে হিট স্ট্রোক, ডিহাইড্রেশন বা পেটের গণ্ডগোলের মতো নানা স্বাস্থ্য সমস্যা।
​এই গরমে সুস্থ, সতেজ ও প্রাণবন্ত থাকতে দৈনন্দিন অভ্যাসে কিছু সহজ কিন্তু কার্যকরী পরিবর্তন আনা জরুরি।

জেনে নিন এই গরমে নিজেকে ভালো রাখার কিছু দারুণ উপায়:

পানির কোনো বিকল্প নেই (হাইড্রেশন)

​গরমে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে পানি ও খনিজ উপাদান ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই নিজেকে হাইড্রেটেড রাখা সবচেয়ে জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি পান: দিনে অন্তত ৩-৪ লিটার পানি পান করুন। তৃষ্ণা না পেলেও কিছুক্ষণ পর পর পানি খাওয়ার অভ্যাস করুন।

প্রাকৃতিক পানীয়: ডাবের পানি, লেবুর শরবত, ঘরে পাতা টকদইয়ের লাচ্ছি বা ঘোল শরীরকে দ্রুত ঠাণ্ডা করতে সাহায্য করে।

এই সময় যা এড়িয়ে চলবেন: অতিরিক্ত চা, কফি, কোল্ড ড্রিংকস বা প্যাকেটজাত জুস এড়িয়ে চলাই ভালো। এগুলো শরীরকে আরও বেশি ডিহাইড্রেটেড বা পানি শূন্য করে তোলে।

খাবারের তালিকায় আনুন বদল

ভারী এবং তৈলাক্ত খাবার এই গরমে শরীরের তাপমাত্রা আরও বাড়িয়ে দেয় এবং হজমে সমস্যা করে।

​হালকা খাবার: সহজে হজম হয় এমন খাবার যেমন: পাতলা ঝোল, সবজি ও ভাত খাবেন।

ফলমূল ও শাকসবজি: তরমুজ, শসা, বাঙি, আনারস, লাউ, ঝিঙের মতো জলীয় অংশ বেশি থাকা ফল ও সবজি বেশি করে খান।

বাসি খাবারকে ‘না’: গরমে খাবার খুব দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। তাই ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ ও ফুড পয়জনিং এড়াতে সবসময় তাজা ও ফ্রেশ খাবার খাওয়ার চেষ্টা করুন।

image

পোশাক ও সাজগোজ হোক আরামদায়ক

​গরমে ফ্যাশনের চেয়ে আরামকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত।

ফেব্রিক নির্বাচন: সুতি বা লিনেনের মতো হালকা ও ঢিলেঢালা পোশাক পরুন। এগুলো ঘাম শুষে নেয় এবং শরীরে বাতাস চলাচলে সাহায্য করে।

রঙের ছোঁয়া: কালোর মতো গাঢ় রঙ তাপ শোষণ করে। তাই গরমে সাদা, অফ-হোয়াইট, আকাশি বা যেকোনো হালকা রঙের পোশাক বেছে নিন।

রোদ থেকে বাঁচুন (রোদচশমা ও ছাতা)

প্রয়োজন ছাড়া দুপুরের কড়া রোদে (বেলা ১১টা থেকে বিকেল ৪টা) বাইরে বের না হওয়াই ভালো। যদি বের হতেই হয়, তবে কিছু প্রস্তুতি রাখুন:

রোদ সুরক্ষাকবচ: বাইরে বের হওয়ার সময় অবশ্যই ছাতা, সানগ্লাস (রোদচশমা) এবং ওড়না বা টুপি ব্যবহার করুন।

সানস্ক্রিন: ত্বকের সুরক্ষায় বাইরে বের হওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে অন্তত এসপিএফ ৩০+ সমৃদ্ধ সানস্ক্রিন মেখে নিন।

image

ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও বিশ্রাম

শরীর ঠাণ্ডা ও জীবাণুমুক্ত রাখতে পরিচ্ছন্নতার বিকল্প নেই।

নিয়মিত গোসল: দিনে অন্তত একবার বা প্রয়োজনে দুবার স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতে গোসল করুন। তবে বাইরে থেকে ঘেমে এসেই সঙ্গে সঙ্গে ফ্রিজের ঠাণ্ডা পানি খাওয়া বা গোসল করা যাবে না। কিছুক্ষণ ফ্যানের নিচে জিরিয়ে নিয়ে শরীরের তাপমাত্রা স্বাভাবিক হলে তারপর পানি স্পর্শ করুন।

পর্যাপ্ত ঘুম: গরমের ক্লান্তির কারণে শরীর দ্রুত অবশ লাগে। তাই রাতে ৭-৮ ঘণ্টার নিশ্চিন্ত ঘুম শরীরকে রিচার্জ করতে সাহায্য করবে।

একটি জরুরি সতর্কতা (হিট স্ট্রোক):

প্রচণ্ড গরমে যদি মাথা ঘোরা, তীব্র মাথাব্যথা, বমি বমি ভাব, শরীর অতিরিক্ত ঘেমে যাওয়া বা হঠাৎ ঘাম বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তবে দ্রুত কোনো ঠাণ্ডা বা ছায়াযুক্ত স্থানে চলে যান। চোখে-মুখে জলের ঝাপটা দিন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।

আরও পড়ুন

শেষ কথা, প্রকৃতির নিয়মেই গরম আসবে, কিন্তু একটু সচেতনতা আর জীবনযাত্রায় সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই দাবদাহেও নিজেকে সুস্থ ও ফুরফুরে রাখা সম্ভব। নিজে ভালো থাকুন, পরিবারের সবাইকে সুস্থ রাখুন!

আরটিভি/এসকে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে আর নারীদের বাম দিকে কেন থাকে? এ বিষয়ে কি কখনো ভেবে দেখেছেন? এ বিষয়ে অবশ্য কেউই তেমন নিশ্চিত নন। তবে অনেক ইতিহাসবিদের ধারণা, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে থাকার কারণ হলো পোশাকে অস্ত্র রাখার ব্যবস্থার মাধ্যমেই এ ঘটনার চল হয়। হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ইতিহাসবিদ ড. ক্লো চ্যাপিন টাইমের সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে জানান, পুরুষের পোশাকের বোতাম ডান দিকে থাকার এই শৈলী সামরিক বাহিনী থেকে আসতে পারে। শার্টে বন্দুক লুকানো থাকলে এক্ষেত্রে হাত দ্রুত পৌঁছানো সহজ। বোতামগুলো ডানদিকে থাকলে ডান হাতটি শার্ট বা জ্যাকেটে আরও সহজভাবে ঢুকিয়ে বের করা যায়। আবার কিছু পণ্ডিত যুক্তি দেন, তরবারি রাখার সঙ্গেও এর সম্পর্ক থাকতে পারে। এ জেন্টলম্যান’স ওয়ারড্রোবের পল কিয়ার্স গার্ডিয়ানকে জানান, বেশিরভাগ মানুষই তলোয়ার সব সময় বাম দিকে পরিধান করেন, যাতে এটি ডান হাতে ধরা যায় সহজেই।’ বেশিরভাগ ইতিহাসবিদ ও গবেষকরা জানিয়েছেন, পুরুষের শার্টের বোতাম ডানদিকে হওয়ার কারণ হলো অস্ত্র সম্পর্কিত। অর্থাৎ শার্টের বোতাম ডানপাশে হলে অস্ত্র বাম পাশে রাখলে ডান হাত দিয়ে তা সহজেই বের করা যায়। তাহলে নারীদের পোশাকের বোতাম বাম দিকে কেন? শার্ট ব্র্যান্ড এলিজাবেথ ও ক্লার্কের প্রতিষ্ঠাতা মেলানি মুরের মতে, ১৩ শতকে যখন বোতাম আবিষ্কৃত হয়েছিল, তখন ধনী নারীদের পোশাক বেশ ভারি হত। বিশেষ করে ওই সময় ধনী নারীরা দাসীর সাহায্য ছাড়া নিজেরা পোশাক পরতে পারতেন না। সেক্ষেত্রে পোশাকের বোতাম লাগানোর কাজও দাসীরাই সারতেন। এজন্য বাম পাশে বোতাম লাগানো হত, যাতে সেগুলো সহজেই লাগাতে পারেন দাসীরা। তখন থেকেই হয়তো এটি ধারণা প্রচলিত। আরেকটি তত্ত্ব হলো, বেশিরভাগ নারীই বাম হাতে বাচ্চাদের ধরেন। এক্ষেত্রে যাতে তাদের বুকের দুধ খাওয়ানো সহজ হয় এজনই শার্টের বোতাম বাম দিকে রাখা হয়। যাতে জরুরি মুহূর্তে তারা সহজেই বোতাম খুলতে পারেন। তবে অতীতের এই ধারণাকে এখন তোয়াক্কা করেন না বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফ্যাশন সংস্থা। এখন নারীদের শার্টের বোতামও ডান দিকে রাখা হয়। সূত্র: ইনসাইডার/টাইম/গার্ডিয়ান আরটিভি/এসআর
নারী-পুরুষের শার্টের বোতাম বিপরীত দিকে থাকে কেন?
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
স্বপ্ন মানুষকে শুধু ভবিষ্যতের কল্পনায় ডুবিয়ে রাখে না, বরং সেই স্বপ্ন পূরণের পথও দেখায়।
আজ স্বপ্ন দেখার দিন
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে হায়ালুরোনিক অ্যাসিডযুক্ত সিরামের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে।
ত্বকের যত্নে হায়ালুরোনিক অ্যাসিড সিরাম মাখার সঠিক নিয়ম 
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
ফিটনেস, ত্বকের যত্ন, স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে সম্পর্ক—সব বিষয়েই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের পরামর্শ পাওয়া যায়।
রিলস ভিডিও দেখে সঙ্গীকে বিচার করছেন? সম্পর্কে আসতে পারে বিপদ
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস (PCOS) এখন অনেক নারীরই পরিচিত সমস্যা।
পিসিওএস নিয়ন্ত্রণে রাতে যে ৩ অভ্যাস জরুরি
আরও পড়ুন
গরম গরম চা-কফি পান করছেন? ভয়ংকর ঝুঁকির কথা জানাল গবেষণা
ঢাকায় বৃষ্টি-বজ্রবৃষ্টির সম্ভাবনা, কমছে না গরম
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখতে খাবেন যে ৪ ডাল
তীব্র গরমে ব্যায়াম করবেন যেভাবে, শরীর থাকবে নিরাপদ