ঢাকা সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩

অফিসে কাজের কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে নিলে কী করবেন

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুলাই ২০২৬, ০৯:১০ এএম
অফিসে কাজের কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে নিলে কী করবেন । ছবি: সংগৃহীত

অফিসে নতুন কোনো পরিকল্পনা করলেন, গুরুত্বপূর্ণ একটি কাজ শেষ করলেন কিংবা জটিল সমস্যার সমাধান বের করলেন। কিন্তু মিটিংয়ে গিয়ে দেখলেন, আপনার অবদানের কথা কেউ বলল না। বরং অন্য একজন সেই কাজের কৃতিত্ব নিয়ে প্রশংসা পাচ্ছেন। এমন পরিস্থিতি কর্মজীবনে অনেকের সঙ্গেই ঘটে। কখনও ইচ্ছাকৃতভাবে, আবার কখনও ভুল বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতির কারণে এমন হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে আবেগের বশে সিদ্ধান্ত না নিয়ে ঠান্ডা মাথায় পদক্ষেপ নেওয়াই সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়

নিজের কাজের কৃতিত্ব অন্য কেউ নিয়ে নিলে রাগ হওয়া স্বাভাবিক। তবে মিটিংয়ের মাঝখানে তর্কে জড়িয়ে পড়া বা প্রকাশ্যে কাউকে দোষারোপ করলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। আগে বুঝে নেওয়ার চেষ্টা করুন ঘটনাটি ইচ্ছাকৃত, নাকি ভুলবশত ঘটেছে।

নিজের কাজের প্রমাণ সংরক্ষণ করুন

ই-মেইল, কাজের নথি, বৈঠকের নোট কিংবা বার্তাগুলো সংরক্ষণ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এতে প্রয়োজনে সহজেই বোঝানো যাবে, কোন কাজটি আপনার ছিল। বিশেষ করে পদোন্নতি বা বার্ষিক মূল্যায়নের সময় এসব তথ্য খুবই কাজে আসে।

নিজের কাজ নিজেই তুলে ধরুন

অনেকেই ভাবেন, ভালো কাজ করলে সবাই নিজে থেকেই তা দেখে নেবে। বাস্তবে সব সময় এমনটা হয় না। তাই কোনো কাজ শেষ হলে সংক্ষেপে জানিয়ে দিন, আপনি কোন অংশে কাজ করেছেন এবং তার ফল কী হয়েছে। এটি আত্মপ্রচার নয়, বরং পেশাগত দায়িত্বেরই অংশ।

আরও পড়ুন

ব্যক্তিগতভাবে কথা বলুন

যদি মনে হয় কোনো সহকর্মী আপনার কাজের কৃতিত্ব নিয়েছেন, তাহলে সবার সামনে নয়, ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টি নিয়ে কথা বলুন। অনেক সময় মানুষ বুঝতেই পারেন না যে অন্যের অবদানের কথা উল্লেখ করতে ভুল হয়েছে।

শুরুতেই দায়িত্ব ভাগ করে নিন

দলগত কাজে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন, তা শুরুতেই স্পষ্ট করে নেওয়া জরুরি। এতে পরে সাফল্যের কৃতিত্ব নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা অনেকটাই কমে যায়।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে নিয়মিত জানান

শুধু কাজ শেষ হওয়ার পর নয়, কাজ চলাকালেও অগ্রগতির খবর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাকে জানানো উচিত। এতে আপনার দায়িত্ব ও অবদান সম্পর্কে তাঁর পরিষ্কার ধারণা থাকবে।

একবার, নাকি বারবার?

একবার ভুলে আপনার নাম বাদ পড়তেই পারে। কিন্তু যদি একই ঘটনা বারবার ঘটে, তাহলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন। খেয়াল করুন, শুধু আপনার ক্ষেত্রেই এমন হচ্ছে, নাকি অন্যদের সঙ্গেও একই আচরণ করা হচ্ছে।

পেশাগত যোগাযোগ বাড়ান

শুধু একজন নয়, বিভিন্ন সহকর্মী ও বিভাগের সঙ্গে কাজের যোগাযোগ রাখুন। এতে আপনার কাজ সম্পর্কে অনেকেই জানবেন এবং পরে কেউ কৃতিত্ব নেওয়ার চেষ্টা করলে বিষয়টি সহজেই স্পষ্ট হবে।

সব বিষয়ে লড়াই নয়

সব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বিরোধে জড়ানো প্রয়োজন নেই। যদি দেখেন সামগ্রিকভাবে আপনার কাজের মূল্যায়ন হচ্ছে এবং ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন, তাহলে সেটি এড়িয়ে যাওয়াই ভালো।

প্রয়োজনে আনুষ্ঠানিকভাবে জানান

একই ঘটনা যদি বারবার ঘটে এবং ব্যক্তিগতভাবে কথা বলেও সমাধান না হয়, তাহলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বা মানবসম্পদ বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করা যেতে পারে। তবে অভিযোগ করার আগে প্রয়োজনীয় তথ্য ও প্রমাণ প্রস্তুত রাখুন। কারণ এ ধরনের আলোচনায় আবেগের চেয়ে তথ্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কর্মক্ষেত্রে নিজের কাজের স্বীকৃতি নিশ্চিত করতে শুধু দক্ষ হলেই হবে না, প্রয়োজন সঠিক যোগাযোগ, দায়িত্বের স্বচ্ছতা এবং নিজের অবদান পেশাদারভাবে তুলে ধরার অভ্যাস। এতে ভুল বোঝাবুঝি কমবে, পাশাপাশি আপনার পেশাগত বিশ্বাসযোগ্যতাও আরও শক্তিশালী হবে।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
বর্তমান সময়ে আমাদের জীবনযাপনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে মোবাইল ফোন। ফোন ছাড়া একটি দিন কাটানোও এখন অসম্ভব হয়ে উঠেছে। ফোন ছাড়া কিছু সময় থাকলেই কী যেন নেই, কী যেন নেই মনে হতে থাকে। অভ্যাসবশত অনেকে টয়লেটেও ফোন নিয়ে যান।  বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টয়লেটে ফোন নিয়ে যাওয়া বা টয়লেটে গিয়ে ফোন ব্যবহার করা মোটেও স্বাস্থ্যসম্মত অভ্যাস নয়। এই অভ্যাস আপনার অজান্তেই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক বিপদ। বিশেষ করে টয়লেটের কমোডে বসে মোবাইল ব্যবহার করা একদমই ঠিক নয়। এছাড়া ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও বিষয়টি নিন্দনীয় ও অপছন্দনীয়। ওয়াশরুমে বসে মোবাইলে, অন্য কোনো মাধ্যমে বা সরাসরি কথাবার্তা বলা ইসলামী শিষ্টাচারের পরিপন্থী এবং মাকরূহ বা অপছন্দনীয় কাজ। ওয়াশরুম হলো অপবিত্রতা ত্যাগের স্থান, এখানে কথা বলা অনুচিত। তবে ওয়াশরুমে বসে থাকা অবস্থায় যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন দেখা দেয়, যেমন, ওয়াশরুমের পানি শেষ হয়ে গেল বা টিস্যু নেই এমন অবস্থায় সাহায্য নেওয়ার জন্য কাউকে ডেকে বলা যাবে। মূলত ওয়াশরুমে কথা বলা হারাম নয়, তবে বিষয়টিকে মাকরূহ বলা হয় এবং এ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। কিন্তু ওয়াশরুমে কথা বলার সময় খেয়াল রাখতে হবে, যেন আল্লাহ তায়ালার কোনো জাতি (সত্তা) বা সিফাতি (গুণবাচক) নাম, জিকিরের কোনো কালিমা কিংবা দোয়া, কোরআন, হাদিস বা এমন কোনো কাগজ যাতে আল্লাহর নাম, নবী বা ফেরেশতাদের নামের শব্দ উচ্চারণ করা যাবে না। আরটিভি/এসআর
ওয়াশরুমে বসে ফোনে কথা বলা যাবে?
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
হাড়ের গঠন ও শক্তি বজায় রাখতে ক্যালসিয়াম, ভিটামিন ডি ও পর্যাপ্ত প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব পুষ্টির ঘাটতি হলে হাড় দুর্বল হয়ে যেতে পারে। বাড়তে পারে অস্টিওপোরোসিস বা হাড়ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি।
হাড় মজবুত রাখতে জরুরি তিন পুষ্টি, খাদ্যতালিকায় রাখবেন যেসব খাবার
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
সারাদিন মুঠোফোনের বার্তা, কাজের চাপ, বন্ধুদের সঙ্গে কথাবার্তা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অন্যের জীবন দেখতে দেখতে ক্লান্ত? তাহলে আজ একটু বিরতি নিতেই পারেন।
আজ নিজের সঙ্গে আড্ডার দিন
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
ওজন কমানোর চেষ্টা করছেন? নাশতায় মাখানা নাকি পপকর্ন কোনটি বেছে নেবেন, তা নিয়ে দ্বিধায় পড়েন অনেকেই। দুটিই হতে পারে স্বাস্থ্যকর নাশতার বিকল্প।
ওজন কমাতে মাখানা নাকি পপকর্ন, কোনটি বেশি উপকারী
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
স্মৃতিশক্তি ধরে রাখা ও আলঝেইমারের ঝুঁকি কমাতে অনেকেই ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে নতুন এক ক্লিনিক্যাল পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাপ্লিমেন্ট গ্রহণে রক্ত ও মস্তিষ্কের তরলে ওমেগা-৩-এর মাত্রা বাড়লেও স্মৃতিশক্তি, চিন্তাশক্তি কিংবা মস্তিষ্কের স্মৃতিসংশ্লিষ্ট অংশের আকারে উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়নি।
স্মৃতিশক্তি বাড়াতে ওমেগা-৩ সাপ্লিমেন্ট কি আসলেই কাজে আসে
আরও পড়ুন
অসুস্থ হয়েও ছুটি না নিয়ে অফিসে যান? কারণ জানাল গবেষণা
ভুঁড়ি কমাতে ছোট্ট বদল আনুন অফিসের নাশতায় 
মাত্র ৫ মিনিটের ছোট অভ্যাসেই চাঙ্গা থাকুন অফিসে
৩ হাজার মাইল পাড়ি দিয়ে অফিসে গিয়েও সুখী তরুণী