আপনি কি নিজেকে সত্যিই ভালোবাসেন? প্রশ্নটি শুনতে সহজ হলেও এর উত্তর খুঁজতে গিয়ে অনেকেই থেমে যান। কারণ বেশিরভাগ মানুষেরই মনে হয়, তারা অন্যদের যতটা গুরুত্ব দেন, নিজের জন্য ততটা করেন না। অথচ বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজের প্রতি ভালোবাসা ও সম্মানই মানসিক সুস্থতার অন্যতম ভিত্তি।
অনেকেই নিজের ভালো দিকের চেয়ে দুর্বলতা নিয়েই বেশি ভাবেন। অন্যের সঙ্গে তুলনা, সমালোচনা কিংবা সমাজের তৈরি সৌন্দর্য ও সফলতার মানদণ্ড মানুষকে নিজের প্রতি আস্থা হারাতে বাধ্য করে। ফলে নিজের প্রতি ভালোবাসার বদলে জন্ম নেয় অপরাধবোধ ও আত্মসমালোচনা।
কেন নিজেকে ভালোবাসা কঠিন হয়ে যায়?
বিশেষজ্ঞদের মতে, ছোটবেলা থেকে পাওয়া অভিজ্ঞতা, পরিবারের আচরণ, আশপাশের মানুষের নেতিবাচক মন্তব্য এবং সমাজের চাপ—সব মিলিয়ে অনেকের আত্মবিশ্বাস কমে যায়। তখন নিজের ভালো দিকগুলো আর চোখে পড়ে না।
এ ছাড়া বেশিরভাগ মানুষ ইতিবাচক কথার চেয়ে নেতিবাচক মন্তব্য বেশি মনে রাখেন। ফলে নিজের ভুল নিয়েই বেশি ভাবতে থাকেন। এতে নিজের প্রতি ভালোবাসা আরও কমে যায়।
অনেকেই নিজের ইচ্ছা, অনুভূতি বা চাওয়া-পাওয়াকে গুরুত্ব না দিয়ে অন্যের প্রত্যাশা অনুযায়ী জীবন চালাতে থাকেন। এতে ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস নষ্ট হয় এবং নিজের পরিচয়ও হারিয়ে যেতে শুরু করে।
কীভাবে শুরু করবেন নিজেকে ভালোবাসা?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রথমেই নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করা যাবে না। মন খারাপ হলে সেটি স্বীকার করুন, কষ্ট পেলে নিজের অনুভূতিকে গুরুত্ব দিন। নিজের সঙ্গে সৎ থাকাই আত্মসম্মান গড়ে তোলার প্রথম ধাপ।
কঠিন সময় এলে নিজেকে দোষারোপ না করে পরিস্থিতি বদলানোর ইচ্ছা রাখতে হবে। নিজের কাছে নিজেই বলুন, সময় খারাপ গেলেও নিজের প্রতি ভালোবাসা কমবে না।
জীবনের সবকিছু নিজের নিয়ন্ত্রণে থাকে না। তাই যেসব বাস্তবতা বদলানো সম্ভব নয়, সেগুলো মেনে নেওয়াও জরুরি। অন্য কেউ পাশে না থাকলেও নিজের প্রতি সম্মান ও বিশ্বাস ধরে রাখতে হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিজেকে ভালোবাসা কোনো স্বার্থপরতা নয়। বরং এটি এমন একটি মানসিক শক্তি, যা আত্মবিশ্বাস বাড়ায়, ইতিবাচকভাবে ভাবতে শেখায় এবং জীবনের কঠিন সময়েও সামনে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়।
আরটিভি/জেএমএ




