শরীর সুস্থ রাখতে পানির বিকল্প নেই। শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ, হজম, পুষ্টি পরিবহন থেকে শুরু করে কিডনির স্বাভাবিক কার্যক্রম সবকিছুর সঙ্গেই জড়িত পর্যাপ্ত পানি পান। তবে শুধু বেশি পানি পান করলেই হবে না, সঠিক নিয়মে পান করাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, পানি পানের সময় কিছু সাধারণ ভুল দীর্ঘমেয়াদে শরীরের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে নিচের চারটি অভ্যাস এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা।
এক নিঃশ্বাসে দ্রুত পানি পান
অনেকেই তৃষ্ণা পেলে খুব দ্রুত এক গ্লাস পানি পান করে ফেলেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এভাবে পানি পান না করে ধীরে ধীরে ছোট ছোট চুমুকে পান করাই ভালো। এতে শরীর সহজে পানি শোষণ করতে পারে এবং পেট ফাঁপা বা অস্বস্তির ঝুঁকিও কম থাকে।
অতিরিক্ত ঠান্ডা বা খুব গরম পানি পান
গরমের দিনে বরফ ঠান্ডা পানি কিংবা খুব গরম পানি পান করার অভ্যাস অনেকেরই রয়েছে। তবে অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানি শরীরকে তাপমাত্রা সামঞ্জস্য করতে বাড়তি পরিশ্রম করতে বাধ্য করে। তাই কক্ষ তাপমাত্রার পানি পান করাই সবচেয়ে উপযোগী বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
খাবারের সময় অতিরিক্ত পানি পান
খাবারের মাঝখানে বারবার বেশি পানি পান করলে কিছু মানুষের ক্ষেত্রে হজমে অস্বস্তি বা অম্বলের সমস্যা বাড়তে পারে। যদিও এ বিষয়ে গবেষণার ফল একেবারে অভিন্ন নয়, তবুও যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, তারা খাবারের আগে বা কিছুক্ষণ পরে পানি পান করলে বেশি স্বস্তি পেতে পারেন। খাবারের সময় প্রয়োজন হলে অল্প পরিমাণ পানি পান করাই যথেষ্ট।
প্লাস্টিকের বোতলে দীর্ঘ সময় পানি সংরক্ষণ
দীর্ঘ সময় প্লাস্টিকের বোতলে পানি রাখা, বিশেষ করে রোদ বা গরম পরিবেশে, স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এতে কিছু প্লাস্টিক কণা (মাইক্রোপ্লাস্টিক) ও রাসায়নিক পানিতে মিশে যেতে পারে। তাই সম্ভব হলে কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ব্যবহার করাই নিরাপদ।
অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন আট গ্লাস পানি পান করা বাধ্যতামূলক। তবে বাস্তবে পানির প্রয়োজন নির্ভর করে বয়স, ওজন, আবহাওয়া, শারীরিক পরিশ্রম এবং ব্যক্তির স্বাস্থ্যগত অবস্থার ওপর।
তৃষ্ণা লাগা শরীরের স্বাভাবিক সংকেত। পাশাপাশি প্রস্রাবের রং যদি গাঢ় হলুদ হয়, তবে তা শরীরে পানির ঘাটতির ইঙ্গিত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্থ থাকতে শুধু বেশি পানি পান নয়, বরং সঠিক নিয়মে পানি পান করার অভ্যাস গড়ে তোলাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধীরে ধীরে পানি পান করা, অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম পানি এড়িয়ে চলা, খাবারের সময় অতিরিক্ত পানি না খাওয়া এবং প্লাস্টিকের বোতল ব্যবহারে সতর্ক থাকলে শরীর থাকবে আরও সতেজ, হাইড্রেটেড ও সুস্থ।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
আরটিভি/এসকে




