ঢাকা শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

জেনে নিন পেয়ারার রসের গুণাগুণ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৬ জুলাই ২০২৬, ১১:৩২ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পেয়ারা আামাদের দেশের পরিচিত একটি ফল। এটি নিয়ে আমাদের খুব বেশি আগ্রহ কিংবা অনাগ্রহ, কোনোটাই থাকে না। এই নীরবে খাবারের তালিকায় জায়গা করে নেওয়া ফলটির রয়েছে অনেক স্বাস্থ্য উপকারিতা। আপনার মনে কি কখনো প্রশ্ন জেগেছে যে পেয়ারার রস শরীরে আয়রনের মাত্রা বাড়াতে সাহায্য করতে পারে কি না? সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে পেয়ারার রস পান করা আয়রন সাপ্লিমেন্টের কার্যকারিতা বাড়াতে পারে।

গবেষকরা দেখেছেন যে পেয়ারার রস পান করলে তা আয়রন পরিপূরককে আরও কার্যকরীভাবে কাজ করতে সাহায্য করতে পারে, যা রক্তস্বল্পতার বিরুদ্ধে লড়াই করার একটি সহজ এবং সাশ্রয়ী উপায়। ‘বিএমজে নিউট্রিশন, প্রিভেনশন অ্যান্ড হেলথ’ জার্নালে প্রকাশিত গবেষণার নতুন পর্যালোচনা থেকে এই ফলাফল পাওয়া গেছে। গবেষকরা বলছেন যে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ফল স্বাস্থ্যের উন্নতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে, বিশেষ করে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে, যেখানে আয়রনের ঘাটতি বেশি দেখা যায়।

কেন পেয়ারা আয়রন পরিপূরক সুবিধা বাড়াতে পারে

রক্তস্বল্পতা এমন একটি অবস্থা যা শরীরে পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যকর লোহিত রক্তকণিকা বা হিমোগ্লোবিন না থাকলে বিকশিত হয়। হিমোগ্লোবিন হলো লোহিত রক্তকণিকার একটি প্রোটিন যা শরীরের চারপাশে অক্সিজেন বহন করে। রক্তস্বল্পতায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথা ঘোরা এবং শ্বাসকষ্ট অনুভব করেন। এই অবস্থা বিশেষ করে গর্ভবতী নারী এবং কিশোরী মেয়েদের মধ্যে সাধারণ কারণ তাদের শরীরে বেশি পরিমাণে আয়রন প্রয়োজন।

আরও পড়ুন

গবেষকরা কী খুঁজে পেয়েছেন

পেয়ারার রস হিমোগ্লোবিনের মাত্রা উন্নত করতে পারে কি না তা খুঁজে বের করতে গবেষকরা ইন্দোনেশিয়ায় পূর্বে পরিচালিত ১৭টি গবেষণা অধ্যয়ন করেছেন। গবেষণায় কিশোরী এবং গর্ভবতী মহিলা উভয়ই সম্পৃক্ত ছিল, যাদের মধ্যে অনেকেই আয়রন সাপ্লিমেন্টও গ্রহণ করছিলেন। গবেষকা দেখেছেন যে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে যারা পেয়ারার রস পান করেছে তাদের হিমোগ্লোবিনের মাত্রায় লক্ষণীয় উন্নতি হয়েছে।

পর্যালোচনায় দেখা গেছে যে, নিয়মিত পেয়ারার রস খাওয়ার পর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা গড়ে ১.৭১ গ্রাম/ডিএল বেড়ে যায়। গর্ভবতী মহিলাদের গড় ১.৮৪ গ্রাম/ডিএল বৃদ্ধি পেয়েছে, কিশোরী মেয়েদের গড় ১.৫২ গ্রাম/ডিএল বৃদ্ধি পেয়েছে। গবেষকরা বলছেন যে এই উন্নতিগুলো মানুষকে হালকা বা মাঝারি অ্যানিমিয়া থেকে স্বাস্থ্যকর পরিসরে নিয়ে যেতে সাহায্য করতে পারে।

কেন পেয়ারা আয়রন পরিপূরক সুবিধা বাড়াতে পারে

পেয়ারা এত কার্যকরী হওয়ার একটি কারণ হলো এর অত্যন্ত উচ্চ ভিটামিন সি উপাদান। গবেষকদের মতে, পেয়ারায় কমলার চেয়ে চারগুণ বেশি ভিটামিন সি থাকে। ভিটামিন সি শরীরকে ভালোভাবে আয়রন শোষণ করতে সাহায্য করে, বিশেষ করে উদ্ভিদ-ভিত্তিক খাবার থেকে। পেয়ারায় ভিটামিন এ, ফোলেট, ফাইবার এবং অল্প পরিমাণে আয়রন রয়েছে।

আরটিভি/এমএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
সকালের নাশতায় ভাত খাওয়ার অভ্যাস অনেক বাঙালিরই। কেউ আগের রাতের বেঁচে যাওয়া ভাত খান, আবার কেউ গরম ভাতের সঙ্গে ডিমভাজি কিংবা সবজি খেয়ে দিন শুরু করেন।
সকালে ভাত খাওয়া কি স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর?
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
বয়স বাড়ার সঙ্গে শরীরে নানা পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে কারও কারও ক্ষেত্রে বয়সের তুলনায় দ্রুত দেখা দিতে পারে শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়া, ত্বকে বলিরেখা কিংবা ঘুমের সমস্যা।
বয়সের আগেই বুড়িয়ে যাচ্ছেন, মিলিয়ে নিন ৮ লক্ষণ
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
লবঙ্গ শুধু রান্নার স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়ায় না, হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতেও সহায়ক হতে পারে। এতে থাকা ম্যাঙ্গানিজ, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের বিভিন্ন কার্যক্রমে ভূমিকা রাখে। তবে হাড় মজবুত রাখতে লবঙ্গের কার্যকারিতা নিয়ে মানুষের ওপর আরও গবেষণা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিষয়ক ওয়েবসাইট হেলথলাইন-এ প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, লবঙ্গ একটি বহুল ব্যবহৃত মসলা। আস্ত কিংবা গুঁড়া দুইভাবেই এটি খাবারে ব্যবহার করা যায়। মাংসের পদ, গরম পানীয়, কেক ও বিস্কুটে স্বাদ ও সুগন্ধ বাড়াতে লবঙ্গের ব্যবহার প্রচলিত। রান্নায় ব্যবহারের পাশাপাশি এর সম্ভাব্য স্বাস্থ্যগত উপকারিতা নিয়েও গবেষণা হয়েছে। হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে পারে হাড়ের ঘনত্ব কমে গেলে অস্টিওপোরোসিস বা হাড় ক্ষয়জনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ে। এতে হাড় দুর্বল হয়ে পড়ে এবং সহজে ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। প্রাণীর ওপর পরিচালিত কয়েকটি গবেষণায় দেখা গেছে, লবঙ্গ হাড়ের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। লবঙ্গে রয়েছে ম্যাঙ্গানিজ, যা হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও স্বাস্থ্যের জন্য প্রয়োজনীয় একটি খনিজ উপাদান। পাশাপাশি এতে থাকা অন্যান্য পুষ্টি উপাদান শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে লবঙ্গ খেলে মানুষের হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের উৎস লবঙ্গ লবঙ্গে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা শরীরে অক্সিডেটিভ স্ট্রেস বা জারণজনিত চাপ কমাতে সাহায্য করতে পারে। এই চাপ কোষের ক্ষতির সঙ্গে সম্পর্কিত এবং দীর্ঘমেয়াদি বিভিন্ন স্বাস্থ্যসমস্যার বিকাশে ভূমিকা রাখতে পারে। লবঙ্গের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান ইউজেনল। এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের জন্য পরিচিত। সুষম খাদ্যতালিকায় লবঙ্গের পাশাপাশি ফলমূল, শাকসবজি ও অন্যান্য পুষ্টিকর খাবার রাখলে সামগ্রিক স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়তা করতে পারে। শুধু লবঙ্গের ওপর নির্ভর নয় হাড় মজবুত রাখতে ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ, নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন গুরুত্বপূর্ণ। লবঙ্গের সম্ভাব্য উপকারিতা থাকলেও একে হাড় ক্ষয় প্রতিরোধ বা চিকিৎসার বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, লবঙ্গের মাধ্যমে মানুষের হাড়ের স্বাস্থ্য কতটা উন্নত হতে পারে, তা নিশ্চিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। তাই হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু একটি মসলার ওপর নির্ভর না করে সুষম খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি। আরটিভি/এসকে
হাড় মজবুত রাখতে সহায়ক হতে পারে লবঙ্গ, বলছে গবেষণা
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
দশমী মানেই দেবীবরণের আবেগ, মিষ্টিমুখ আর লাল সিঁদুরে রাঙা একরাশ আনন্দ।
সিঁদুর খেলার পর ত্বকের যত্ন নেবেন যেভাবে
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
পড়াশোনা, পরীক্ষা কিংবা কাজের ব্যস্ততায় অনেক সময় পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর প্রভাব পড়ে শরীর ও চেহারায়। বিশেষ করে চোখের নিচে কালচে দাগ, ফোলা ভাব কিংবা সূক্ষ্ম ভাঁজ দেখা দিতে পারে।
চোখের নিচে কালি পড়ে কেন, কমানোর উপায় কী?
আরও পড়ুন
সবচেয়ে বেশি জাহান্নামে যাবে মিডিয়া কর্মী: উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা
হাসপাতালের টয়লেট নিজ হাতে পরিষ্কার করলেন এমপি খোকন
শিক্ষার্থীদের অদৃশ্য লড়াই ও মানসিক স্বাস্থ্যের সংকট: প্রয়োজন এক সহমর্মী ক্যাম্পাস
জবিতে মানসিক স্বাস্থ্যচর্চায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান উপাচার্যের