ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সয়াবিন তেলের পরিবর্তে সরিষার তেল খাওয়া কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সরিষার তেল, লাভ নাকি ক্ষতি?  । ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর ভেবে এখন অনেকেই রান্নায় সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। অনেকে মনে করেন, সরিষার তেলই সবচেয়ে ভালো। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষার তেলের কিছু উপকারিতা থাকলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ পরিবারে এখনো সয়াবিন তেলেই রান্না হয়। অন্যদিকে সূর্যমুখী, ক্যানোলা বা চালের তুষের তেল তুলনামূলক দামি হওয়ায় সবার নাগালের মধ্যে থাকে না। অনেকেই স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুই দিক বিবেচনা করে শর্ষের তেল বেছে নিচ্ছেন। শর্ষের তেলে রান্না করা ভর্তা, মাছ কিংবা মুড়ি—সবকিছুতেই আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেলে সয়াবিন তেলের তুলনায় সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম এবং উপকারী একধরনের চর্বির পরিমাণ বেশি। এ কারণে এটি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

তবে সরিষার তেলে ওমেগা–৩ ও ওমেগা–৬-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। যদিও বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে অন্যান্য খাবার থেকেই পর্যাপ্ত ওমেগা–৬ পাওয়া যায়। তাই পুষ্টিগুণের দিক থেকে শর্ষের তেলকে ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন

তবে সরিষার তেল নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। এর অন্যতম কারণ এতে থাকা ইরুসিক অ্যাসিড। প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদান হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এমন ক্ষতির শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরিষার তেল ব্যবহারে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হয়। কিছু দেশে রান্নায় এর ব্যবহার সীমিত, আবার দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শর্ষের তেল ব্যবহার করলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ খুব বেশি পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সরিষার তেল সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বা সম্পূর্ণ নিরাপদ—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

তবে শিশুদের প্রতিদিন সরিষার তেলে রান্না করা খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভেজালমুক্ত খাঁটি তেল ব্যবহার করাও জরুরি। কারণ ভেজাল তেল নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এছাড়া যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, শর্ষের তেলের ঝাঁজ তাদের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। হৃদ্‌রোগ, যকৃতের রোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত শর্ষের তেল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের শর্ষের তেলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মোট তেল গ্রহণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচের বেশি না হওয়াই ভালো। যে তেলই ব্যবহার করা হোক না কেন, পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
বিয়ের পর জীবনে আসে নানা পরিবর্তন। নতুন সংসার, দাম্পত্য সম্পর্ক, শ্বশুরবাড়ির পরিবেশ এবং বাড়তি দায়িত্বের সঙ্গে মানিয়ে নিতে গিয়ে নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হন অনেক নারী।
বিয়ের পর গুগলে কী খোঁজেন নারীরা, সামনে এল ৭ বিষয়
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
আর্থ্রাইটিস বা বাতজনিত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি, দ্রুত রোগ শনাক্তকরণ এবং যথাযথ চিকিৎসার গুরুত্ব তুলে ধরতে আজ ১২ অক্টোবর পালিত হচ্ছে বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস।
আজ বিশ্ব আর্থ্রাইটিস দিবস
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
একবার স্থায়ী দাঁত পড়ে গেলে বা তুলে ফেলতে হলে সাধারণত আর প্রাকৃতিকভাবে সেই দাঁত ফিরে আসে না। এ অবস্থায় ডেন্টাল ইমপ্ল্যান্ট, ব্রিজ কিংবা কৃত্রিম দাঁতের ওপর নির্ভর করতে হয়।
দাঁত পড়ে গেলে আর চিন্তা নেই, ওষুধেই গজাবে নতুন দাঁত!
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
লিভারের রোগ সব সময় স্পষ্ট উপসর্গ নিয়ে দেখা দেয় না। প্রাথমিক পর্যায়ে অনেকের শরীরে তেমন কোনো লক্ষণই প্রকাশ পায় না। ফলে অজান্তেই বাড়তে পারে রোগের জটিলতা।
লিভারের রোগের লক্ষণ মিলতে পারে হাত-পায়ে, যে ৫ পরিবর্তনে সতর্ক হবেন
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
নারীদের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা ও অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবিটিস, মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু অটোইমিউন রোগ কিডনির ক্ষতির কারণ হতে পারে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক ক্ষেত্রে স্পষ্ট উপসর্গ না থাকায় রোগ শনাক্ত হতে দেরি হয়। তাই কিডনির সম্ভাব্য পাঁচটি লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবিটিস কিডনি রোগের অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক নারী নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা না করানোয় শরীরে এসব সমস্যার উপস্থিতি বুঝতে পারেন না। ফলে রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা শুরু হতে দেরি হয়, যা কিডনির পাশাপাশি শরীরের অন্যান্য অঙ্গের ওপরও প্রভাব ফেলতে পারে। এ ছাড়া নারীদের মধ্যে মূত্রনালির সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। লুপাস নেফ্রাইটিসের মতো অটোইমিউন রোগও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। গর্ভাবস্থায় উচ্চ রক্তচাপ, বারবার মূত্রনালির সংক্রমণ এবং কিছু ক্ষেত্রে পানিশূন্যতা কিডনির স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কিডনি রোগের যে ৫ লক্ষণে সতর্ক হবেন ১. সকালে চোখ-মুখ ফুলে যাওয়া ঘুম থেকে ওঠার পর চোখ ও মুখ অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যাওয়া কিডনির সমস্যার একটি সম্ভাব্য লক্ষণ। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে শরীরে অতিরিক্ত তরল জমতে পারে। এ ছাড়া প্রস্রাবের মাধ্যমে প্রোটিন বেরিয়ে গেলেও শরীরে ফোলাভাব দেখা দিতে পারে। নিয়মিত এমন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। ২. পা ও গোড়ালি ফুলে যাওয়া পা, গোড়ালি কিংবা পায়ের পাতা অস্বাভাবিকভাবে ফুলে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা ঠিক নয়। কিডনির কার্যকারিতা ব্যাহত হলে শরীরে তরল জমে এমন সমস্যা দেখা দিতে পারে। তবে দীর্ঘক্ষণ বসে থাকা, শিরার সমস্যা কিংবা হৃদ্‌রোগের কারণেও পা ফুলতে পারে। ৩. পেশিতে ব্যথা বা খিঁচুনি কিডনি শরীরে পানি ও বিভিন্ন খনিজের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কিডনির কার্যকারিতা কমে গেলে এ ভারসাম্য বিঘ্নিত হয়ে পেশিতে ব্যথা, দুর্বলতা বা খিঁচুনি দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন এমন সমস্যা চলতে থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। ৪. শ্বাসকষ্ট বা বুকে চাপ অনুভব করা কিডনির গুরুতর সমস্যায় শরীরে অতিরিক্ত তরল জমে ফুসফুসে প্রভাব ফেলতে পারে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দিতে পারে। বুকে চাপ বা ব্যথার সঙ্গে শ্বাসকষ্ট হলে তা জরুরি অবস্থার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। ৫. প্রস্রাবের ধরনে পরিবর্তন প্রস্রাবের পরিমাণ বা ধরনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন কিডনির সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে। রাতে বারবার প্রস্রাব হওয়া, প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ফেনাযুক্ত প্রস্রাব কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়া এসব লক্ষণ অবহেলা করা উচিত নয়। বিশেষ করে প্রস্রাবে রক্ত দেখা গেলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন। কিডনি সুস্থ রাখতে কী করবেন? কিডনি রোগের ঝুঁকি কমাতে নিয়মিত রক্তচাপ ও রক্তে শর্করার মাত্রা পরীক্ষা করা, সুষম খাবার খাওয়া, শারীরিকভাবে সক্রিয় থাকা এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি মূত্রনালির সংক্রমণ হলে যথাযথ চিকিৎসা নিতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া দীর্ঘদিন ব্যথানাশক ওষুধ সেবন থেকেও বিরত থাকা উচিত। তবে এসব লক্ষণ দেখা দিলেই কিডনি রোগ হয়েছে, এমন নয়। অন্য বিভিন্ন কারণেও একই ধরনের উপসর্গ হতে পারে। কিডনির অবস্থা জানতে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রক্তে ক্রিয়েটিনিন ও ইজিএফআর পরীক্ষা, প্রস্রাবে অ্যালবুমিন বা প্রোটিন পরীক্ষা করা প্রয়োজন হতে পারে। মনে রাখতে হবে, দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগের প্রাথমিক পর্যায়ে অনেক সময় কোনো লক্ষণই দেখা যায় না। তাই ঝুঁকিতে থাকা নারীদের নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো এবং অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি। সূত্র: আনন্দবাজার আরটিভি/এসকে
কিডনি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে নারীদের, সতর্ক হবেন যে ৫ লক্ষণে
আরও পড়ুন
সরিষার তেল তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত!
৫১৯ কোটি টাকার চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনছে সরকার
২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে, খরচ কত?
বাজারে গায়েব সয়াবিনের বোতল, সোনালী মুরগির রেকর্ড দাম