ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

সয়াবিন তেলের পরিবর্তে সরিষার তেল খাওয়া কতটা নিরাপদ

লাইফস্টাইল ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০২৬, ১০:৫৮ এএম
সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সরিষার তেল, লাভ নাকি ক্ষতি?  । ছবি: সংগৃহীত

স্বাস্থ্যকর ভেবে এখন অনেকেই রান্নায় সয়াবিন তেল বাদ দিয়ে সরিষার তেল ব্যবহার করছেন। অনেকে মনে করেন, সরিষার তেলই সবচেয়ে ভালো। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরিষার তেলের কিছু উপকারিতা থাকলেও এটি অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। পরিমিত ব্যবহারই সবচেয়ে নিরাপদ।

বাংলাদেশের বেশির ভাগ পরিবারে এখনো সয়াবিন তেলেই রান্না হয়। অন্যদিকে সূর্যমুখী, ক্যানোলা বা চালের তুষের তেল তুলনামূলক দামি হওয়ায় সবার নাগালের মধ্যে থাকে না। অনেকেই স্বাদ ও স্বাস্থ্য—দুই দিক বিবেচনা করে শর্ষের তেল বেছে নিচ্ছেন। শর্ষের তেলে রান্না করা ভর্তা, মাছ কিংবা মুড়ি—সবকিছুতেই আলাদা স্বাদ পাওয়া যায়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সরিষার তেলে সয়াবিন তেলের তুলনায় সম্পৃক্ত চর্বির পরিমাণ কম এবং উপকারী একধরনের চর্বির পরিমাণ বেশি। এ কারণে এটি হৃদ্‌যন্ত্রের জন্য উপকারী হতে পারে। পাশাপাশি রক্তের ক্ষতিকর কোলেস্টেরল ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও কিছুটা সহায়তা করতে পারে।

তবে সরিষার তেলে ওমেগা–৩ ও ওমেগা–৬-এর পরিমাণ তুলনামূলক কম। যদিও বর্তমান খাদ্যাভ্যাসে অন্যান্য খাবার থেকেই পর্যাপ্ত ওমেগা–৬ পাওয়া যায়। তাই পুষ্টিগুণের দিক থেকে শর্ষের তেলকে ভালো বিকল্প হিসেবে ধরা হয়।

আরও পড়ুন

তবে সরিষার তেল নিয়ে বিতর্কও রয়েছে। এর অন্যতম কারণ এতে থাকা ইরুসিক অ্যাসিড। প্রাণীর ওপর করা কিছু গবেষণায় দেখা গেছে, এই উপাদান হৃদ্‌যন্ত্রে চর্বি জমার ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে মানুষের ক্ষেত্রে এমন ক্ষতির শক্ত প্রমাণ এখনো পাওয়া যায়নি।

এ কারণে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরিষার তেল ব্যবহারে ভিন্ন নীতি অনুসরণ করা হয়। কিছু দেশে রান্নায় এর ব্যবহার সীমিত, আবার দক্ষিণ এশিয়ার বহু পরিবার প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে শর্ষের তেল ব্যবহার করলেও বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির প্রমাণ খুব বেশি পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী সরিষার তেল সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বা সম্পূর্ণ নিরাপদ—কোনোটিই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। তাই এটি পরিমিত পরিমাণে খাওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

তবে শিশুদের প্রতিদিন সরিষার তেলে রান্না করা খাবার না দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ভেজালমুক্ত খাঁটি তেল ব্যবহার করাও জরুরি। কারণ ভেজাল তেল নানা ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

এছাড়া যাদের হজমের সমস্যা রয়েছে, শর্ষের তেলের ঝাঁজ তাদের অস্বস্তি বাড়াতে পারে। হৃদ্‌রোগ, যকৃতের রোগ, দীর্ঘমেয়াদি কিডনির রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং গর্ভবতী নারীদের নিয়মিত শর্ষের তেল খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া উচিত। আর যাদের শর্ষের তেলে অ্যালার্জি রয়েছে, তাদের এটি এড়িয়ে চলাই নিরাপদ।

বিশেষজ্ঞরা আরও মনে করিয়ে দেন, সুস্থ থাকতে প্রতিদিন মোট তেল গ্রহণের পরিমাণ চার থেকে পাঁচ টেবিল চামচের বেশি না হওয়াই ভালো। যে তেলই ব্যবহার করা হোক না কেন, পরিমিত ব্যবহারই সুস্থ থাকার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।


আরটিভি/জেএমএ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
প্রেমে বিচ্ছেদ বা সম্পর্কের টানাপোড়েনে পুরুষরা নারীদের তুলনায় কম আবেগপ্রবণ, এমন প্রচলিত ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক গবেষণা। দেখা গেছে, সম্পর্কের অবনতি ঘটলে বা বিচ্ছেদ হলে পুরুষেরা নারীদের চেয়েও বেশি মানসিক যন্ত্রণা ও হৃদয়ভঙ্গের কষ্টে ভোগেন। যুক্তরাজ্যের ল্যাঙ্কাস্টার ইউনিভার্সিটির গবেষকদের নেতৃত্বে পরিচালিত বিজ্ঞানীদের একটি দল অনলাইনে সম্পর্ক বিষয়ক সহায়তা চাওয়া ১৮৪,০০০-এরও বেশি মানুষের কথোপকথনের 'বিগ ডাটা' বিশ্লেষণ করে এই তথ্য প্রকাশ করেছেন।  প্রাকৃতিক ভাষা প্রক্রিয়াকরণ পদ্ধতির মাধ্যমে বেনামী অনলাইন ফোরামের ডেটা বিশ্লেষণ করে সাধারণ মানুষের সম্পর্কের প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করা হয়। গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্কের টানাপোড়েনে সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে 'যোগাযোগের অভাব' বা যোগাযোগের জটিলতা। প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন এই সমস্যার কথা উল্লেখ করেছেন। এছাড়া প্রতি আটজনের মধ্যে একজন বিশ্বাসভঙ্গের অভিযোগ করেছেন। তবে সবচেয়ে বড় চমক এসেছে লিঙ্গভিত্তিক আবেগ প্রকাশের তথ্যে। গবেষকরা দেখেন, সমস্যার বিবরণ দেওয়ার চেয়ে সম্পর্কের কারণে তৈরি হওয়া ‘হৃদয়ভঙ্গ’ বা মানসিক যন্ত্রণার কথা পুরুষরা নারীদের চেয়ে অনেক বেশি আলোচনা করেছেন। অনুভূতি প্রকাশের ক্ষেত্রে পুরুষদের লেখায় 'অনুশোচনা', 'বিচ্ছেদ', 'কান্না' ও 'হৃদয়ভঙ্গ'-এর মতো শব্দগুলোর ব্যবহার বেশি দেখা গেছে। গবেষণার প্রধান গবেষক ড. রায়ান বয়েড এবং মূল লেখক শার্লট এন্টউইসল জানান, সমাজে পুরুষদের আবেগ প্রকাশে যে সামাজিক বাধা বা মানসিক সংকোচ রয়েছে, অনলাইন ফোরামের মতো বেনামী প্ল্যাটফর্মে তা উন্মুক্ত হওয়ায় প্রকৃত চিত্র সামনে এসেছে।  সামাজিক বাধা সরিয়ে নিলে দেখা যায়, পুরুষেরা নারীদের মতোই সম্পর্কে সমানভাবে অনুভূতির বিনিয়োগ করেন এবং সমস্যা সমাধানে সচেষ্ট থাকেন। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই গবেষণার ফলাফল সম্পর্কের টানাপোড়েন বুঝতে এবং পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তায় অনীহা সংক্রান্ত সামাজিক কুসংস্কার দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। আরটিভি/এসআর  
বিচ্ছেদে কে বেশি কষ্ট পান, পুরুষ নাকি নারী? যা বলছে গবেষণা
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
পোষা বিড়াল ঘরের সদস্যের মতোই। তবে আদরের এই প্রাণীটি নির্দিষ্ট জায়গার বাইরে প্রস্রাব করলে বিপাকে পড়তে হয়।
বিড়ালের প্রস্রাবের গন্ধে ঘরে অতিষ্ঠ? দূর করুন সহজেই
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
সকালে বাড়ি থেকে বের হয়ে যদি দেখা যায় রাস্তায় নেই কোনো ব্যক্তিগত গাড়ি, নেই তীব্র যানজট।
আজ ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করার দিন
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
বাংলাদেশে শিশুদের বার্ড ফ্লুতে (এইচ৫এন১) আক্রান্ত হওয়ার মূল কারণ হলো গৃহপালিত বা উঠানের পোলট্রি (হাঁস-মুরগি) পাখির সংস্পর্শে আসা।
কেন বাংলাদেশে বার্ড ফ্লুতে আক্রান্ত হচ্ছে শিশুরা
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
ডেঙ্গু জ্বরের উৎপত্তি ঘটে ডেঙ্গু ভাইরাসের মাধ্যমে। এই ভাইরাসের বাহক এডিস নামক স্ত্রী মশার কামড়েই ডেঙ্গু হয়।
যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন ডেঙ্গু রোগীর অবস্থা ক্রিটিক্যাল কি না
আরও পড়ুন
সরিষার তেল তৈরির ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতি দেখে মুগ্ধ মার্কিন রাষ্ট্রদূত!
৫১৯ কোটি টাকার চিনি, সয়াবিন তেল ও মসুর ডাল কিনছে সরকার
২ কোটি লিটার সয়াবিন তেল কেনা হচ্ছে ইন্দোনেশিয়া থেকে, খরচ কত?
বাজারে গায়েব সয়াবিনের বোতল, সোনালী মুরগির রেকর্ড দাম