হঠাৎ করেই ওজন কমে যাচ্ছে, অতিরিক্ত ঘাম হচ্ছে, সব সময় বুক ধড়ফড় করছে কিংবা অকারণেই মেজাজ খিটখিটে হয়ে থাকছে? অনেকেই এসবকে সাধারণ সমস্যা ভেবে অবহেলা করেন। অথচ এগুলো হতে পারে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়ার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শরীরের বিপাকপ্রক্রিয়া সচল রাখতে থাইরয়েড হরমোন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। গলার সামনের অংশে থাকা থাইরয়েড গ্রন্থি যখন প্রয়োজনের তুলনায় বেশি হরমোন তৈরি করে, তখন শরীরের সব কার্যক্রম অস্বাভাবিকভাবে দ্রুত চলতে শুরু করে। এই অবস্থাকে থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধি বলা হয়।
এ অবস্থায় শরীর দ্রুত শক্তি খরচ করতে থাকে। ফলে অল্প সময়ে ওজন কমে যেতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ঘাম হওয়া, গরম সহ্য করতে না পারা, বুক ধড়ফড়, অস্থিরতা, খিটখিটে মেজাজ, হাতের তালু ঘেমে যাওয়া, চুল পড়া এবং নখ ক্ষয়ে যাওয়ার মতো সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা জানান, যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদ্রোগ রয়েছে, তাদের জন্য এই সমস্যা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ এতে হৃদ্যন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে, যা গুরুতর জটিলতা এমনকি প্রাণহানির কারণও হতে পারে।
নারীদের ক্ষেত্রে থাইরয়েড হরমোন বেড়ে গেলে মাসিক অনিয়মিত হওয়া, সন্তান ধারণে সমস্যা, বারবার গর্ভপাতের ঝুঁকি এবং বন্ধ্যত্বের মতো জটিলতাও দেখা দিতে পারে। এছাড়া পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া, বসা থেকে উঠতে কষ্ট হওয়া, হাড় দ্রুত ক্ষয়ে যাওয়া এবং ঘন ঘন পায়খানার সমস্যাও এই রোগের লক্ষণ হতে পারে।
সবচেয়ে জটিল অবস্থা দেখা দেয় একটি বিশেষ ধরনের রোগে। এতে থাইরয়েড গ্রন্থি অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং চোখের অক্ষিগোলক বাইরে বেরিয়ে আসার মতো অবস্থা তৈরি হতে পারে। এ ধরনের রোগীর দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই রোগের চিকিৎসায় ওষুধ, অস্ত্রোপচার অথবা বিশেষ তেজস্ক্রিয় আয়োডিনের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হয়। রোগীর বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং রোগের কারণ অনুযায়ী চিকিৎসা পদ্ধতি নির্ধারণ করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার মাধ্যমে হরমোনের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, হঠাৎ ওজন কমে যাওয়া, বুক ধড়ফড়, অতিরিক্ত ঘাম, গরম সহ্য না হওয়া বা চোখের অস্বাভাবিক পরিবর্তনের মতো লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হরমোন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত। সময়মতো চিকিৎসা শুরু করলে থাইরয়েড হরমোন বৃদ্ধিজনিত জটিলতা সফলভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ



