সময় বদলেছে, বদলেছে মেহেদির নকশা ও পছন্দের ধরনও। তবে হাতে মেহেদি রাঙানোর ভালোবাসা একটুও কমেনি। এখন আর শুধু উৎসব বা বিয়ে নয়, জন্মদিন, বাগদান, পারিবারিক আয়োজন কিংবা নিজের শখ—সব উপলক্ষেই মেহেদি রাঙানো হাত যেন আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। আর এই সৌন্দর্যের খোঁজে অনেকেই এখন ঝুঁকছেন রাসায়নিকমুক্ত অর্গানিক মেহেদির দিকে।
ত্বকের নিরাপত্তা, দীর্ঘস্থায়ী রং এবং প্রাকৃতিক উপাদানের কারণে অর্গানিক মেহেদির জনপ্রিয়তা দিন দিন বাড়ছে। এই চাহিদার সঙ্গে তাল মিলিয়ে তরুণীদের আস্থার একটি নাম হয়ে উঠেছে মেহেদি শিল্পী তানহা তাবাসসুম অতসী। ২০১৯ সাল থেকে শুরু হওয়া তার প্রতিষ্ঠিত ‘অতসী'স হেনা আর্ট’ (Autoshi's Henna Art) ইতোমধ্যেই মেহেদিপ্রেমীদের কাছে পরিচিত একটি নাম।
ছোটবেলা থেকেই আঁকাআঁকির প্রতি আগ্রহ ছিল অতসীর। সেই ভালো লাগা থেকেই শুরু হয় মেহেদির নকশা শেখা। ধীরে ধীরে শখই পরিণত হয় পেশায়। বর্তমানে তিনি হাতে তৈরি অর্গানিক মেহেদি ব্যবহার করে বিভিন্ন ধরনের আধুনিক, মিনিমাল, আরবি, ভারতীয় এবং ব্যক্তিগত পছন্দ অনুযায়ী নকশা এঁকে দিচ্ছেন।
অতসীর ভাষায়, মেহেদি শুধু একটি রং নয়, এটি অনেকের আবেগ ও স্মৃতির অংশ। তাই তিনি সবসময় এমন মেহেদি ব্যবহার করতে চান, যা ত্বকের জন্য নিরাপদ এবং স্বাভাবিকভাবে গাঢ় রং দেয়।
অর্গানিক মেহেদির সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো এতে কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা হয় না। সাধারণত মেহেদির গুঁড়া, লেবুর রস, চিনি এবং প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক তেলের সমন্বয়ে এটি তৈরি করা হয়। ফলে ত্বকে অ্যালার্জি বা জ্বালাপোড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক কম থাকে। এই মেহেদির রং ধীরে ধীরে ফুটে ওঠে এবং প্রায় ২৪ থেকে ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে সবচেয়ে গাঢ় রূপ নেয়।
মেহেদি শিল্পী তানহা তাবাসসুম অতসী জানান, বর্তমানে অনেকেই ভারী নকশার পরিবর্তে পরিষ্কার, মার্জিত ও সূক্ষ্ম নকশা পছন্দ করেন। কেউ পুরো হাত রাঙাতে চান, আবার কেউ শুধু আঙুল, কবজি বা ছোট নকশাতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাই প্রতিটি গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী আলাদা নকশা তৈরি করাই তার মূল লক্ষ্য।
অতসী'স হেনা আর্ট (Autoshi's Henna Art) শুধু হাতে মেহেদির নকশা আঁকাতেই সীমাবদ্ধ নয়। নকশার পাশাপাশি তানহা তাবাসসুম অতসী নিজেই অর্গানিক মেহেদি তৈরি করে অনলাইনের মাধ্যমে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রতিটি মেহেদির সঙ্গে তিনি সংরক্ষণ ও সঠিক ব্যবহারের প্রয়োজনীয় পরামর্শও দিয়ে থাকেন, যাতে রং দীর্ঘস্থায়ী ও সুন্দর হয়। একই সঙ্গে তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম পেজে নিয়মিত নতুন নকশা, মেহেদি পরিচর্যার বিভিন্ন পরামর্শ এবং অর্ডার সেবা পাওয়া যায়।
শুধু তাই নয়, যারা ঘরে বসে অর্গানিক মেহেদি তৈরি করতে চান, তাদের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণও সরবরাহ করছেন তিনি। মেহেদির গুঁড়া, প্রাকৃতিক তেল (ইউক্যালিপটাস অয়েল) ও অর্গানিক মেহেদি তৈরির অন্যান্য প্রয়োজনীয় উপাদান এক জায়গা থেকেই সংগ্রহ করা যাচ্ছে, যা নতুন মেহেদি শিল্পী ও শখের আঁকিয়েদের জন্যও বেশ সহায়ক হয়ে উঠেছে।
সৌন্দর্যচর্চা সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে গ্রাহকদের বড় একটি অংশ নিরাপদ ও রাসায়নিকমুক্ত পণ্যের দিকে ঝুঁকছেন। সেই জায়গা থেকেই অর্গানিক মেহেদির চাহিদা বাড়ছে। বিশেষ করে যারা নিয়মিত মেহেদি ব্যবহার করেন, তারা এখন ত্বকের নিরাপত্তাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন।
মেহেদির নকশায় এখন ফুল, লতাপাতা, জ্যামিতিক নকশা, ময়ূর, চাঁদ-তারাসহ নানা শিল্পরূপ ফুটে ওঠে। তবে যেকোনো নকশার সৌন্দর্য অনেকটাই নির্ভর করে মেহেদির মান ও শিল্পীর দক্ষতার ওপর। আর সেই বিশ্বাস থেকেই অনেকের পছন্দের তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে ‘অতসী'স হেনা আর্ট’।
প্রাকৃতিক উপাদান, নিখুঁত নকশা এবং নিরাপদ সৌন্দর্য—এই তিনের সমন্বয়েই অর্গানিক মেহেদিকে আরও জনপ্রিয় করে তুলতে কাজ করে যাচ্ছেন মেহেদি শিল্পী তানহা তাবাসসুম অতসী। তাঁর বিশ্বাস, মেহেদির রঙে শুধু হাতই নয়, রঙিন হয়ে ওঠে মানুষের আনন্দ আর বিশেষ মুহূর্তের স্মৃতিও।
আরটিভি/জেএমএ




