রান্না করতে গিয়ে অনেক সময় দেখা যায়, আলু, পেঁয়াজ বা রসুনে অঙ্কুর গজিয়েছে। তখন অনেকের মনেই প্রশ্ন জাগে—এসব সবজি কি খাওয়া নিরাপদ, নাকি ফেলে দেওয়া উচিত? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সব অঙ্কুরিত সবজি একই রকম নয়। কোনটি খাওয়া যাবে, আর কোনটি নয়—তা জানা জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আলুতে অঙ্কুর গজানো মানে সেটি নতুন গাছ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই সময় আলুতে ধীরে ধীরে বিষাক্ত প্রাকৃতিক উপাদান তৈরি হতে পারে, যা মানুষ ও প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর। বিশেষ করে আলুর সবুজ অংশে এই উপাদানের পরিমাণ বেশি থাকে। তাই সবুজ হয়ে যাওয়া আলু কখনোই খাওয়া উচিত নয়।
তবে সব অঙ্কুরিত আলু ফেলে দিতে হবে—বিষয়টি এমন নয়। যদি অঙ্কুর ছোট হয়, আলু শক্ত থাকে এবং পচা বা কুঁচকে না যায়, তাহলে অঙ্কুর ও সবুজ অংশ ভালোভাবে কেটে ফেলে বাকি অংশ খাওয়া যেতে পারে। কিন্তু আলু যদি নরম হয়ে যায়, কুঁচকে যায়, অঙ্কুর অনেক বড় হয়ে যায় বা পচনের লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে সেটি না খাওয়াই নিরাপদ।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে জানিয়েছেন, বিষাক্ত আলু খেলে ডায়রিয়া, বমি, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, ঝিমুনি এমনকি গুরুতর ক্ষেত্রে অজ্ঞান হওয়ার মতো সমস্যাও হতে পারে। তাই সন্দেহ হলে সেই আলু ব্যবহার না করাই ভালো। গর্ভবতী নারী, ছোট শিশু এবং যাদের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা কম, তাদের ক্ষেত্রে আরও বেশি সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে অঙ্কুরিত পেঁয়াজ ও রসুনের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক কম। এগুলোতে আলুর মতো বিষাক্ত উপাদান তৈরি হয় না। তবে অঙ্কুর গজানোর কারণে পেঁয়াজ ও রসুনের স্বাদ কিছুটা তেতো হতে পারে এবং এগুলো নরম হয়ে যেতে পারে। যদি পচন, ছত্রাক বা দুর্গন্ধ না থাকে, তাহলে অঙ্কুর কেটে ব্যবহার করা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, আলু, পেঁয়াজ ও রসুন দীর্ঘদিন ভালো রাখতে ঠান্ডা, শুষ্ক ও অন্ধকার স্থানে সংরক্ষণ করা উচিত। আলু কখনো পেঁয়াজের সঙ্গে রাখা ঠিক নয়। কারণ পেঁয়াজ থেকে নির্গত গ্যাস আলুর অঙ্কুরোদগম দ্রুত ঘটাতে পারে। এছাড়া পেঁয়াজ ও রসুন বদ্ধ প্লাস্টিকের ব্যাগে না রেখে বাতাস চলাচল করতে পারে এমন ব্যাগে রাখা ভালো।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অঙ্কুরিত সবজি দেখেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। তবে কোন অবস্থায় তা খাওয়া নিরাপদ আর কখন ফেলে দেওয়া উচিত—সেই বিষয়টি জানা থাকলে স্বাস্থ্যঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
আরটিভি/জেএমএ



