একজন মানুষের সফলতার পেছনে কেবল উচ্চ আইকিউ থাকলেই চলে না, পাশাপাশি উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ থাকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এটি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করেন যে প্রতিটি মতবিরোধে সময় দেওয়া বা প্রতিটি তর্কে জেতার কোনো সার্থকতা নেই। তারা জানেন কোন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে আর কোনটা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ অহেতুক তর্কে লিপ্ত হওয়া মানেই মূল্যবান সময় ও মানসিক শক্তির অপচয়।
বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে বুদ্ধিমান মানুষেরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চান না।
অন্যের বিশ্বাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের স্বভাবের বাইরে। ধর্ম, রাজনীতি বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে মানুষ অনেক সময় যুক্তির চেয়ে আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেয়। বুদ্ধিমানরা বোঝেন যে অকাট্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত না হলে তাকে পরিবর্তন করা অসম্ভব। তাই তারা অন্যের বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান জানিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে নেন।
এছাড়া অন্যের ছোটখাটো ভুল ধরা থেকে তারা বিরত থাকেন। নিজেদের সঠিক প্রমাণ করার চেয়ে অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই তারা বড় করে দেখেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পড়ে না থেকে বরং নমনীয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই তাদের বৈশিষ্ট্য।
শুধুমাত্র আধিপত্য বিস্তার বা জেতার মানসিকতা থেকে বুদ্ধিমানেরা কোনো তর্কে লিপ্ত হন না। তারা জানেন যে অধিকাংশ বিতর্কই দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনে না। তাই যেকোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তারা শান্ত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে নিজেকে সরিয়ে নেন।
অতীতের ভুল নিয়ে লড়াই করাকেও তারা শক্তির অপচয় বলে মনে করেন। যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা নিয়ে পড়ে না থেকে তারা বর্তমান এবং সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করেন। জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখার এই সক্ষমতাই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।
মূলত তারা আধিপত্যের চেয়ে পারস্পরিক বোধগম্যতাকেই বেশি মূল্য দিয়ে থাকেন।
আরটিভি/এএইচ





