ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

বুদ্ধিমানেরা কেন সম্পর্কের প্রতি যত্নশীল হন

আরটিভি নিউজ ডেস্ক

প্রকাশ : ২২ ডিসেম্বর ২০২৫, ০২:২২ পিএম
প্রতীকী ছবি

একজন মানুষের সফলতার পেছনে কেবল উচ্চ আইকিউ থাকলেই চলে না, পাশাপাশি উচ্চ ইমোশনাল ইন্টেলিজেন্স বা ইকিউ থাকাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বুদ্ধিমান ব্যক্তিরা এটি খুব ভালোভাবে অনুধাবন করেন যে প্রতিটি মতবিরোধে সময় দেওয়া বা প্রতিটি তর্কে জেতার কোনো সার্থকতা নেই। তারা জানেন কোন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে আর কোনটা এড়িয়ে চলতে হবে, কারণ অহেতুক তর্কে লিপ্ত হওয়া মানেই মূল্যবান সময় ও মানসিক শক্তির অপচয়।

বিশেষ করে কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ে বুদ্ধিমান মানুষেরা কখনোই বিতর্কে জড়াতে চান না।

অন্যের বিশ্বাস পরিবর্তন করার চেষ্টা করা বুদ্ধিমান ব্যক্তিদের স্বভাবের বাইরে। ধর্ম, রাজনীতি বা ব্যক্তিগত মূল্যবোধের মতো সংবেদনশীল বিষয়গুলোতে মানুষ অনেক সময় যুক্তির চেয়ে আবেগকে বেশি প্রাধান্য দেয়। বুদ্ধিমানরা বোঝেন যে অকাট্য তথ্য থাকা সত্ত্বেও কেউ মানসিকভাবে প্রস্তুত না হলে তাকে পরিবর্তন করা অসম্ভব। তাই তারা অন্যের বিশ্বাসের পার্থক্যকে সম্মান জানিয়ে আলোচনার মোড় ঘুরিয়ে নেন।

এছাড়া অন্যের ছোটখাটো ভুল ধরা থেকে তারা বিরত থাকেন। নিজেদের সঠিক প্রমাণ করার চেয়ে অন্যের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাকেই তারা বড় করে দেখেন। তুচ্ছ বিষয় নিয়ে পড়ে না থেকে বরং নমনীয়ভাবে পরিস্থিতি সামাল দেওয়াই তাদের বৈশিষ্ট্য।

আরও পড়ুন

শুধুমাত্র আধিপত্য বিস্তার বা জেতার মানসিকতা থেকে বুদ্ধিমানেরা কোনো তর্কে লিপ্ত হন না। তারা জানেন যে অধিকাংশ বিতর্কই দীর্ঘমেয়াদে কোনো সুফল বয়ে আনে না। তাই যেকোনো উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতিতে তারা শান্ত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন এবং যেখানে প্রয়োজন নেই সেখানে নিজেকে সরিয়ে নেন।

অতীতের ভুল নিয়ে লড়াই করাকেও তারা শক্তির অপচয় বলে মনে করেন। যা পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তা নিয়ে পড়ে না থেকে তারা বর্তমান এবং সমাধানের দিকে মনোনিবেশ করেন। জীবনকে ইতিবাচকভাবে দেখার এই সক্ষমতাই তাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে তোলে।

মূলত তারা আধিপত্যের চেয়ে পারস্পরিক বোধগম্যতাকেই বেশি মূল্য দিয়ে থাকেন।

আরটিভি/এএইচ

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন
ফ্রিজে অতিরিক্ত বরফ জমাট বাঁধা বর্তমান সময়ের একটি সাধারণ সমস্যা। অনেক সময় বরফ এত বেশি জমে যায় যে ফ্রিজারের ভেতরের জায়গা কমে যায় এবং খাবার সংরক্ষণ করা কঠিন হয়ে পড়ে। অতিরিক্ত এই বরফ শুধু জায়গা নষ্ট করে না, বরং ফ্রিজের কার্যকারিতা কমিয়ে দেয় এবং বিদ্যুৎ বিল বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। আধুনিক ফ্রিজগুলোতে ডিফ্রস্ট বোতাম থাকলেও অনেক পুরোনো বা সাশ্রয়ী মডেলে এই সুবিধা থাকে না। তবে ঘরোয়া কিছু সহজ ও নিরাপদ কৌশলে এই সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। ফ্রিজের বরফ পরিষ্কারের প্রাথমিক ও প্রধান শর্ত হলো নিরাপত্তার খাতিরে প্রথমেই বৈদ্যুতিক প্লাগ খুলে নেওয়া। এরপর ফ্রিজের ভেতরের সব খাবার সরিয়ে কোনো কুলার ব্যাগ বা ঠান্ডা স্থানে রাখতে হবে যাতে খাবার নষ্ট না হয়। বরফ দ্রুত গলাতে গরম পানির ভাপ একটি কার্যকর পদ্ধতি। একটি পাত্রে ফুটন্ত গরম পানি নিয়ে ফ্রিজারের ভেতর রেখে দরজা বন্ধ করে ১০ থেকে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করলে জমাট বাঁধা বরফ আলগা হতে শুরু করে। এছাড়া হেয়ার ড্রায়ার ব্যবহার করেও বরফ গলানো সম্ভব। ড্রায়ারটি মাঝারি তাপে রেখে বরফের ওপর গরম বাতাস দিলে তা দ্রুত গলতে থাকে, তবে ড্রায়ার যেন কোনোভাবেই পানির সংস্পর্শে না আসে সেদিকে সতর্ক থাকতে হবে। বরফ কিছুটা নরম হয়ে এলে প্লাস্টিক বা কাঠের চামচ ব্যবহার করে সাবধানে তা তুলে ফেলা যায়। এক্ষেত্রে কোনোভাবেই ধাতব ছুরি বা ধারালো কোনো বস্তু ব্যবহার করা যাবে না, কারণ এতে ফ্রিজের ভেতরের কুণ্ডলী বা পলিমার ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বড় ধরনের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিতে পারে। বিকল্প হিসেবে গরম পানিতে তোয়ালে ভিজিয়ে বরফের ওপর চেপে ধরা যেতে পারে অথবা ফ্রিজের সামনে ফ্যান চালিয়ে বাতাস প্রবাহের মাধ্যমেও বরফ গলানোর প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা যায়। আরও পড়ুন দিনভর ফুরফুরে থাকতে মাখুন সলিড পারফিউম, বানাবেন যেভাবে বরফ সম্পূর্ণ পরিষ্কার হয়ে যাওয়ার পর ফ্রিজের ভেতরটি ভিনেগার মিশ্রিত পানি বা সাবান পানি দিয়ে ভালোভাবে মুছে নিতে হবে। পরিষ্কার শেষে ফ্রিজারটি পুরোপুরি শুকিয়ে নেওয়া জরুরি, যাতে পুনরায় দ্রুত বরফ না জমে।  সবশেষে প্লাগ লাগিয়ে ফ্রিজ যথেষ্ট ঠান্ডা হওয়ার পর খাবারগুলো ভেতরে সাজিয়ে রাখা উচিত। ভবিষ্যতে অতিরিক্ত বরফ জমা রোধ করতে ফ্রিজের দরজা দীর্ঘক্ষণ খোলা রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং দরজার রাবার বা সিল নিয়মিত পরীক্ষা করতে হবে। এছাড়া খাবার পুরোপুরি ঠান্ডা না করে ফ্রিজে রাখা যাবে না এবং ভেতরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের জন্য অতিরিক্ত খাবার ঠাসাঠাসি করে রাখা থেকে বিরত থাকতে হবে। নিয়ম মেনে নিয়মিত ফ্রিজ পরিষ্কার রাখলে এটি দীর্ঘদিন ভালো সেবা দেবে এবং বিদ্যুৎ খরচও নিয়ন্ত্রণে থাকবে। আরটিভি/এএইচ
ফ্রিজে বরফ জমলে যেভাবে পরিষ্কার করবেন
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
দেশে এখন শীতকাল চলছে। শীতকাল মানেই প্রকৃতি শুষ্ক হয়ে ওঠা। শীতের হিমেল হাওয়ায় ত্বক শুষ্ক হওয়ার পাশাপাশি চুলেও দেখা দেয় নানা সমস্যা। খুশকি, চুল পড়া এবং চুল রুক্ষ হয়ে ফেটে যাওয়া এই সময়ের সাধারণ ঘটনা। আপনার চুলের স্বাস্থ্য বজায় রাখতে এবং চুলে সিল্কি ভাব ধরে রাখতে সহজ কিছু যত্ন ও ঘরোয়া উপায়ে শীতকালে চুল ঠিক রাখা যায়।  ​শীতে চুলের জেল্লা বজায় রাখতে কার্যকরী কিছু টিপস। শীতের রুক্ষতা থেকে চুলকে বাঁচাতে প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। ঘরোয়া কিছু অভ্যাস আর সামান্য সচেতনতাই পারে আপনার চুলকে ঝলমলে রাখতে। শীতে চুলের যত্নে করণীয় কী জানুন-​নিয়মিত তেল মালিশ​শীতকালে মাথার ত্বক দ্রুত শুকিয়ে যায়। তাই সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কুসুম গরম নারিকেল তেল বা অলিভ অয়েল চুলে মালিশ করুন। এটি চুলে পুষ্টি জোগায় এবং রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে।​অতিরিক্ত গরম পানি পরিহার​ঠাণ্ডার ভয়ে চুলে সরাসরি খুব গরম পানি ব্যবহার করবেন না। গরম পানি চুলের প্রাকৃতিক তেল কেড়ে নিয়ে চুলকে আরও রুক্ষ করে দেয়। সবসময় কুসুম গরম পানি দিয়ে চুল ধোয়ার অভ্যাস করুন। কন্ডিশনারের সঠিক ব্যবহার​শীতে চুল নিস্তেজ হয়ে পড়ে, তাই শ্যাম্পু করার পর কন্ডিশনার ব্যবহার করা বাধ্যতামূলক। তবে খেয়াল রাখবেন, কন্ডিশনার যেন মাথার ত্বকে না লাগে; এটি শুধুমাত্র চুলের মাঝখান থেকে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত লাগাবেন।​খুশকি থেকে মুক্তি​শীতের প্রধান শত্রু হলো খুশকি। খুশকি দূর করতে লেবুর রস বা আপেল সাইডার ভিনেগার পানির সাথে মিশিয়ে চুলে ব্যবহার করতে পারেন। এছাড়া ভালো মানের অ্যান্টি-ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। হেয়ার মাস্কের ব্যবহার​সপ্তাহে একদিন প্রাকৃতিকভাবে তৈরি হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করতে পারেন।​প্যাক: ১টি ডিম, ১ চামচ মধু এবং টক দই মিশিয়ে চুলে লাগিয়ে ৩০ মিনিট রাখুন। এরপর ধুয়ে ফেলুন। এটি চুলের আর্দ্রতা ধরে রাখতে জাদুর মতো কাজ করে।​ভেজা চুলে বাইরে না যাওয়া​ভেজা চুলে বাইরে বের হলে বাতাসে থাকা ধুলোবালি সহজেই চুলে আটকে যায় এবং চুল ভেঙে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। এছাড়া ভেজা চুলে ঠাণ্ডা লাগার ভয়ও থাকে। তাই চুল ভালো করে শুকিয়ে তবেই বাইরে বের হন।​খাদ্যতালিকায় নজর দিন​বাইরের যত্নের পাশাপাশি ভেতর থেকে পুষ্টি প্রয়োজন। প্রচুর পরিমাণে পানি পান করুন এবং খাদ্যতালিকায় শাকসবজি, বাদাম ও প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার রাখুন। অ্যালোভেরা জেলশীতে চুলের যত্নে ব্যবহার করুন অ্যালোভেরা জেল। এটি ত্বকের জ্বালা কমায় এবং মাথার ত্বক আর্দ্র রাখে। যাদের অনেক বেশি খুশকি হয়, তারা অ্যান্টি ড্যান্ড্রাফ শ্যাম্পু ব্যবহার করুন। তবে শ্যাম্পু ব্যবহারের পর কন্ডিশনার লাগাতে ভুলবেন না। কেননা শীতকালে চুল সহজেই রুক্ষ হয়ে যায়।  শীতকালে ত্বকের ও চুলের যত্নে কিন্তু আপনাকে খাওয়া-দাওয়ার ব্যাপারেও মনোযোগী হতে হবে। শীতের শাকসবজি ও ফল সুন্দর স্বাস্থ্যোজ্জ্বল ত্বক ও চুলের জন্য প্রয়োজন। শিম, বরবটি, নানারকম শাক, মটরশুঁটি, ফুলকপি ইত্যাদি প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রাখুন। হাতের নাগালের সব ফলই প্রতিদিন খাবেন। যেমন-আপেল, আমলকী কিংবা আমড়া সে যা-ই হোক না কেন। শীতে ত্বক-চুলের পরিচর্যা করতে এই সহজ কিছু পদ্ধতি অনুসরন করলেই ত্বক এবং চুল উজ্জ্বল ও মসৃণ রাখা যায়। তাই টিপসগুলো মেনে এই শীতে পান উজ্জ্বল ও মসৃণ ত্বক ও চুল।​মনে রাখবেন: শীতকালে বারবার চুল ধোয়ার প্রয়োজন নেই। সপ্তাহে ২-৩ বার শ্যাম্পু করাই যথেষ্ট। অতিরিক্ত শ্যাম্পু ব্যবহার করলে চুল আরও শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। আরটিভি/এসকে
শীতে চুলের যত্নে করণীয়
শিশুর বডি শেমিংয়ের বিষয়ে সচেতন হতে হবে পরিবারকেই
বাংলাদেশের সামাজিক প্রেক্ষাপটে শিশুদের শারীরিক গঠন নিয়ে হাসি-তামাশা করা একটি অতি পরিচিত চিত্র। অনেক সময় আদর করে বা ঠাট্টার ছলে আত্মীয়-স্বজন কিংবা পরিচিতরা শিশুদের ওজন, গায়ের রং বা উচ্চতা নিয়ে মন্তব্য করেন। আপাতদৃষ্টিতে এসব কথাকে ‘হালকা রসিকতা’ মনে করা হলেও এর প্রভাব শিশুর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে। শরীর নিয়ে হীনমন্যতা কেবল কৈশোরে নয়, বরং শৈশব থেকেই শুরু হয় এবং এর পেছনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা থাকে পরিবারের কাছের মানুষগুলোর। বিশেষজ্ঞদের মতে, কারো শারীরিক বৈশিষ্ট্য নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করাই হলো বডি শেমিং। এটি সরাসরি অপমান বা সূক্ষ্ম রসিকতা—যেকোনো রূপেই আসতে পারে। গণমাধ্যম ও বিজ্ঞাপনও পরোক্ষভাবে এই প্রবণতাকে উসকে দেয়। ফরিদপুর মেডিকেল কলেজের শিশু ও পারিবারিক মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদ জানান, শিশুরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মানসিক ও শারীরিক বিকাশের পর্যায়ের মধ্য দিয়ে যায়। এই সময়ে শরীর নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য তাদের আত্মবিশ্বাস কমিয়ে দেয় এবং তাদের সামাজিক যোগাযোগ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। দীর্ঘমেয়াদে এর ফলে বিষণ্ণতা ও উদ্বেগ তৈরি হতে পারে। বডি শেমিংয়ের অন্যতম ভয়াবহ পরিণতি হলো ইটিং ডিজঅর্ডার বা খাওয়ার অস্বাভাবিক অভ্যাস। লোকলজ্জার ভয়ে অনেক শিশু লুকিয়ে অতিরিক্ত খাবার খায়, আবার কেউ কেউ ওজন কমাতে খাওয়ার পর জোর করে বমি করার মতো আত্মঘাতী পথ বেছে নেয়। ভুক্তভোগীদের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, ছোটবেলার সামান্য বিদ্রূপও তাদের মনে আজীবন স্থায়ী ট্রমা হিসেবে থেকে যায়। যেমন ১৯ বছর বয়সী শুভ জানান, শিক্ষকের একটি তুচ্ছ মন্তব্য তাকে তার প্রিয় খেলা ক্রিকেট ছাড়তে বাধ্য করেছিল। এভাবে শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা আর আনন্দগুলো হারিয়ে যায় কেবল অন্যদের নিষ্ঠুর মন্তব্যের কারণে। আরও পড়ুন শিশুর সর্দি-কাশি নিউমোনিয়া নয় তো অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, শরীর নিয়ে মন্তব্য করা কাউকে কখনোই অনুপ্রাণিত করে না, বরং তার আত্মমর্যাদাবোধ ধ্বংস করে দেয়। একে ‘মোটিভেশনাল নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সবার আগে বাবা-মাকে এগিয়ে আসতে হবে। আত্মীয়দের বুলিং থেকে সন্তানকে রক্ষা করা প্রতিটি অভিভাবকের দায়িত্ব। শিশুকে ‘ওজন কমাও’ বা ‘এটা নিয়ে ভেবো না’ না বলে তার অনুভূতিগুলো বোঝার চেষ্টা করতে হবে। স্বাস্থ্যগত সমস্যা থাকলে আলাদা করে নয়, বরং পুরো পরিবার মিলে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস গড়ে তোলা উচিত। বডি শেমিং বন্ধ করতে হলে নীরব দর্শক হওয়া থেকে বের হয়ে আসতে হবে। যদি পরিবারের কেউ বারবার এমন মন্তব্য করে, তবে সেখানে হস্তক্ষেপ করা জরুরি। শিশুদের মূল্য যেন ওজনের কাঁটায় নির্ধারিত না হয়, বরং তারা যেন সহজাত আনন্দ নিয়ে বড় হতে পারে, তা নিশ্চিত করাই বর্তমান সময়ের বড় চ্যালেঞ্জ। শব্দের মাধ্যমেই যদি এই মানসিক ক্ষতের সৃষ্টি হয়, তবে ভালোবাসা ও ইতিবাচক শব্দের মাধ্যমেই তার নিরাময় সম্ভব। আরটিভি/এএইচ
শিশুর বডি শেমিংয়ের বিষয়ে সচেতন হতে হবে পরিবারকেই
অপ্রয়োজনীয় চুরি, শুধুই স্বভাব না কি মানসিক রোগ?
মানুষ সাধারণত অভাবের তাড়নায় কিংবা কোনো বিশেষ উদ্দেশ্যে চুরি করে। কিন্তু এমন অনেক মানুষ আছেন যাদের কোনো অভাব নেই, চুরি করা জিনিসের কোনো প্রয়োজনও নেই, তবুও তারা চুরি করার অদম্য এক তাড়না অনুভব করেন। এই বিশেষ অবস্থাকে চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় বলা হয় ‘ক্লেপটোম্যানিয়া’। এটি মূলত একটি মানসিক রোগ বা ‘ইম্পালস কন্ট্রোল ডিজঅর্ডার’, যেখানে আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির তীব্র ইচ্ছা বা ইম্পালস নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন না। মানসিক রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. হেলাল উদ্দিন আহমেদের মতে, এই সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিরা কোনো আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং মানসিক এক অস্থিরতা থেকে মুক্তি পেতেই চুরি করে থাকেন। ক্লেপটোম্যানিয়ার রোগীদের চুরির ধরনটা সাধারণ অপরাধীদের চেয়ে একেবারেই আলাদা। তারা যে জিনিসগুলো চুরি করেন, সেগুলো হয়তো তাদের কোনো কাজেই লাগে না। চুরি করার পর তারা সেই জিনিসটি নিজে ব্যবহার করেন না, বিক্রিও করেন না; বরং অনেক সময় লুকিয়ে রাখেন, ফেলে দেন কিংবা গোপনে কাউকে দান করে দেন। এমনকি অপরাধবোধে ভুগে তারা অনেক সময় চুরি করা জিনিসটি সবার অলক্ষ্যে জায়গামতো ফেরতও দিয়ে আসেন। অধ্যাপক হেলাল উদ্দিন জানান, মস্তিষ্কের সেরোটোনিন ও ডোপামিনের মতো নিউরোট্রান্সমিটারের ভারসাম্য নষ্ট হলে এই রোগ হতে পারে। এছাড়া বংশগত কারণ, মানসিক চাপ, ট্রমা কিংবা শৈশবের কোনো মানসিক আঘাতও এই রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, নারীদের তুলনায় পুরুষদের মধ্যে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি। এই রোগের কিছু স্পষ্ট লক্ষণ রয়েছে যা দেখে একে সাধারণ চুরি থেকে আলাদা করা যায়। আক্রান্ত ব্যক্তি চুরির ঠিক আগমুহূর্তে প্রবল উত্তেজনা ও অস্থিরতা অনুভব করেন। যতক্ষণ না তিনি জিনিসটি হাত ছাড়া করছেন, ততক্ষণ তার ভেতর উদ্বেগ কাজ করতে থাকে। কিন্তু চুরির পরপরই তিনি এক ধরনের আনন্দ ও মানসিক স্বস্তি পান। আরও পড়ুন নিঃশব্দে সম্পর্ক ভেঙে দেয় যে ৩ অভ্যাস তবে এই স্বস্তি বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না; চুরির পর তারা তীব্র অপরাধবোধ ও অনুশোচনায় ভোগেন। অনেকের ক্ষেত্রে এই লজ্জা ও সম্মানহানির ভয় এতটাই প্রকট হয়ে দাঁড়ায় যে, তারা আত্মহত্যার মতো চূড়ান্ত পথও বেছে নিতে পারেন। লজ্জা কিংবা সামাজিক সম্মানহানির ভয়ে অধিকাংশ রোগীই চিকিৎসকের কাছে যেতে চান না। অথচ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ ও চিকিৎসার মাধ্যমে ক্লেপটোম্যানিয়া সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। সাধারণত এই রোগের চিকিৎসায় ওষুধের পাশাপাশি কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি (সিবিটি) ও কাউন্সিলিং অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত চিকিৎসার মাধ্যমে আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা সম্ভব। মানসিক এই সমস্যাকে নিছক স্বভাব বা চরিত্রহীনতা বলে অবহেলা না করে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি, যাতে অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো আইনি বা সামাজিক অঘটন এড়ানো যায়। আরটিভি/এএইচ
অপ্রয়োজনীয় চুরি, শুধুই স্বভাব না কি মানসিক রোগ?
যেভাবে বুঝবেন বন্ধু ঈর্ষা করছে
একটি সুস্থ ও সুন্দর বন্ধুত্বের ভিত্তি হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা এবং নিঃস্বার্থ ভালোবাসা, যেখানে কোনো দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা লুকোছাপার জায়গা থাকে না। কিন্তু অনেক সময় গভীরতম বন্ধুত্বেও ফাটল ধরাতে পারে ঈর্ষা বা হিংসে। যদি কখনো মনে হয় আপনার ঘনিষ্ঠ বন্ধুটি আপনার প্রতি ঈর্ষান্বিত, তবে বিষয়টি এড়িয়ে না গিয়ে এর পেছনের মনস্তত্ত্ব বোঝা জরুরি। মনস্তাত্ত্বিকদের মতে, ঈর্ষা একটি খুবই স্বাভাবিক মানবিক আবেগ এবং যে কারো মনেই অন্যের সাফল্য, রূপচর্চা, ক্যারিয়ার কিংবা আর্থিক অবস্থা নিয়ে এই অনুভূতির উদয় হতে পারে। তবে এই লুকানো অনুভূতিটি যদি বিষাক্ত আচরণে রূপ নেয়, তবে তা মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে আত্মবিশ্বাসের অভাব থেকে মানুষের মধ্যে এমন হিংসে জন্মাতে পারে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত বন্ধুত্বের ওপর পড়ে। বন্ধু গোপনে ঈর্ষান্বিত কি না তা বোঝার জন্য কিছু নির্দিষ্ট আচরণের দিকে নজর দেওয়া প্রয়োজন। সাধারণত একজন ঈর্ষান্বিত বন্ধু আপনার ভালো সময়ে আপনার পাশে না থেকে বরং আপনাকে এড়িয়ে চলার চেষ্টা করে। যখন আপনার জীবনে কোনো বড় সাফল্য আসে, তারা হয়তো সেই আনন্দ উদযাপন না করে অন্য কোনো আলোচনায় মেতে থাকে কিংবা আপনাকে কোনো পরিকল্পনা থেকে বাদ দিয়ে দলছুট করার চেষ্টা করে। আবার এমনও দেখা যায় যে, আপনি যখন বিপদে থাকেন তখনই তারা বেশি সক্রিয় হয়ে ওঠে, কিন্তু আপনার খুশির মুহূর্তে তারা রহস্যজনক ভাবে অদৃশ্য হয়ে যায়। ঠাট্টা-মশকরার ছলে আপনার অনুভূতিকে আঘাত করা, ক্রমাগত তুলনা করা কিংবা আপনার সাফল্যের মধ্যে খুঁত খুঁজে বের করা ঈর্ষান্বিত আচরণের অন্যতম বড় লক্ষণ। আরও পড়ুন নিঃশব্দে সম্পর্ক ভেঙে দেয় যে ৩ অভ্যাস সামাজিক ও মানসিক ক্ষেত্রে এই নেতিবাচকতা আরও প্রকট হয়ে ওঠে। ঈর্ষান্বিত বন্ধুরা প্রায়ই আপনার আত্মবিশ্বাসে আঘাত হানার চেষ্টা করে, যার ফলে আপনি নিজেকে নিয়ে সন্দেহ পোষণ করতে শুরু করেন। মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এমন বন্ধুত্বে বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায় এবং ক্ষোভ বাড়ার কারণে একটি মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। এটি কেবল সম্পর্ককেই নষ্ট করে না, বরং আপনার ব্যক্তিগত শান্তিও কেড়ে নেয়। ক্রমাগত সমালোচনা আপনার আত্মসম্মানবোধকে দুর্বল করে দেয় এবং আপনি নিজেকে যথেষ্ট যোগ্য নন বলে ভাবতে শুরু করেন। এই বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে আসতে হলে পরিস্থিতি মোকাবিলা করা এবং বন্ধুর সঙ্গে সরাসরি কথা বলা জরুরি। যদি আপনি মনে করেন এই বন্ধুত্বটি আপনার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, তবে খোলামেলা আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজার চেষ্টা করুন। সম্পর্কের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়, কারণ বন্ধুত্ব মানেই সব বিষয়ে একমত হওয়া বা সবসময় ‘হ্যাঁ’ বলা নয়। তবে বারবার আলোচনার পরেও যদি বন্ধুর আচরণে কোনো পরিবর্তন না আসে এবং হিংসে চলতেই থাকে, তবে নিজের মানসিক প্রশান্তির খাতিরে সেই সম্পর্ক থেকে দূরত্ব তৈরি করাই বুদ্ধিমানের কাজ। মনে রাখা প্রয়োজন যে, বন্ধুত্ব কোনো প্রতিযোগিতা নয়, বরং এটি একে অপরের সুখ-দুঃখ ভাগ করে নেওয়ার একটি নিরাপদ আশ্রয়স্থল। আরটিভি/এএইচ
যেভাবে বুঝবেন বন্ধু ঈর্ষা করছে
আরও পড়ুন
ঢাকা-দিল্লির বর্তমান সম্পকর্কে যেভাবে দেখছে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম
অন্য নারীর ছবিতে ‘লাইক’ দেওয়া বৈবাহিক বিশ্বাসভঙ্গের শামিল
মা-বাবার মৃত্যুর পর কেন ভাইবোনদের দূরত্ব বাড়ে
যতই ভালোবাসা থাকুক, যে ৫ কারণে ভেঙে যেতে পারে সম্পর্ক