মানুষের মনে প্রতিনিয়ত হাজারো চিন্তা উঁকি দেয়, যার মধ্যে নেতিবাচক চিন্তাভাবনা জীবনের স্বাভাবিক গতিশীলতা ও মানসিক বিকাশে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সচেতন প্রচেষ্টার মাধ্যমে নেতিবাচকতাকে জয় করে ইতিবাচক মানসিকতা গড়ে তোলা সম্ভব। ইতিবাচকতা মানে সমস্যাকে এড়িয়ে যাওয়া নয়, বরং যেকোনো প্রতিকূলতাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে সুন্দর দৃষ্টিভঙ্গিতে তার মোকাবিলা করা।
মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ইতিবাচক মানুষের সান্নিধ্য আমাদের চিন্তাধারা পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রাখে। যারা আশাবাদী এবং ইতিবাচক জীবনদর্শনে বিশ্বাসী, তাদের সঙ্গে সময় কাটালে নিজের আত্মবিশ্বাসও বাড়তে থাকে। পাশাপাশি আমরা সারাদিন কী দেখছি বা শুনছি, সেটিও আমাদের মনের ওপর প্রভাব ফেলে।
তাই নেতিবাচক সংবাদ বা হতাশাজনক বিষয়বস্তু এড়িয়ে অনুপ্রেরণামূলক গল্প, গান এবং ইতিবাচক বার্তা প্রচার করে এমন ভিডিও দেখার অভ্যাস করা উচিত।
তবে ইতিবাচক থাকার চেষ্টার মাঝে ‘টক্সিক পজিটিভিটি’ বা বিষাক্ত ইতিবাচকতা এড়িয়ে চলা জরুরি। নিজেকে সবসময় খুশি দেখানোর কৃত্রিম বাধ্যবাধকতা প্রকৃত আবেগকে দমন করে, যা দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। নেতিবাচক অনুভূতিগুলোকেও জীবনের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা এবং ধীরে ধীরে সেগুলোকে ইতিবাচক দিকে মোড় দেওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই হলো সঠিক পদ্ধতি।
এটি একদিনে না হলেও নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা সম্ভব।
মানসিক প্রশান্তির পাশাপাশি সুস্বাস্থ্য বজায় রাখাও ইতিবাচক থাকার একটি অন্যতম শর্ত। নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম এবং স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ শরীরের পাশাপাশি মনকেও প্রফুল্ল রাখে। একটি সুস্থ শরীর মানসিকভাবে শক্তিশালী হতে এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে।
জীবনকে সহজ ও আনন্দময় করে তুলতে প্রতিদিনের এই ছোট ছোট অভ্যাসগুলোই হয়ে উঠতে পারে বড় পরিবর্তনের চাবিকাঠি।
আরটিভি/এএইচ




