আধুনিক ব্যস্ত জীবনে রাইস কুকার একটি অপরিহার্য রান্নাঘরের অনুষঙ্গ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে অনেকেই মনে করেন, কেবল চাল আর পানি দিয়ে সুইচ টিপে দিলেই কাজ শেষ।
প্রকৃতপক্ষে, নিখুঁত ঝরঝরে ভাত পাওয়া এবং এই মূল্যবান যন্ত্রটিকে দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে কিছু সাধারণ বিষয়ের দিকে নজর দেওয়া জরুরি।
আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোটখাটো ভুল রাইস কুকার ও খাবারের গুণমান—উভয়েরই বড় ধরনের ক্ষতি করতে পারে।
রাইস কুকার ব্যবহারের প্রথম ধাপেই অনেকে চাল না ধুয়ে রান্না করার ভুলটি করেন। চালের গায়ে লেগে থাকা বাড়তি স্টার্চ বা মাড় না ধুলে ভাত আঠালো হয়ে যায় এবং রান্নার সময় পানি উপচে পড়ে চারপাশ নোংরা হতে পারে। এমনকি কুকারের নিচে ভাত পুড়ে যাওয়ার আশঙ্কাও থাকে। এছাড়া চাল ও পানির সঠিক অনুপাত বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি।
বাসমতী, জেসমিন বা ব্রাউন রাইসের ক্ষেত্রে পানির পরিমাণ ভিন্ন হয়। সঠিক পরিমাপ না জানলে ভাত হয় বেশি শক্ত হয়ে যায়, নয়তো একদম গলে যায়। কুকারের ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি চাল ও পানি দিলে তা উপচে পড়ে রান্নাঘর নোংরা করার পাশাপাশি যন্ত্রটির কার্যক্ষমতাও নষ্ট করতে পারে।
রান্নার মাঝে বারবার ঢাকনা খোলা রাইস কুকারের ভাপ বা স্টিম বের করে দেয়, যার ফলে ভাত সমানভাবে সেদ্ধ হয় না। এছাড়া দীর্ঘ সময় ধরে ‘কিপ ওয়ার্ম’ মুডে খাবার রেখে দেওয়াও একটি বড় ভুল। সাধারণত ১২ ঘণ্টার বেশি এই মোড ব্যবহার করলে ভাত শুকিয়ে শক্ত হয়ে যায় এবং এর প্রাকৃতিক ঘ্রাণ নষ্ট হয়।
রান্নার সুইচ বন্ধ হওয়ার পর অন্তত ৫ থেকে ১০ মিনিট হাঁড়িটি ঢেকে রাখা উচিত, যাতে অবশিষ্ট বাষ্পে প্রতিটি দানা ঝরঝরে হয়।
রাইস কুকারের সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের জন্য এর নন-স্টিক কোটিংয়ের যত্ন নেওয়া প্রয়োজন। স্টিল বা অ্যালুমিনিয়ামের চামচ ব্যবহার করলে পাত্রের কোটিং নষ্ট হয়ে যায়, তাই সব সময় প্লাস্টিক বা কাঠের চামচ ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ।
রাইস কুকার রাখার জায়গার ক্ষেত্রেও সচেতন হতে হবে; এটি কখনোই জানালার পর্দা বা কাঠের শেলফের নিচে রাখা উচিত নয়, কারণ রান্নার গরম ভাপ এসব জিনিসের ক্ষতি করতে পারে। পরিষ্কার করার সময় অবশ্যই প্লাগ খুলে নিতে হবে এবং খেয়াল রাখতে হবে যেন বৈদ্যুতিক সংযোগস্থলে পানি না লাগে।
রাইস কুকারকে কেবল ভাত রান্নার যন্ত্র ভাবাটাও এক ধরনের ভুল। এই বহুমুখী যন্ত্রে ওটস, ডাল, সবজি এমনকি কেকও তৈরি করা সম্ভব। নতুন কুকার কেনার সময় সবসময় নির্ভরযোগ্য ব্র্যান্ড বেছে নেওয়া এবং ব্যবহারের আগে প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা পড়ে নেওয়া উচিত।
প্লাগ বা সকেটে কোনো অস্বাভাবিক শব্দ বা তাপ অনুভব করলে তৎক্ষণাৎ ব্যবহার বন্ধ করে পেশাদার মেকানিকের সাহায্য নেওয়া জরুরি। সঠিক যত্ন ও সতর্ক ব্যবহার আপনার কিচেন অ্যাপ্লায়েন্সটিকে বছরের পর বছর নতুনের মতো সচল রাখবে। সূত্র: দ্য ডেইলি মিল
আরটিভি/এএইচ





