বর্তমান বিশ্বে নারীর অধিকার নিয়ে কাজ করছে বহু আন্তর্জাতিক সংগঠন। এদেশের নারীরা একসময় সব ক্ষেত্রেই পিছিয়ে ছিলেন। এসব নারীদের মানুষের মতো মানুষ হওয়ার স্বপ্ন দেখিয়েছেন অনেক মহীয়সী নারী, যাদের ত্যাগের কারণে কর্মক্ষেত্রের সকল জায়গায় নারীদের সরব পদচারণা এখন চোখে পড়ার মতো। তারা আমাদের কাছে শ্রেষ্ঠ নারীর প্রতিরূপ হয়ে আছেন। নারীদের অনুপ্রেরণা জোগানো এমনই কয়েকজন নারীর কথা তুলে ধরা হলো পাঠকদের জন্য।
বেগম রোকেয়া (১৮৮০-১৯৩২) : বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন মুসলিম নারী জাগরণের অন্যতম পথিকৃত, নারী মুক্তি আন্দোলনের প্রধান অগ্রদূত। তিনি বাংলার মুসলিম নারী সমাজকে অজ্ঞতা, কুসংস্কার এবং অবরোধ প্রথার অন্তরালের চরম নির্যাতিত অবস্থা থেকে মুক্ত হবার জন্য আকুল আহ্বান জানিয়েছেন। নারী সমাজকে শিক্ষিত করে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করাই ছিল তার আজীবন সাধনা।

বেগম সুফিয়া কামাল (১৯১১-১৯৯৯): বাঙালি মুসিলম সমাজের অন্ধকার নিগড় থেকে যে কিশোরী বালিকা একদিন আপন সাহস ও সংগ্রামে জয় করে সমগ্র বাঙালি জাতির শ্রদ্ধার আসনে বিভূষিত হয়েছিলেন তিনি- কবি সুফিয়া কামাল। তিনি শুধু বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ মহিলা কবিই নন, নারী আন্দোলন ও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পুরোধা ব্যক্তিত্বও ছিলেন। সুফিয়া কামাল এদেশের পিছিয়ে পড়া নারী সমাজকে শিক্ষা-দীক্ষায় নিজের পায়ে দাঁড়াতে উৎসাহ ও প্রেরণা জুগিয়েছেন জীবনভর। তিনি ছিলেন এ দেশের নারী সমাজের জাগরণের অগ্রজ নেত্রী বেগম রোকেয়ার উত্তরসূরি। বাঙালি মুসলিম মহিলাদের মধ্যে কাব্য ও সাহিত্যচর্চায় তিনি যেমন এক প্রধান ব্যক্তিত্ব তেমনই সামাজিক শক্তির ক্ষেত্রেও তিনি ছিলেন অনন্য সাহসের উৎস।

জাহানারা ইমাম (১৯২৯-১৯৯৪): শহীদ জননী জাহানারা ইমাম বাংলা সাহিত্যে অসামান্য অবদানের জন্যে তিনি ১৯৯১ সালে তিনি ‘বাংলা একাডেমি পুরস্কার’ লাভ করেন। জাহানারা ইমাম ‘একাত্তরের দিনগুলি’ বইয়ের জন্য তিনি বিখ্যাত। মুক্তিযুদ্ধে তার বড় ছেলে শফি ইমাম রুমী দেশের মুক্তিসংগ্রামে অংশগ্রহণ করেন এবং কয়েকটি সফল গেরিলা অপারেশনের পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার হন। পরবর্তীতে নির্মমভাবে শহীদ হন।

মাদার তেরেসা (১৯১০-১৯৯৭): আমৃত্যু আর্তমানবতার সেবায় নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে সারাবিশ্বের মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে আছেন মহীয়সী নারী। যিনি মানুষের মাঝে খুঁজে নিয়েছিলেন ঈশ্বরকে। তার কাছে ছিল না কোনো জাতি-ধর্মের ভেদাভেদ, মানবসেবাকেই নিয়েছিলেন ধর্ম হিসেবে, তিনি হলেন বিশ্ব মানবতার মা মাদার তেরেসা। মাদার তেরেসার জন্ম ১৯১০ সালের ২৬ আগস্ট। মাদার তেরেসা নামে অধিক পরিচিত হলেও তার আসল নাম মেরি টেরিজা বোজাঝিউ। তিনি ছিলেন একজন আলবেনীয়-বংশোদ্ভুত ভারতীয় ক্যাথলিক সন্ন্যাসিনী এবং ধর্মপ্রচারক। টেরিজার জন্মস্থান অটোমান সাম্রাজ্যের আলবেনিয়া রাজ্যের স্কপিয়ে। আঠারো বছর বয়স পর্যন্ত তিনি সেখানেই কাটান। ১৯২৮ সালে তিনি আয়ারল্যান্ড হয়ে তৎকালীন ব্রিটিশ উপনিবেশ ভারতে খ্রিস্টধর্ম প্রচার অভিযানে আসেন। জীবনের বাকি অংশ তিনি ভারতেই থেকে যান।

ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল (১৮২০-১৯১০): পেশায় একজন নার্স ছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিংগেল। নার্সিং পেশার বিষয়ে মানুষের ধারণাই পাল্টে দিয়েছিলেন এই মহীয়সী নারী। ক্রিমিয়া যুদ্ধে হাজারও সৈন্যের প্রাণ রক্ষা করেছিলেন সেবা শ্রশ্রুষার মাধ্যমে। নার্সিং পেশার অগ্রদূত বলা হয় ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেলকে। নার্সিং একটি পেশা নয় সেবা, তা প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন তিনি। রয়াল রেড ক্রস, অর্ডার অফ মেরিটসহ নানা আন্তর্জাতিক পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিলেন ফ্লোরেন্স নাইটিঙ্গেল।

মেরি ক্যুরি (১৮৬৭-১৯৩৪): মেরি কুরি। প্রথম নারী বিজ্ঞানী যিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন পদার্থ বিজ্ঞানে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের জগতে মেরি কুরির ভূমিকা রয়েছে ইতিহাসের পাতায়। প্রথম এক্স-রে মেশিন আবিষ্কার করেছিলেন তিনি। শুধু তাই নয়, ১৯১১ সালে ফের তিনি নোবেল পুরস্কার পান। তবে এবার তিনি নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন রসায়নে।





