কোরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়, এটি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। তাই শুধু কোরবানি দিলেই হবে না, সেটি যেন আল্লাহর দরবারে কবুল হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কিছু গুরুত্বপূর্ণ শর্ত পূরণ হলেই কোরবানি কবুল হওয়ার আশা করা যায়।
সামর্থ্যবান মুসলমান নারী-পুরুষের ওপর কোরবানি ওয়াজিব। তবে কোরবানির মূল শর্তই হলো বিশুদ্ধ নিয়ত। কোরবানি হতে হবে শুধুই আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য। লোক দেখানো, সম্মান পাওয়ার ইচ্ছা বা সম্পদের বাহাদুরি দেখানোর জন্য কোরবানি করলে সেই ইবাদত গ্রহণযোগ্য হবে না।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন—
“এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর কাছে পৌঁছে না। কিন্তু পৌঁছে তাঁর নিকট তোমাদের মনের তাকওয়া।” (সুরা হজ, আয়াত: ৩৭)
কোরবানির পশু কেনার অর্থও হতে হবে হালাল উপার্জনের। হারাম বা সন্দেহযুক্ত সম্পদ দিয়ে কোরবানি করলে তা কবুল হয় না। এ বিষয়ে হাদিসে এসেছে—
“আল্লাহ তায়ালা পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র জিনিসই কবুল করেন।” (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৩৯৩)
একইভাবে শরিকে কোরবানি দিলে অন্য শরিকদের ব্যাপারেও সতর্ক থাকতে হবে। যদি জানা যায় কোনো ব্যক্তি হারাম সম্পদ দিয়ে কোরবানি দিচ্ছেন, তাহলে তার সঙ্গে এক পশুতে শরিক হওয়া যাবে না। এতে অন্যদের কোরবানিও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
কোরবানির জন্য নির্ধারিত পশুও হতে হবে শরিয়তসম্মত। উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা ছাড়া অন্য কোনো পশু দিয়ে কোরবানি বৈধ নয়।
আল্লাহ তাআলা বলেন—
“আমি প্রত্যেক উম্মতের জন্য কোরবানি নির্ধারণ করেছি, যেন তারা আল্লাহর দেওয়া চতুষ্পদ জন্তু জবাই করার সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করে।” (সুরা হজ, আয়াত: ৩৪)
কোরবানির সময়ও নির্ধারিত। ঈদুল আজহার নামাজের পর থেকে ১২ জিলহজ সূর্যাস্ত পর্যন্ত কোরবানি করা যাবে। এর আগে বা পরে পশু জবাই করলে কোরবানি আদায় হবে না।
এছাড়া পশু জবাই করতে হবে ইসলামি নিয়মে। জবাইয়ের সময় আল্লাহর নাম উচ্চারণ করতে হবে এবং ধারালো ছুরি ব্যবহার করতে হবে, যাতে পশুর কষ্ট কম হয়। নিজের হাতে কোরবানি করা উত্তম হলেও অন্য কাউকে দিয়েও জবাই করানো যায়।
ইসলামি স্কলারদের মতে, কোরবানির আসল শিক্ষা হলো ত্যাগ, তাকওয়া ও আল্লাহর প্রতি আনুগত্য। তাই শুধু আয়োজন নয়, নিয়ত ও আমল ঠিক থাকলেই কোরবানি হবে কবুলের উপযুক্ত ইবাদত।
আরটিভি/জেএমএ



