ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১৯ কার্তিক ১৪৩৩

হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড় নিয়ে নতুন উদ্যোগ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০২ জুন ২০২৬, ১১:৩৩ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

পবিত্র হজের মূল আনুষ্ঠানিকতা শেষে হাজিদের ব্যবহৃত ইহরামের কাপড়কে আবর্জনায় রূপান্তর না করে পরিবেশবান্ধব সম্পদে পরিণত করার এক অভিনব উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি আরব। টেকসই ইহরাম নামের এই বিশেষ প্রকল্পের আওতায় গত এক বছরে হাজিদের ব্যবহৃত কাপড় রিসাইকেল বা পুনর্ব্যবহার করে ৫ হাজারেরও বেশি নতুন পণ্য তৈরি করা হয়েছে।

সৌদি আরবের জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র সুলতান আল-হার্থি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, এই উদ্যোগটি সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্য অর্জনে, বিশেষ করে জাতীয় রূপান্তর কর্মসূচি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন প্রকল্পের সঙ্গে সরাসরি সংগতিপূর্ণ।

ইহরামের সাদা কাপড় মূলত সাম্য, পবিত্রতা ও নম্রতার প্রতীক। হজের সময় পুরুষদের জন্য সেলাইবিহীন দুটি সাদা সুতি কাপড় পরা আবশ্যক, যা সব ধরনের সামাজিক বা অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করে সবাইকে এক কাতারে নিয়ে আসে। হজের নিয়ম অনুযায়ী, ১০ জিলহজ জামারাতে পাথর নিক্ষেপ এবং চুল কাটার পর হাজিরা প্রথম দফায় ইহরামের অবস্থা থেকে বের হন এবং তাওয়াফে ইফাদাহ শেষ করার পর সম্পূর্ণ স্বাভাবিক পোশাকে ফিরে আসেন। এরপরই বিপুল পরিমাণ ইহরামের কাপড় উদ্বৃত্ত থেকে যায়।

সুলতান আল-হার্থি বলেন, এই প্রকল্প পরিবেশ রক্ষার পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে অবদান রাখছে এবং অলাভজনক খাতকে শক্তিশালী করছে। এর মাধ্যমে বিশেষ করে উৎপাদনমুখী পরিবারের নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। এছাড়া এই উদ্যোগের ফলে হাজিদের সেবার মান আরও উন্নত হচ্ছে।

অর্থনৈতিক ও পরিবেশগত প্রভাবের কথা উল্লেখ করে তিনি জানান, ফেলে দেওয়া ইহরামের কাপড় দিয়ে ৫ হাজারেরও বেশি পণ্য তৈরি করায় পরিবহন এবং ডাম্পিং বা বর্জ্য ফেলার খরচ অনেকটাই কমেছে। এই প্রকল্পের মাধ্যমে ৩০টি খণ্ডকালীন কর্মসংস্থান তৈরি হয়েছে এবং ২৫ জন প্রান্তিক নারী দর্জিকে স্বাবলম্বী করা সম্ভব হয়েছে, যা চক্রাকার অর্থনীতি বা সার্কুলার ইকোনমির একটি দারুণ উদাহরণ।

আরও পড়ুন

পরিবেশগতভাবে এই উদ্যোগের মাধ্যমে ২১১ টনেরও বেশি কাপড়ের বর্জ্য ল্যান্ডফিলে বা আবর্জনার স্তূপে যাওয়া থেকে রক্ষা পেয়েছে, যা হজের মৌসুমে কার্বন নিঃসরণ কমাতে বড় ভূমিকা রেখেছে। এছাড়া হজের সময় চালানো বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমে প্রায় ২ লাখ হাজি পরিবেশ সুরক্ষার এই কার্যক্রমে যুক্ত হয়েছেন।

প্রকল্পের কার্যপ্রণালী সম্পর্কে মুখপাত্র জানান, প্রথমে পবিত্র স্থানগুলোর নির্দিষ্ট বুথ থেকে ব্যবহৃত কাপড় সংগ্রহ করা হয়। এরপর সেগুলো কঠোরভাবে বাছাই করে আধুনিক ও উন্নত প্রযুক্তিতে জীবাণুমুক্ত করা হয়, যাতে কাপড়ে কোনো ধরনের ময়লা বা ত্রুটি না থাকে। শতভাগ স্বাস্থ্যসুরক্ষা নিশ্চিত করার পরই শুধু এগুলো দিয়ে নতুন পণ্য তৈরির কাজ শুরু হয়। বর্তমানে এই প্রক্রিয়াজাত করা কাপড় দিয়ে আকর্ষণীয় ব্যাগ, বালিশ, বিভিন্ন ধরনের কভার এবং উপহার সামগ্রী তৈরি করা হচ্ছে।

এই প্রকল্পের সফলতার পেছনে সরকারি, বেসরকারি এবং অলাভজনক ২২টি সংস্থার যৌথ অংশীদারিত্বকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন আল-হার্থি। তিনি জানান, প্রতি বছর হাজিদের মধ্যে ইহরামের কাপড় দান করার প্রবণতা বাড়ছে, যা পরিবেশ সচেতনতার এক ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।

শুধু কাপড়ই নয়, হজের সময় বেঁচে যাওয়া উদ্বৃত্ত খাবারকে জৈব সারে রূপান্তর করার জন্যও কাজ করছে জাতীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র। এই সফল মডেলটি আগামী দিনে সৌদি আরবের অন্যান্য বড় প্রকল্পেও ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হচ্ছে, যা বর্জ্যকে সম্পদে পরিণত করে একটি টেকসই ও পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে সাহায্য করবে।

সূত্র : আরব নিউজ

আরটিভি/ এসকেডি

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
আজকের নামাজের সময়সূচি
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আন্তর্জাতিক জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক গবেষণা সংস্থাগুলোর হিসাব-নিকাশ অনুযায়ী ২০২৭ সালের পবিত্র রমজান মাস শুরু এবং ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য সময়সূচির তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে (Astronomical calculations Ramadan start date 2027)। 
রমজান ও ঈদুল ফিতরের সম্ভাব্য তারিখ প্রকাশ
আজকের নামাজের সময়সূচি
সোমবার (২ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ- 
আজকের নামাজের সময়সূচি
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
সৌদি আরবে ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে আটকে রাখা ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল ফেরত পেয়েছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। রোববার (১ নভেম্বর) হজযাত্রীদের ইন্স্যুরেন্স-বহির্ভূত চিকিৎসা ব্যয় থেকে সৌদি সরকারের অর্থ ফেরত দেওয়ার বিষয়ে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসেন কায়কোবাদ। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী বলেন, পবিত্র হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ ও আনন্দের সংবাদ আপনাদের সামনে উপস্থাপন করছি। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর ইন্স্যুরেন্স কাভারেজের বাইরে চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে সৌদি কর্তৃপক্ষ যে অর্থ কেটে রেখেছিল, তা সফলভাবে ফেরত আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, হজযাত্রীদের আর্থিক স্বার্থ রক্ষা এবং দেশের বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের ক্ষেত্রে এটি একটি উল্লেখযোগ্য সাফল্য। ফেরত পাওয়া ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল বাংলাদেশি মুদ্রায় আনুমানিক ১০ কোটি ২৩ লাখ টাকা। ২০২৬ সালের হজ মৌসুমে মোট ৩৪০ জন বাংলাদেশি হজযাত্রীর চিকিৎসা ব্যয়ের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, সৌদি কর্তৃপক্ষ সর্বমোট ৩০ লাখ ৯১ হাজার ২৪৩ সৌদি রিয়াল কেটে সংরক্ষণ করেছিল। এর মধ্যে বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজ এজেন্সির মাধ্যমে যাওয়া ৩১০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ২৯ লাখ ৭৬ হাজার ১৫১ সৌদি রিয়াল এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় যাওয়া ৩০ জন হজযাত্রীর বিপরীতে ১ লাখ ১৫ হাজার ৯২ সৌদি রিয়াল কেটে রাখা হয়েছিল। বিষয়টি জানার পর ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সার্বিক দিকনির্দেশনায় বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দা অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ শুরু করে। সৌদি আরবের হজ ও ওমরাহ মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ, তথ্য যাচাই, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উপস্থাপন এবং গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে অর্থ ফেরত পাওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয় বলেও জানান শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন। ধর্মমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী হজ মৌসুমগুলোতে এ ধরনের অর্থ কর্তনের কোনো নজির ছিল না। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ তথ্য ও যুক্তিসহ তুলে ধরা হয়। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার আন্তরিক প্রচেষ্টা, দায়িত্বশীল ভূমিকা এবং সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কূটনৈতিক সমন্বয় ও পারস্পরিক সহযোগিতার ফলে শেষ পর্যন্ত এই অর্থ ফেরত পাওয়া সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন, আলহামদুলিল্লাহ, গত ২৯ অক্টোবর বাংলাদেশ হজ অফিস, জেদ্দার নুসুক সিস্টেমে সম্পূর্ণ অর্থ ফেরত জমা হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে ধর্মমন্ত্রী আরও বলেন, হজ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ২০২৬ সালের পবিত্র হজের উদ্বৃত্ত অর্থ থেকে ৪ হাজার ৩৪১ জন হজযাত্রীকে মোট ৪ কোটি ৮৭ লাখ ২৩ হাজার ১৪ টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আরটিভি/টিআর
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
আজকের নামাজের সময়সূচি
রোববার (১ নভেম্বর) ঢাকা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকার নামাজের সময়সূচি নিম্নরূপ-
আজকের নামাজের সময়সূচি
আরও পড়ুন
বাংলাদেশি হজযাত্রীদের ১০ কোটি টাকা ফেরত দিল সৌদি আরব
শাহজালাল বিমানবন্দরে যাত্রীর প্যান্টে মিলল ২৪ কোটি টাকার তরল সোনা
স্বামীর চাকরি ও মানসিক শান্তির আশায় শাহজালাল (রহ.) মাজারে স্ত্রীর চিঠি
মাদরাসা শিক্ষককে চড় মারা সেই রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান নিয়ে যা জানা গেল