ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘ভিট্রুভিয়ান ম্যানের’ ৫০০ বছরের পুরোনো রহস্য সমাধানের দাবি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্র ভিট্রুভিয়ান ম্যান। ছবি: সংগৃহীত

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্র ভিট্রুভিয়ান ম্যান ঘিরে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরোনো এক রহস্যের সম্ভাব্য সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এক গবেষক। মানবদেহের আদর্শ অনুপাত তুলে ধরা এই অঙ্কনটির পেছনে লুকিয়ে থাকা জ্যামিতিক সূত্র নিয়েই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা।

১৪৯০ সালে আঁকা এই চিত্রে দা ভিঞ্চি মানুষের শরীরকে একই সঙ্গে একটি বৃত্ত ও একটি বর্গক্ষেত্রের ভেতরে বসিয়ে আদর্শ মানবদেহের অনুপাত ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত শিল্পকর্মগুলোর একটি হলেও এতদিন পর্যন্ত ঠিক কোন গাণিতিক নিয়ম মেনে তিনি হাত-পা ও শরীরের অনুপাত নির্ধারণ করেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় লন্ডনের দন্তচিকিৎসক রোরি ম্যাক সুইনি দাবি করেছেন, ছবিটির মাঝখানে লুকিয়ে থাকা একটি সমবাহু ত্রিভুজই এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে। তার মতে, ভিট্রুভিয়ান ম্যানের দুই পায়ের মাঝামাঝি অংশে এমন একটি জ্যামিতিক কাঠামোর ইঙ্গিত রয়েছে, যা ছবিটির সামগ্রিক অনুপাত বোঝার চাবিকাঠি হতে পারে।

চিত্রটি আংশিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল প্রাচীন রোমান স্থপতি ভিট্রুভিয়াসের লেখনী থেকে। তিনি মনে করতেন, আদর্শ মানবদেহ এমনভাবে গঠিত যে তা একটি বৃত্ত এবং একটি বর্গক্ষেত্রের ভেতরে নিখুঁতভাবে স্থাপন করা যায়।

দা ভিঞ্চির অঙ্কনে দেখা যায়, হাত দুটো প্রসারিত ও পা কাছাকাছি রেখে দাঁড়ানো অবস্থায় শরীরটি একটি বর্গক্ষেত্রের মধ্যে মিলে যায়। আবার হাত ওপরে তোলা ও পা ফাঁক করা অবস্থায় একই শরীর একটি বৃত্তের ভেতরে অবস্থান করে।

অনেক দিন ধরে ধারণা করা হয়েছিল, এই অনুপাত নির্ধারণে দা ভিঞ্চি ‘গোল্ডেন রেশিও’ ব্যবহার করেছিলেন। তবে পরিমাপের ক্ষেত্রে সেই ধারণা পুরোপুরি মেলে না।

ম্যাক সুইনির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দা ভিঞ্চির নোটে উল্লেখিত একটি সমবাহু ত্রিভুজের ধারণা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, মানুষের নাভির উচ্চতা ও পায়ের বিস্তারের অনুপাত প্রায় ১ দশমিক ৬৪ থেকে ১ দশমিক ৬৫, যা ১ দশমিক ৬৩৩ অনুপাতের খুব কাছাকাছি। এই অনুপাতকে টেট্রাহেড্রাল রেশিও বলা হয়, যা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ জ্যামিতিক গঠনের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

এই অনুপাত প্রকৃতিতে বিভিন্ন কাঠামো, যেমন স্ফটিক বা জৈব গঠনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এমনকি মানবদেহের চোয়ালের কার্যকর অবস্থান নির্ধারণে ব্যবহৃত ‘বনউইল ত্রিভুজ’ নামে একটি দন্তচিকিৎসা নীতিতেও একই ধরনের অনুপাত পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

গবেষকের ধারণা, মানুষের শরীরও প্রকৃতির অন্যান্য জ্যামিতিক গঠনের মতো নির্দিষ্ট গাণিতিক নীতির ভিত্তিতে সংগঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দা ভিঞ্চি ভিট্রুভিয়ান ম্যান আঁকার সময় সেই মৌলিক জ্যামিতিক নীতির আভাস পেয়েছিলেন।

গবেষণাটি জার্নাল অব ম্যাথেমেটিক্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
মহাকাশের বৈচিত্র্যময় সৌন্দর্য তুলে ধরে নতুন একটি গ্যালারি প্রকাশ করেছে নাসার চন্দ্র এক্স-রে অবজারভেটরি। এতে বিভিন্ন টেলিস্কোপের তথ্য মিলিয়ে তৈরি ১৬টি গ্যালাক্সির ছবি রয়েছে।
নাসার নতুন গ্যালারিতে মহাকাশের ১৬ ‘গ্যালাকটিক রত্ন’
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
ফেলে দেওয়া প্লাস্টিকের বোতল ও কৃষিজ বর্জ্যকে প্রোটিনসমৃদ্ধ কুকিজে রূপান্তরের প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ইলিনয় ইউনিভার্সিটির গবেষকেরা। নাসার নেতৃত্বে গভীর মহাকাশ অভিযানের জন্য খাদ্য তৈরির একটি প্রকল্পের অংশ হিসেবে তৈরি এই প্রযুক্তি ভবিষ্যতে খাদ্যসংকট মোকাবিলা ও প্লাস্টিক দূষণ কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকেরা নতুন এই খাবারের নাম দিয়েছেন ‘µBites’। এর প্রধান উপাদানের মধ্যে রয়েছে ফেলে দেওয়া পিইটি (PET) প্লাস্টিক (সাধারণত পানীয় ও পানির বোতল তৈরিতে যে প্লাস্টিক ব্যবহৃত হয়)। এর সঙ্গে ব্যবহার করা হচ্ছে ভুট্টার ডাঁটা ও পাতার মতো কৃষিজ বর্জ্য। গবেষণা প্রক্রিয়ায় পানি ও অক্সিজেন ব্যবহার করে প্রচণ্ড তাপ ও চাপের মাধ্যমে প্লাস্টিক ও উদ্ভিজ্জ বর্জ্যকে ভেঙে ক্ষুদ্র উপাদানে পরিণত করা হয়। পরে বিশেষভাবে প্রস্তুত অণুজীবের সাহায্যে এসব উপাদানকে প্রোটিন, চর্বি ও বিভিন্ন অ্যাসিডে রূপান্তর করা হয়। আরও পড়ুন পৃথিবীতে মানুষের আগেও কি ছিল উন্নত সভ্যতা? যা বলছেন বিজ্ঞানীরা এরপর থ্রিডি প্রিন্টারের মাধ্যমে ওই মিশ্রণকে কুকিজের আকার দেওয়া হয়। কুকিজের স্বাদ ও পুষ্টিমান বাড়াতে আলাদাভাবে তৈরি ইস্টও ব্যবহার করা হচ্ছে। গবেষকদের তৈরি এক ধরনের ইস্ট উদ্ভিজ্জ বর্জ্য থেকে সরাসরি ভ্যানিলার স্বাদ তৈরি করতে পারে। অন্য একটি ইস্ট পিইটি প্লাস্টিকে থাকা ইথিলিন গ্লাইকোলকে বিটা-ক্যারোটিনে রূপান্তর করে। মানবদেহে বিটা-ক্যারোটিন ভিটামিন ‘এ’-তে রূপান্তরিত হয়। গবেষক দল জানিয়েছে, ‘µBites’ খাওয়ার উপযোগী কি না, সে বিষয়ে নিরাপত্তা পরীক্ষা ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিক স্বাদ পরীক্ষার জন্য এখনো প্রাতিষ্ঠানিক অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে প্রকল্পটি। এর আগে পরিচালিত গন্ধ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া অধিকাংশ মানুষ জানিয়েছেন, সম্পদের সংকট রয়েছে— এমন পরিস্থিতিতে তারা এই কুকিজ খেতে রাজি। গবেষক লাহিরু জয়াকোডি জানান, ভবিষ্যতে কুকিজে স্টার্চ, ফাইবার ও মিষ্টিকারক উপাদান যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। কয়েক বছরের মধ্যে এগুলো সাধারণ মানুষের খাওয়ার উপযোগী করে তোলার আশা করছেন তারা। গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির সম্ভাবনা শুধু মহাকাশ অভিযানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। মানবিক সংকটের সময় খাদ্যসংকট মোকাবিলা, সীমিত সম্পদের পরিবেশে খাবার উৎপাদন এবং প্লাস্টিক বর্জ্য কমানোর ক্ষেত্রেও এটি কাজে লাগতে পারে। বিশ্বজুড়ে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ার মধ্যে বর্জ্যকে পুষ্টিকর খাবারে রূপান্তরের এই প্রযুক্তিকে সম্ভাবনাময় উদ্যোগ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা। তাদের ধারণা, ভবিষ্যতে মানুষ যে বর্জ্য তৈরি করছে, অণুজীবের সাহায্যে সেটিকেই আবার খাদ্যের উপযোগী উপাদানে পরিণত করা সম্ভব হতে পারে। সূত্র: ফোর্বস আরটিভি/এমএইচজে
প্লাস্টিকের বোতল দিয়ে বিস্কুট বানাচ্ছেন গবেষকরা
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের স্মৃতি এখনো কাটেনি, এরই মধ্যে আকাশে আজ রাতে শুরু হচ্ছে আরেক বৈচিত্র্যময় মহাজাগতিক ঘটনা—আংশিক চন্দ্রগ্রহণ। গ্রহণের সর্বোচ্চ মুহূর্তে পৃথিবীর ছায়ায় চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে গিয়ে এটি রূপ নেবে এক ম্লান কমলা ও রক্তিম আভায়। জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের মতে, এই আংশিক চন্দ্রগ্রহণটি মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, আফ্রিকা এবং পশ্চিম ইউরোপের আকাশজুড়ে দৃশ্যমান হবে। সময় ও ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে বাংলাদেশ বা দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলগুলো থেকে সরাসরি খালি চোখে এই গ্রহণ দেখা যাবে না। আকাশে চাঁদের উদয় ও গ্রহণের মূল সময়সূচির তারতম্যের কারণেই বাংলাদেশিরা এই বিরল দৃশ্যের দেখা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সময় অনুযায়ী, আজ রাতে চাঁদ যখন পৃথিবীর গভীর ছায়াবলয়ে প্রবেশ করতে শুরু করবে, তখন দক্ষিণ এশিয়ায় থাকবে দিনের আলো কিংবা চাঁদের অবস্থান থাকবে দিগন্তের নিচে। সর্বোচ্চ গ্রহণের সময়ে পৃথিবীর প্রচ্ছায়ায় চাঁদের প্রায় পুরো অংশ ঢেকে গিয়ে যে 'রক্তিম আভা' বা বিশেষ রূপ তৈরি হবে, তা দেখার সুযোগ পাবেন মূলত পশ্চিম গোলার্ধের মানুষ। আরও পড়ুন আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় রাত ৯টা ২৩ মিনিটে গ্রহণের প্রাথমিক প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে আসল দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করবে রাত ১০টা ৩৩ মিনিট থেকে। গভীর রাতে, অর্থাৎ ২৮ আগস্ট মধ্যরাত ১২টা ১৩ মিনিটে গ্রহণটি তার চূড়ান্ত রূপ নেবে। সে সময় চাঁদের একটি সরু অংশ ছাড়া পুরোটাই ঢেকে যাবে পৃথিবীর গাঢ় ছায়ায়। একই সময়ে আকাশে উদয় ঘটবে চলতি আগস্ট মাসের বিশেষ পূর্ণিমার, যা ঐতিহাসিকভাবে ‘স্টার্জন মুন’ নামে পরিচিত। উত্তর আমেরিকা, আফ্রিকা ও ইউরোপের অধিবাসীরা কোনো ধরনের চোখের সুরক্ষা সামগ্রী ছাড়াই খালি চোখে দীর্ঘ সময় ধরে উপভোগ করতে পারবেন আকাশের এই বিরল রূপ। আর বাংলাদেশের জ্যোতির্বিজ্ঞান অনুরাগী ও সাধারণ মানুষকে এই মহাজাগতিক দৃশ্যের সৌন্দর্য উপভোগ করতে নির্ভর করতে হবে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা ও পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সরাসরি অনলাইন সম্প্রচারের ওপর। আরটিভি/এআর 
আজ রাতেই বিরল চন্দ্রগ্রহণ, বাংলাদেশ থেকে দেখা যাবে কি?
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের দুই সপ্তাহ পর বিশ্ব আরও একটি মহাজাগতিক ঘটনার সাক্ষী হতে যাচ্ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) গভীর রাত থেকে আগামীকাল শুক্রবার (২৮ আগস্ট) ভোরের মধ্যে আকাশে এক অদ্ভুত সুন্দর দৃশ্য দেখা যাবে।  বিশ্বজুড়ে মহাকাশপ্রেমীরা উপভোগ করতে যাচ্ছেন পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ। যেখানে গ্রহণের সর্বোচ্চ পর্যায়ে চাঁদের প্রায় ৯৬ শতাংশ অংশই পৃথিবীর ছায়ায় ঢাকা পড়ে যাবে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানায়, বাংলাদেশ সময় আগামীকাল শুক্রবার সকাল ১০:১২ মিনিটে এই গ্রহণ তার সর্বোচ্চ রূপ ধারণ করবে। তবে ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মূল দৃশ্যটি সবচেয়ে পরিষ্কার দেখা যাবে উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা অঞ্চলের দেশগুলো থেকে। পাশাপাশি ইউরোপ ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকেও চাঁদ ওঠা বা ডোবার সময় এর কিছুটা উপভোগ করা যাবে। আরও পড়ুন সূর্যগ্রহণ সম্পর্কে ১১ তথ্য, যা অনেকেই জানেন না চাঁদের বেশিরভাগ অংশ পৃথিবীর সবচেয়ে অন্ধকার ছায়ায় ঢেকে গেলেও সূর্যালোক আমাদের বায়ুমণ্ডল ভেদ করে কিছুটা প্রতিফলিত হবে। ফলে চাঁদ পুরোপুরি অদৃশ্য না হয়ে তামাটে বা লালচে বর্ণ ধারণ করবে, যাকে অনেকেই রূপক অর্থে ‘ব্লাড মুন’ বলেন। পুরো চন্দ্রগ্রহণ প্রক্রিয়াটি পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চললেও এর আসল সৌন্দর্য অর্থাৎ চাঁদের এই লালচে ভাবটি অল্প কিছুক্ষণের জন্যই স্থায়ী হবে। এদিকে সূর্যগ্রহণের বিপরীতে, চন্দ্রগ্রহণ খালি চোখে নিরাপদে দেখা যায়। এই চন্দ্রগ্রহণের আগে ঘটেছিল একটি পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। ওই সূর্যগ্রহণ স্পেন, পর্তুগালের একটি ছোট অংশ, গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড এবং উত্তর রাশিয়ার আকাশ অন্ধকার করে দিয়েছিল। পরবর্তী সূর্যগ্রহণ হবে ৬ ফেব্রুয়ারি, যা দক্ষিণ আমেরিকা ও আফ্রিকার কিছু অংশ থেকে দেখা যাবে। পরবর্তী চন্দ্রগ্রহণ ঘটবে ২০ থেকে ২১ ফেব্রুয়ারির রাতজুড়ে। নাসার তথ্য অনুযায়ী, এটি উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, ইউরোপ, আফ্রিকা, এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া এবং অ্যান্টার্কটিকা থেকে দেখা যাওয়ার কথা। আরটিভি/এসআর
আজ পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যেসব স্থান থেকে দেখা যাবে