ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির ‘ভিট্রুভিয়ান ম্যানের’ ৫০০ বছরের পুরোনো রহস্য সমাধানের দাবি

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১১ মার্চ ২০২৬, ০৭:৫৮ পিএম
লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্র ভিট্রুভিয়ান ম্যান। ছবি: সংগৃহীত

লিওনার্দো দা ভিঞ্চির বিখ্যাত চিত্র ভিট্রুভিয়ান ম্যান ঘিরে প্রায় পাঁচ শতাব্দীর পুরোনো এক রহস্যের সম্ভাব্য সমাধান পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন এক গবেষক। মানবদেহের আদর্শ অনুপাত তুলে ধরা এই অঙ্কনটির পেছনে লুকিয়ে থাকা জ্যামিতিক সূত্র নিয়েই নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে সাম্প্রতিক একটি গবেষণা।

১৪৯০ সালে আঁকা এই চিত্রে দা ভিঞ্চি মানুষের শরীরকে একই সঙ্গে একটি বৃত্ত ও একটি বর্গক্ষেত্রের ভেতরে বসিয়ে আদর্শ মানবদেহের অনুপাত ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেছিলেন। বিশ্বের সবচেয়ে পরিচিত শিল্পকর্মগুলোর একটি হলেও এতদিন পর্যন্ত ঠিক কোন গাণিতিক নিয়ম মেনে তিনি হাত-পা ও শরীরের অনুপাত নির্ধারণ করেছিলেন, তা স্পষ্টভাবে বোঝা যায়নি।

সম্প্রতি প্রকাশিত এক গবেষণায় লন্ডনের দন্তচিকিৎসক রোরি ম্যাক সুইনি দাবি করেছেন, ছবিটির মাঝখানে লুকিয়ে থাকা একটি সমবাহু ত্রিভুজই এই রহস্যের ব্যাখ্যা দিতে পারে। তার মতে, ভিট্রুভিয়ান ম্যানের দুই পায়ের মাঝামাঝি অংশে এমন একটি জ্যামিতিক কাঠামোর ইঙ্গিত রয়েছে, যা ছবিটির সামগ্রিক অনুপাত বোঝার চাবিকাঠি হতে পারে।

চিত্রটি আংশিকভাবে অনুপ্রাণিত হয়েছিল প্রাচীন রোমান স্থপতি ভিট্রুভিয়াসের লেখনী থেকে। তিনি মনে করতেন, আদর্শ মানবদেহ এমনভাবে গঠিত যে তা একটি বৃত্ত এবং একটি বর্গক্ষেত্রের ভেতরে নিখুঁতভাবে স্থাপন করা যায়।

দা ভিঞ্চির অঙ্কনে দেখা যায়, হাত দুটো প্রসারিত ও পা কাছাকাছি রেখে দাঁড়ানো অবস্থায় শরীরটি একটি বর্গক্ষেত্রের মধ্যে মিলে যায়। আবার হাত ওপরে তোলা ও পা ফাঁক করা অবস্থায় একই শরীর একটি বৃত্তের ভেতরে অবস্থান করে।

অনেক দিন ধরে ধারণা করা হয়েছিল, এই অনুপাত নির্ধারণে দা ভিঞ্চি ‘গোল্ডেন রেশিও’ ব্যবহার করেছিলেন। তবে পরিমাপের ক্ষেত্রে সেই ধারণা পুরোপুরি মেলে না।

ম্যাক সুইনির বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দা ভিঞ্চির নোটে উল্লেখিত একটি সমবাহু ত্রিভুজের ধারণা এখানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তার হিসাব অনুযায়ী, মানুষের নাভির উচ্চতা ও পায়ের বিস্তারের অনুপাত প্রায় ১ দশমিক ৬৪ থেকে ১ দশমিক ৬৫, যা ১ দশমিক ৬৩৩ অনুপাতের খুব কাছাকাছি। এই অনুপাতকে টেট্রাহেড্রাল রেশিও বলা হয়, যা অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ জ্যামিতিক গঠনের উদাহরণ হিসেবে পরিচিত।

এই অনুপাত প্রকৃতিতে বিভিন্ন কাঠামো, যেমন স্ফটিক বা জৈব গঠনের ক্ষেত্রেও দেখা যায়। এমনকি মানবদেহের চোয়ালের কার্যকর অবস্থান নির্ধারণে ব্যবহৃত ‘বনউইল ত্রিভুজ’ নামে একটি দন্তচিকিৎসা নীতিতেও একই ধরনের অনুপাত পাওয়া যায়।

আরও পড়ুন

গবেষকের ধারণা, মানুষের শরীরও প্রকৃতির অন্যান্য জ্যামিতিক গঠনের মতো নির্দিষ্ট গাণিতিক নীতির ভিত্তিতে সংগঠিত হতে পারে। সে ক্ষেত্রে দা ভিঞ্চি ভিট্রুভিয়ান ম্যান আঁকার সময় সেই মৌলিক জ্যামিতিক নীতির আভাস পেয়েছিলেন।

গবেষণাটি জার্নাল অব ম্যাথেমেটিক্স অ্যান্ড দ্য আর্টস-এ প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই ব্যাখ্যা নিয়ে বৈজ্ঞানিক মহলে আরও আলোচনা ও যাচাই-বাছাই প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব