ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

সৌদি আরবে প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘের ডিএনএ গবেষণায় মিলল নতুন তথ্য

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৯:৩৫ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

সৌদি আরবে ন্যাশনাল সেন্টার ফর ওয়াইল্ডলাইফ-এর বিজ্ঞানীরা ২০২২ এবং ২০২৩ সালে গুহা পরিদর্শনের সময় একটি অপ্রত্যাশিত আবিষ্কার করেন। উত্তর আরারের কাছে পাঁচটি গুহায় তারা সাতটি প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘ পেয়েছিলেন। দেহগুলি মূলত অক্ষত, নরম তন্তু এবং কঙ্কাল ভালোভাবে সংরক্ষিত ছিল। তিনটি মমির ডিএনএ বিশ্লেষণ নতুন তথ্য প্রদান করেছে, যা সৌদি আরবে চিতাবাঘ পুনর্বাসনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

চিতাবাঘের ইতিহাস ও প্রজাতি

চিতাবাঘ একসময় আফ্রিকা এবং এশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলে বাস করত। বর্তমানে তাদের প্রাকৃতিক বসতি মাত্র ৯ শতাংশে সীমাবদ্ধ। আগে ধারণা করা হতো যে সৌদি আরবে শুধুমাত্র এশিয়াটিক চিতাবাঘ (Acinonyx jubatus venaticus) বাস করত। এই প্রজাতি বর্তমানে ভীষণ বিপন্ন, প্রধান আবাস ইরান। ১৯৭০-এর দশকে সৌদি আরবে চিতাবাঘকে স্থানীয়ভাবে বিলুপ্ত ঘোষণা করা হয়।

তবে মমির ডিএনএ বিশ্লেষণে দেখা গেছে, সবচেয়ে পুরোনো দুইটি নমুনা উত্তর-পশ্চিম আফ্রিকার চিতাবাঘ (Acinonyx jubatus hecki) এর কাছাকাছি জেনেটিকভাবে। এটি প্রমাণ করে যে আরব উপদ্বীপে একসময় অন্তত দুটি ভিন্ন প্রজাতির চিতাবাঘ বাস করত।

গুহা ব্যবহার ও মমীকরণের রহস্য

গুহায় চিতাবাঘের অবস্থান এবং প্রাকৃতিক মমীকরণ দুটি গবেষকদের জন্যই বিস্ময়কর। প্রধান গবেষক আহমেদ আল বুগ বলেন, চিতাবাঘ সাধারণত গুহায় থাকে না। তবে গুহার অতিশুষ্ক পরিবেশ তাদের দেহ মমী করতে সাহায্য করেছে। গবেষকরা খুঁজছেন কেন চিতাবাঘ গুহায় প্রবেশ করত; তারা মনে করছেন এটি কোনো দুর্ঘটনা বা বৃদ্ধ বয়সে বিচ্ছিন্ন হওয়ার উদ্দেশ্য ছিল না।

মমিগুলোর পাশাপাশি ৫৪টি কঙ্কালও পাওয়া গেছে। গবেষকরা আশা করছেন, বাকী নমুনার ডিএনএ বিশ্লেষণ করলে আরও প্রজাতি শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

পুনর্বাসনের জন্য নতুন দিকনির্দেশনা

ভেটেরিনারি বিশেষজ্ঞ অ্যাড্রিয়ান টর্ডিফ জানান, কিছু চিতাবাঘের দেহ মাত্র এক শতাব্দী পুরোনো— এটি প্রমাণ করে যে সৌদি আরবে চিতাবাঘ অনেক বেশি সম্প্রতি বাস করত। বিভিন্ন সময়ে ভিন্ন প্রজাতির চিতাবাঘের উপস্থিতি দেখায়, আরব উপদ্বীপ একসময় প্রাকৃতিক সংযোগসেতু হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

এ তথ্য পুনর্বাসন কার্যক্রমকে আরও পরিকল্পিত করে তুলছে। এখন জানা প্রজাতি ব্যবহার করে সঠিক পরিবেশে পুনর্বাসন করা সম্ভব।

আরব মরুভূমিতে চিতাবাঘের গুরুত্ব

গবেষকরা মনে করেন, মানব কার্যকলাপ যেমন অতিদ্রুত শিকার ও বসতিপ্রধান পরিবর্তন চিতাবাঘের সংখ্যা কমানোর মূল কারণ। তবে বর্তমানে সুরক্ষিত অঞ্চল এবং শিকার প্রাণীর উপস্থিতি চিতাবাঘকে ফিরে আসার সুযোগ দিচ্ছে।

আরও পড়ুন

চিতাবাঘ সংরক্ষণ তহবিলের প্রতিষ্ঠাতা লরি মার্কার বলেন, চিতাবাঘ শীর্ষ শিকারি হিসেবে পরিবেশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তারা দ্রুত শিকার করে এবং অবশিষ্টাংশ অন্যান্য ছোট প্রাণীর জন্য রেখে যায়। ফলে মরুভূমিতে চিতাবাঘ পুনর্বাসন মানে সুস্থ এবং বৈচিত্র্যময় প্রতিবেশের পুনরুদ্ধার।

>>> এই প্রাকৃতিকভাবে মমীকৃত চিতাবাঘের আবিষ্কার আরব উপদ্বীপের অতীত জীববৈচিত্র্য ও প্রজাতিগত বৈচিত্র্য সম্পর্কে নতুন তথ্য প্রদান করছে। পুনর্বাসনের জন্য এখন তথ্যভিত্তিক পরিকল্পনা করা সম্ভব, যা শুধু আশা নয়, বাস্তব উদ্যোগে পরিণত হয়েছে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
ঢাকা থেকে সৌদিগামী ৮৯ ফ্লাইট স্থগিত, ভোগান্তিতে ১৪ হাজারের বেশি যাত্রী
সৌদিতে হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রবাসীদের সার্বক্ষণিক খোঁজ রাখা হচ্ছে: প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী
সৌদি আরবে আরামকোতে হুথিদের হামলা, ইয়েমেনে পাল্টা বিমান আক্রমণ
সৌদির তেল স্থাপনায় হুতিদের হামলা