ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

বিজ্ঞানীদের ধারণা বদলে দিলো ক্ষুদ্র এ‌ই মাছ

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ১৭ মার্চ ২০২৬, ১১:২০ পিএম
ব্লুস্ট্রিক ক্লিনার র‍্যাস। ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে বিজ্ঞানীরা মনে করতেন, আয়নায় নিজের প্রতিচ্ছবি চিনতে পারার মতো জটিল বুদ্ধিমত্তা কেবল বড় মস্তিষ্কের কিছু প্রাণীর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু সাম্প্রতিক এক গবেষণা সেই ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, ছোট আকারের এক সামুদ্রিক মাছ ব্লুস্ট্রিক ক্লিনার র‍্যাস— আয়না ব্যবহার করে নিজের শরীরের দাগ শনাক্ত করতে সক্ষম।

আয়না পরীক্ষায় নতুন চমক

প্রাণীর আত্ম-চেতনা যাচাইয়ের জন্য বহু বছর ধরে “মিরর টেস্ট” বা আয়না পরীক্ষা ব্যবহার করা হয়। এই পরীক্ষায় প্রাণীর শরীরের এমন জায়গায় একটি দাগ দেওয়া হয়, যা সে সরাসরি দেখতে পারে না। আয়নায় দেখে যদি প্রাণীটি নিজের শরীরের সেই দাগ খোঁজার চেষ্টা করে, তাহলে সেটিকে আত্ম-চেতনার প্রমাণ হিসেবে ধরা হয়।

এতদিন এই পরীক্ষায় সফল হয়েছিল শিম্পাঞ্জি, ওরাংওটাং, ডলফিন, হাতি এবং কিছু পাখি।

তবে এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলো একটি ছোট মাছ।

দাগ দেখে শরীর ঘষে পরিষ্কার করার চেষ্টা

গবেষণায় মাছটির শরীরে পরজীবীর মতো দেখতে একটি বাদামি দাগ দেওয়া হয়। আয়না সামনে থাকলে মাছটি নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে ওই দাগের স্থানে শরীর ঘষতে থাকে—যেন সেটি পরিষ্কার করতে চাইছে।

কিন্তু আয়না সরিয়ে ফেললে এই আচরণ বন্ধ হয়ে যায়।

বিজ্ঞানীদের মতে, এটি ইঙ্গিত করে যে মাছটি আয়না ব্যবহার করে নিজের শরীরের অবস্থা বুঝতে পারছে।

বিতর্কে বিজ্ঞানীরা

এই আবিষ্কার নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিয়েছে।

একদল মনে করছেন, এটি আত্ম-সচেতনতার একটি প্রাথমিক রূপ। অন্যদিকে, কেউ কেউ বলছেন— মাছটি হয়তো কেবল আয়নার প্রতিচ্ছবি ও শরীরের অনুভূতির মধ্যে সম্পর্ক শিখেছে, যা প্রকৃত আত্ম-চেতনা নয়।

কেন বিশেষ এই মাছ?

ব্লুস্ট্রিক ক্লিনার র‍্যাস সাধারণত ভারত ও প্রশান্ত মহাসাগরের প্রবাল প্রাচীরে বাস করে। এদের কাজ হলো বড় মাছের শরীর থেকে পরজীবী ও মৃত কোষ পরিষ্কার করা।

এই কাজের জন্য তারা খুব সূক্ষ্ম দাগ বা চিহ্ন শনাক্ত করতে দক্ষ। সেই কারণেই গবেষকরা এই মাছটিকে আয়না পরীক্ষার জন্য উপযুক্ত মনে করেছিলেন।

পরীক্ষার নতুন ধাপেও একই ফল

সমালোচনার মুখে গবেষকরা পরীক্ষার পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনেন। এবার প্রথমে মাছের শরীরে দাগ দেওয়া হয়, পরে আয়না দেখানো হয়।

দেখা যায়, মাছগুলো খুব অল্প সময়ের মধ্যেই (প্রায় এক ঘণ্টার মধ্যে) দাগের জায়গা ঘষতে শুরু করে। আগের পরীক্ষায় যেখানে কয়েক দিন সময় লাগত, সেখানে এবার প্রতিক্রিয়া ছিল অনেক দ্রুত।

এতে ধারণা জোরালো হয়েছে যে মাছটি আয়নার প্রতিচ্ছবি ও নিজের শরীরের অনুভূতির মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে।

বুদ্ধিমত্তা নিয়ে নতুন ভাবনা

এই গবেষণা প্রাণীর বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে প্রচলিত ধারণাকে নতুনভাবে ভাবতে বাধ্য করছে।

এখন দেখা যাচ্ছে— কাক জটিল সমস্যা সমাধান করতে পারে, অক্টোপাস পরিবেশ বুঝে সিদ্ধান্ত নেয়, মৌমাছিও শেখে নিয়ম।

এই তালিকায় যুক্ত হলো একটি ছোট মাছ, যা প্রমাণ করছে— বুদ্ধিমত্তা কেবল বড় মস্তিষ্কের ওপর নির্ভরশীল নয়।

প্রাণী কল্যাণেও নতুন প্রশ্ন

গবেষণার ফলাফল প্রাণীদের প্রতি আচরণ নিয়েও নতুন প্রশ্ন তুলছে। মাছ যদি এমন জটিল আচরণ করতে পারে, তবে তাদের সংরক্ষণ, পালন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রেও নতুনভাবে ভাবার প্রয়োজন রয়েছে।

ছোট মাছ, বড় প্রশ্ন

ছোট্ট ব্লুস্ট্রিক ক্লিনার র‍্যাস এখন বিজ্ঞানীদের সামনে বড় প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে— আত্ম-চেতনা আসলে কী? আর কোন প্রাণীরা সত্যিই নিজেদের চিনতে পারে?

গবেষণাটি প্রমাণ করেছে, প্রকৃতির অনেক রহস্য এখনও অজানা—আর সেই রহস্য উন্মোচনে কখনো কখনো বড় নয়, ছোট প্রাণীরাই সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। সূত্র: ইয়াহু

আরটিভি/এমএইচজে

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
সুন্দরবনে মিলল নতুন ৭ প্রজাতির মাছের সন্ধান
নানা সংকটে হুমকিতে ঠাকুরগাঁও মৎস্য অভয়াশ্রমের হাজারো মা মাছ
টানা চতুর্থবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় ড. খালিদ, বাংলাদেশে পঞ্চম
টানা দুইবার বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় কুবি শিক্ষক শফি উল্যাহ্