ঢাকা মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

দিনে-দুপুরে নেমে আসবে অন্ধকার, জানা গেল বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণের তারিখ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৭ জুন ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ছবি: সংগৃহীত

দুই বছরেরও বেশি সময় পর মহাকাশে দেখা যাবে এক বিরল পূর্ণ সূর্যগ্রহণ। আগামী ১২ আগস্ট চাঁদ যখন পৃথিবী ও সূর্যের মাঝখানে এসে দাঁড়াবে, তখন সূর্যের আলো সম্পূর্ণভাবে ঢাকা পড়ে যাবে। এর ফলে পৃথিবীর কিছু সুনির্দিষ্ট অঞ্চলে দিনের বেলায়ও সাময়িকভাবে রাতের অন্ধকার ছেয়ে যাবে। খবর গালফ নিউজের।

মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার তথ্যমতে, চাঁদ যখন সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান করে এবং চাঁদের ছায়া পৃথিবীর ওপর পড়ে, তখনই পূর্ণ সূর্যগ্রহণ ঘটে। এই মহাজাগতিক ঘটনার কারণে নির্দিষ্ট কিছু এলাকা থেকে সূর্যকে সম্পূর্ণ আড়াল হতে দেখা যায়।

এবারের পূর্ণ সূর্যগ্রহণটি মূলত গ্রিনল্যান্ড, আইসল্যান্ড, স্পেন এবং উত্তর-পূর্ব পর্তুগালের কিছু অংশ থেকে সরাসরি দেখা যাবে। এসব অঞ্চলে ‘টোটালিটি’ বা সূর্য সম্পূর্ণ আড়াল হওয়ার মুহূর্তে দিনের আকাশ কিছু সময়ের জন্য পুরোপুরি অন্ধকার হয়ে যাবে। এ ছাড়া ইউরোপ, আফ্রিকা ও উত্তর আমেরিকার বিস্তীর্ণ এলাকায় আংশিক সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে, যেখানে সূর্যের একটি অংশ চাঁদের আড়ালে থাকবে।

আরও পড়ুন

ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপের মূল ভূখণ্ড থেকে সর্বশেষ পূর্ণ সূর্যগ্রহণ দেখা গিয়েছিল ২০০৬ সালে। আর স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে এমন ঘটনা শেষবার দেখা গিয়েছিল ১৯০৫ সালে। ফলে স্পেনের মানুষের জন্য এটি শত বছরেরও বেশি সময় পর এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত। এবারের গ্রহণে গ্রিনল্যান্ডের দর্শকেরা দুই মিনিটেরও বেশি সময় ধরে পূর্ণ সূর্যগ্রহণ উপভোগ করতে পারবেন। অন্যদিকে উত্তর স্পেনে এই পূর্ণ অন্ধকার বজায় থাকবে মাত্র ২০ সেকেন্ডের মতো।

এদিকে সূর্যগ্রহণ দেখার ক্ষেত্রে চোখের সুরক্ষাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, বিশেষ সুরক্ষা চশমা ছাড়া কখনোই সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানো নিরাপদ নয়। শুধুমাত্র পূর্ণ সূর্যগ্রহণের ওই নির্দিষ্ট সময়টুকুতে, যখন সূর্য পুরোপুরি চাঁদের আড়ালে ঢাকা থাকে, কেবল তখনই খালি চোখে দেখা সম্ভব। তবে সূর্যের আলো সামান্য ফিরে আসার সঙ্গে সঙ্গেই অবশ্যই আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন গ্রহণ-চশমা (আইএসও সার্টিফাইড সোলার ভিউয়ার) ব্যবহার করতে হবে।

নাসা স্পষ্ট সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছে, সাধারণ সানগ্লাস কোনোভাবেই এই বিশেষ গ্রহণ-চশমার বিকল্প নয়। এ ছাড়া ছেঁড়া, আঁচড়যুক্ত বা ক্ষতিগ্রস্ত চশমা ব্যবহার করা থেকেও বিরত থাকতে হবে। এমনকি গ্রহণ-চশমা পরে কোনো ধরনের টেলিস্কোপ, দূরবীন বা ক্যামেরার লেন্স দিয়ে সরাসরি সূর্যের দিকে তাকানোও সমান বিপজ্জনক। কারণ সোলার ফিল্টার ছাড়া এসব যন্ত্রের মাধ্যমে আসা সূর্যের তীব্র আলো চোখের রেটিনার মারাত্মক ও স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
আরও পড়ুন
পূর্ণ সূর্যগ্রহণের পর এবার আসছে বিরল ‘ব্লাড মুন’
দুদিন পরই বিরল পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, দেখতে পাবেন যেসব দেশের মানুষ
চলতি বছরে কবে কখন দিনের বেলায় নেমে আসবে অন্ধকার