ঢাকা শুক্রবার, ১৬ অক্টোবর ২০২৬, ৩১ আশ্বিন ১৪৩৩

টাইটানিক জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়া সেই হিমবাহের বয়স কত ছিল

আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ০৫ জুলাই ২০২৬, ০২:১১ পিএম
প্রতীকী ছবি

১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল রাত ২টা ২০ মিনিট। আটলান্টিক মহাসাগরের হিমশীতল লোনাপানিতে চিরতরে হারিয়ে যায় তৎকালীন বিশ্বের বিস্ময় আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। কয়েক হাজার টন ইস্পাত আর মানুষের অহংকারকে চূর্ণ করে দিয়েছিল যে হিমবাহ (আইসবার্গ), সেটি আসলে কোনো সাধারণ বরফের চাঁই ছিল না।

যুক্তরাষ্ট্রের লেখক ড্যানিয়েল স্টোনের টাইটানিকের অভিযান নিয়ে ‘সিংকেবল’ নামের বইতে উঠে এসেছে সেই ঘাতক হিমবাহের এক অবিশ্বাস্য ও নাটকীয় জীবনকাহিনি।

টাইটানিক ডুবিয়ে দেওয়া সেই হিমবাহের গল্পের শুরু প্রায় ১৫ হাজার বছর আগে, গ্রিনল্যান্ডের বরফঢাকা চাদরে। তখন হয়তো পৃথিবীর বুকে আধুনিক সভ্যতার চিহ্নও ছিল না। বরফচাদরের ওপর যখন তুষারপাত শুরু হয়, প্রতিটি তুষারকণা ধূলিকণাকে কেন্দ্র করে তৈরি করেছিল একেকটি জটিল স্ফটিক। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই তুষারস্তর জমাট বেঁধে প্রায় দুই মাইল পুরু বরফের স্তরে পরিণত হয়। প্রবল চাপে এই তুষার স্ফটিকগুলো তাদের আদি আয়তনের এক-তৃতীয়াংশে সংকুচিত হয়ে পাথরের মতো শক্ত বরফে রূপান্তরিত হয়।

হাজার হাজার বছর ধরে এই বরফখণ্ড বছরে প্রায় চার মাইল বেগে গ্রিনল্যান্ডের পশ্চিম উপকূলের দিকে অগ্রসর হতে থাকে। ১৯০৯ সালের গ্রীষ্মকালে গ্রিনল্যান্ডের একটি হিমবাহ থেকে এক বিশাল বরফখণ্ড ভেঙে সাগরে পড়ে। জন্ম হয় সেই অখ্যাত কিন্তু ভয়ানক হিমবাহের। জন্মের সময় সেটি ছিল প্রায় দুই মাইল চওড়া এবং ১০০ ফুট লম্বা। বরফখণ্ডটি রোমের কলোসিয়াম বা মিসরের সব পিরামিডকে একত্রে রাখলে তার চেয়ে বিশাল আকার ধারণ করত।

১৯০৯ সালের সেই একই গ্রীষ্মে যখন সাগরে ভাসছে সেই দানবীয় বরফখণ্ড, ঠিক তখনই উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে শুরু হয় টাইটানিকের নির্মাণকাজ। হোয়াইট স্টার লাইন তাদের তিনটি বিশাল জাহাজের একটি হিসেবে টাইটানিককে তৈরি করছিল আভিজাত্য আর শক্তির প্রতীক হিসেবে। প্রায় তিন বছর ধরে চলা এই নির্মাণযজ্ঞে ব্যয় হয়েছিল তৎকালীন বিপুল অর্থ। টাইটানিকের সবচেয়ে দামি টিকিটের দাম বর্তমান মূল্যে প্রায় ৬০ হাজার ডলারের বেশি ছিল। ১৯১২ সালের শুরুতে টাইটানিক যখন নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে, তখন তার ভেতরে ছিলেন ২ হাজার ২০০-এর বেশি যাত্রী ও ক্রু। অন্যদিকে সেই নামহীন হিমবাহটি তখন আর্কটিক সাগরে তিন বছর কাটিয়ে ‘ল্যাব্রাডর কারেন্ট’ বা শীতল স্রোতের কবলে পড়ে দক্ষিণ দিকে যাচ্ছে।

১৮৫৭ সালে বিজ্ঞানী জন থমাস টওসন লক্ষ করেছিলেন, বছরের পর বছর প্রবল চাপে তৈরি হওয়া হিমশৈল আসলে সাধারণ পাথরের চেয়ে কোনো অংশে কম শক্ত নয়। ১৯১২ সাল নাগাদ নিউফাউন্ডল্যান্ডের পূর্ব উপকূলে অনেক বেশি হিমশৈলী দেখা যেত। মার্কিন কোস্টগার্ড সেই এলাকার নাম দিয়েছিল আইসবার্গ অ্যালি। সাধারণত উত্তর গোলার্ধের হিমশৈলে মাত্র ১ শতাংশ গালফ স্ট্রিমের উষ্ণ জলের ছোঁয়ায় টিকে থাকতে পারে। হাজার হাজার হিমশৈলীর মধ্যে মাত্র ১টি হয়তো ৪১ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত পৌঁছাতে সক্ষম হয়, যা সরাসরি ট্রান্স-আটলান্টিক জাহাজ চলাচলের পথে পড়ে। টাইটানিকের ঘাতক সেই হিমশৈল ছিল সেই হাতে গোনা কয়েকটির একটি।

টাইটানিক যখন ডুবছিল, তখন এটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় আড়াই মাইল গভীরে তলিয়ে যায়। ঘণ্টায় প্রায় ৩০ মাইল বেগে সমুদ্রের তলদেশে আছড়ে পড়ে। দীর্ঘ ৭৩ বছর পর ১৯৮৫ সালে উন্নত সাবমেরিনের সাহায্যে যখন এর ধ্বংসাবশেষ খুঁজে পাওয়া যায়, তখন সারা বিশ্ব আরেকবার শিহরিত হয়েছিল। তবে এই পুরো ঘটনার সবচেয়ে বিস্ময়কর দিক হলো এটি না ঘটার সম্ভাবনা। তিন বছর ধরে সাগরে ভাসতে থাকা সেই হিমশৈল উষ্ণ জলে এসে ক্রমেই ছোট হয়ে আসছিল। আঘাত হানার সময় সেটির আয়ু বড়জোর আর এক থেকে দুই সপ্তাহ বাকি ছিল। যদি টাইটানিক এক ঘণ্টা পরে পৌঁছাত বা হিমশৈলীটি কয়েক শ ফুট দূরে থাকত, তবে হয়তো পৃথিবীর ইতিহাস অন্যভাবে লেখা হতো। টাইটানিক তার প্রথম যাত্রা শেষ করে স্বাভাবিকভাবেই বন্দরে ভিড়ত।

সূত্র: স্মিথসোনিয়ান ম্যাগাজিন

আরটিভি/এসএস

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মৃত নক্ষত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে নতুন একটি গ্রহ তৈরি হয়েছে—এমন সম্ভাবনার প্রথম প্রমাণ পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মহাবিশ্বের বুকে নক্ষত্রের জন্ম ও মৃত্যুর চক্র অন্তহীন।
মৃত নক্ষত্রের ছাই থেকে তৈরি হওয়া গ্রহের সন্ধান পেয়েছেন বিজ্ঞানীরা
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
সন্তান জন্মের পর বদলে যায় জীবনের অনেক হিসাব। বাড়ে দায়িত্ব, তৈরি হয় নতুন স্বপ্ন। তবে ছেলে না মেয়ে— সন্তানের লিঙ্গের সঙ্গে বাবার আয়ুর কোনো সম্পর্ক আছে কি? বিশেষ করে, কন্যাসন্তান হলে বাবার আয়ু বাড়ে— এমন ধারণার পেছনে কতটা বৈজ্ঞানিক সত্য রয়েছে?
মেয়ে সন্তান হলেই কি আয়ু বাড়ে বাবার? গবেষণায় মিলল চাঞ্চল্যকর তথ্য
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রায় ৩ লাখ ১৫ হাজার বছর আগের এক আদি মানুষের মুখচ্ছবি পুনর্গঠন করেছেন গবেষকরা। তাদের মতে, আধুনিক পোশাক পরিয়ে ওই মানুষকে আজকের মানুষের ভিড়ে দাঁড় করালে প্রথম দেখায় আলাদা করে চেনা কঠিন হতো।
প্রথমবার ৩ লাখ বছর আগের মানুষের মুখচ্ছবি উন্মোচন
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
পৃথিবীর বাইরে প্রাণের অস্তিত্বের এখনো কোনো প্রমাণ মেলেনি। তবে মহাবিশ্বে আমরা একা কিনা, তা জানতে বিজ্ঞানীদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। এবার সেই অনুসন্ধানে গুরুত্বপূর্ণ এক সাফল্য পেয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। প্রথমবারের মতো সৌরজগতের বাইরের একটি গ্রহ থেকে সরাসরি আসা রেডিও সংকেত শনাক্ত করেছেন তারা।
প্রথমবার সৌরজগতের বাইরের গ্রহ থেকে সরাসরি রেডিও সংকেত শনাক্ত
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব
প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা নিয়মিত নতুন রেকর্ড গড়ছে। চলতি বছরের প্রথম আট মাসে বৈশ্বিক গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে ১ দশমিক ২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি রেকর্ড করা হয়েছে।  আবহাওয়াবিদদের মতে, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলতি বছরকে ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণতম বছর হিসেবে রেকর্ড করা হতে পারে। শুধু তা–ই নয়, আসন্ন সুপার এল নিনো পরিস্থিতির কারণে আগামী বছরগুলোয় এই পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তারা। একিউওয়েদারের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আসন্ন সুপার এল নিনোর কারণে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের তাপমাত্রা মারাত্মকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।  কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিসের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টকে ইতিহাসের উষ্ণতম আগস্ট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সাধারণত জুলাই বছরের উষ্ণতম মাস হলেও এ বছর আগস্ট জুলাইকে ছাড়িয়ে গেছে।  একিউওয়েদারের আবহাওয়াবিদ টাইলার রয়স জানান, বায়ুমণ্ডল ও মহাসাগরের সর্বত্র এই তাপমাত্রার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ করা যাচ্ছে। এল নিনো দ্রুত শক্তিশালী হয়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়া ও বৃষ্টির ধরন সম্পূর্ণ বদলে দিতে পারে। এল নিনো হলো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র, যা প্রতি দুই থেকে সাত বছর পরপর ঠান্ডা ও উষ্ণ দশার মধ্যে পরিবর্তিত হয়। এই উষ্ণ দশার সময় বিষুবীয় প্রশান্ত মহাসাগরের ভূপৃষ্ঠের উষ্ণতা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। মহাসাগরের এই বর্ধিত তাপশক্তি ধীরে ধীরে সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ে এবং চরম আবহাওয়ার সৃষ্টি করে।  যুক্তরাষ্ট্রের মেট অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ভবিষ্যতে প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা ৩ থেকে ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি এবং প্রচণ্ড তাপপ্রবাহের ঝুঁকিও বহুগুণ বেড়ে গেছে।  বিজ্ঞানীদের মতে, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে এই জলবায়ুসংকট মানবসভ্যতার জন্য বড় ধরনের বিপর্যয় ডেকে আনবে। সূত্র: ডেইলি মেইল আরটিভি/এসএস
ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে বিশ্ব