ঈদের সাতদিনের ছুটির প্রথম দিনেই ঘরমুখো মানুষের স্রোত দেখা যায় রাজধানীর বাস টার্মিনাল ও কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে।
মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) ভোর থেকেই কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় দেখা যায়। তবে যাত্রীচাপ থাকলেও এখন পর্যন্ত কোনো ট্রেন বিলম্বে ছাড়েনি। ফলে ভিড় বেশি হলেও যাত্রীদের বেশ উৎফুল্ল দেখা গেছে।
এদিকে, ভোর থেকেই দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে যেতে বাস টার্মিনালেও ভিড় করেন যাত্রীরা। তবে অন্যান্যবারের তুলনায় যাত্রী চাপ কম বলে দাবি কাউন্টার ম্যানেজারদের।
কিছু যাত্রীর অভিযোগ, টার্মিনালের বাইরে বা অনিয়মিত বাসে অতিরিক্ত ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। একজন যাত্রী যাবেন ফরিদপুর। তিনি বলেন, টিকিট পেয়েছি তবে ভাড়া একটু বেশি।
পরিবার-পরিজন নিয়ে নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন বলে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন অনেকেই।
গাবতলী বাস টার্মিনালে দেখা যায়, যাত্রী চাপ বেশি। টিকিট পাচ্ছেনা অনেকেই। তবে কাউন্টার মালিকরা বলছেন, যে গাড়িগুলো গেছে সেগুলো ফিরে এলেই এই টিকিটের সংকট থাকবে না।
এদিকে বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে আসেছিলেন পুলিশ মহাপরিদর্শক মো. আলী হোসেন ফকির। তিনি সাংবাদিকদের বলেন, এখানে কোন নিরাপত্তার কোন শঙ্কা নেই। পুলিশের পর্যাপ্ত ব্যবস্থা রয়েছে যাত্রীদের নিরাপদ যাত্রার জন্য। প্রয়োজনীয় যা যা ব্যবস্থা করা দরকার তা নেওয়া হয়েছে। গোটা বাংলাদেশে একই ধরনের নিরাপত্তা নেওয়া হয়েছে। যানজট নিরসনেও পুলিশ কাজ করছে। যাত্রীরা যে ভাড়ার অভিযোগ করছে তারা যেন সেটা পুলিশ প্রশাসনকে বলেন।
তিনি বলেন, গাড়ির মালিকদের নির্দেশনা দিয়েছেন গাড়িগুলো পার্কিং যেন সঠিক জায়গায় হয়। এতে যেন যানজট তৈরি না হয়।
এদিকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে যাত্রীরা বলছেন কোন ভোগান্তি নেই তারা নির্বিঘ্নে যথাসময়ে ট্রেনে উঠছেন এবং ট্রেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাচ্ছে। এছাড়াও কিছু কিছু ট্রেনে স্ট্যান্ডিং টিকিট কেটে যাত্রীরা যেতে পারছেন। শুধুমাত্র নীলফামারী এক্সপ্রেস ট্রেনটি ৪৫ মিনিট দেরিতে স্টেশনে পৌঁছেছে এবং ৪৫ মিনিট পরে ছেড়ে গেছে।
এদিকে সকাল থেকেই মির্জাপুর, টাঙ্গাইল বাইপাস, রাবনা বাইপাস, এলেঙ্গা ও যমুনা সেতু পূর্ব পাড়ের সড়কে উত্তরাঞ্চলগামী যাত্রীদের ব্যাপক ভিড় দেখা গেছে। দূরপাল্লার যানবাহনের পাশাপাশি মাইক্রোবাস, প্রাইভেটকার, মোটরসাইকেল ও খোলা ট্রাকে কম ভাড়ায় গন্তব্যে যাচ্ছে লোকজনক। সড়কটির এলেঙ্গা থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার যানবাহনের চাপ বাড়লেও কোথায় যানজটের সৃষ্টি হয়নি।
আরটিভি/এমএ





