রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টায় হাম রোগের উপসর্গ নিয়ে ২শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ ছাড়াও ২৪ ঘণ্টায় ২০ জন ভর্তি হয়েছে। এনিয়ে হাসপাতালে হাম উপসর্গ নিয়ে মোট শিশু ভর্তি রয়েছে ১৩৮ জন।
সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কে বিশ্বাস। এ নিয়ে হাসপাতালটিতে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪২ জন শিশুর মৃত্যু হলো। জানুয়ারি থেকে চলতি মাস এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন ৪১১ জন রোগী।
হাসপাতালের মুখপাত্র শংকর কে বিশ্বাস জানান, হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে ১৩৮ শিশু চিকিৎসাধীন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ভর্তি হয়েছে ২০ জন এবং সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন নতুন ৫ জন।
ডা. শংকর কে বিশ্বাস আরও জানান, রামেক হাসপাতালে ২০০ বেডের বিপরীতে এক হাজার শিশু চিকিৎসা নিচ্ছে। এটি বড় একটি চ্যালেঞ্জ। হাম অতিমাত্রায় ছোঁয়াচে হলেও কাউকে চিকিৎসা না দিয়ে ফিরিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। সক্ষমতার চেয়ে বেশি রোগীর সেবা দেওয়া হচ্ছে। জনবল বৃদ্ধির জন্য বারবার স্বাস্থ্য বিভাগে চিঠি পাঠানো হয়েছে।
আজ সকালে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভয়াবহ চাপের মধ্যে চলছে চিকিৎসাসেবা, যেখানে শিশু ওয়ার্ডগুলোতে ধারণক্ষমতার বহুগুণ বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে। চারটি শিশু ওয়ার্ডে এক হাজারের বেশি রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় একেকটি বেডে ৪-৫ জনকে রাখতে হচ্ছে। মাত্র ১ হাজার ২০০ বেডের এই হাসপাতালে প্রতিদিন প্রায় ৩ হাজার রোগী চিকিৎসা নিচ্ছে, যদিও বর্তমান জনবল দিয়ে সর্বোচ্চ ৬৫০ বেডের সেবা পরিচালনা সম্ভব বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। শিশুদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও সংকটজনক, ২০০ বেডের বিপরীতে প্রায় এক হাজার শিশু চিকিৎসাধীন।
রাজশাহী বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. হাবিবুর রহমান জানান, একাধিক রোগী শনাক্ত এলাকা আউটব্রেক হিসেবে বিবেচনা করে সেখানে বিশেষ টিকাদান কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। টিকা প্রয়োগের মাধ্যমে সংক্রমণ কমানো সম্ভব হলে শিশুদের ঝুঁকিও কমে আসবে।
আরটিভি/এমএ




