বসন্তের শেষ ও গ্রীষ্মের দাবদাহে প্রকৃতি তার রূপের ডালি সাজাতে কার্পণ্য করেনি— তার প্রমাণ মেলে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম অংশে। মহাসড়কের বিভাজকজুড়ে বাহারি ফুলের চোখধাঁধানো সৌন্দর্য যাত্রীদের মন কেড়েছে। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক এখন আর শুধু একটি পথ নয়; এটি যেন এক বিশাল পুষ্পকানন, যেখানে প্রতিদিন প্রকৃতি নিজেই অভ্যর্থনা জানায় হাজারো পথিককে।
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লা অংশের ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে ৪৪ কিলোমিটার পড়েছে চৌদ্দগ্রাম উপজেলায়। এই দীর্ঘ ৪৪ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে এখন কৃষ্ণচূড়া, সোনালু, কাঞ্চন, জারুল কিংবা কবরী ফুলের সমারোহ। এসব দৃষ্টিনন্দন ফুল এই পথে যাতায়াতকারী যাত্রীদের প্রতিনিয়ত মুগ্ধ করছে।
চৌদ্দগ্রামের মিয়াবাজার থেকে কাইচ্ছুটি পর্যন্ত মহাসড়কের বিভাজকে ফুটন্ত ফুলের দোল দেখে মনে হয় যেন প্রকৃতির উষ্ণ অভ্যর্থনা। এই বাহারি শোভা পথচলতি যে কাউকে মোহিত করে।
শুধু সৌন্দর্যই নয়, এসব গাছ পরিবেশ রক্ষা ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। যান্ত্রিক শহরের ব্যস্ততা, যানজট আর ক্লান্তিকর যাত্রার মাঝখানে জারুল-সোনালুর স্নিগ্ধতা যেন এক টুকরো প্রশান্তি। বৈশাখের এই সময়ে বাংলার প্রকৃতিতে এসব ফুল অনন্য শোভা ছড়িয়েছে। গাছের শাখা ছাপিয়ে ঝুমকোর মতো ঝুলে আছে হলুদে ছাওয়া সোনালু ফুল। রক্তিম লালে উত্তাপ ছড়াচ্ছে কৃষ্ণচূড়া। আর জারুল ফুলের বেগুনি রঙের মনমাতানো রূপ যে কারো মন ছুঁয়ে যায়।
কুমিল্লা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ সূত্র জানায়, রাতের বেলা এক পাশের যানবাহনের আলো যেন অন্য পাশে এসে দুর্ঘটনা না ঘটায়, সেজন্যই মূলত এই কম উচ্চতার ফুলের গাছগুলো লাগানো হয়েছে। এ ছাড়া মহাসড়কের সৌন্দর্য বৃদ্ধি এবং রোড আইল্যান্ড দখলমুক্ত রাখতেও এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
কুমিল্লার দাউদকান্দি থেকে ফেনী পর্যন্ত মহাসড়কে বিভিন্ন প্রজাতির প্রায় ৫৪ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে হৈমন্তী, কুর্চি, টগর, রাধাচূড়া, কাঞ্চন, সোনালু, কৃষ্ণচূড়া, কদম, বকুল, পলাশ, কবরী, ক্যাসিয়া ও জারুল। এগুলোর উচ্চতা ২ থেকে ৫ মিটার পর্যন্ত। এ ছাড়া সড়কের ঢালে জলপাই, অর্জুন, কাঁঠাল, মেহগনি, শিশু, আকাশমণি, চালতা, নিম, একাশিয়া ও হরিতকীসহ বিভিন্ন প্রজাতির আরও ৪২ হাজার গাছ লাগানো হয়েছে।
আরটিভি/এমএইচজে



