মাসের পর মাস যুদ্ধ, হাজারো প্রাণহানি আর মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনার পর যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের শান্তিচুক্তির ঘোষণা এলো, তখন অনেকে ভেবেছিলেন হয়তো এবার নিভবে মধ্যপ্রাচ্যের আগুন। কিন্তু সে সম্ভাবনায় বাঁধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে বর্বর ইসারেল। দেশটিতে ছড়িয়ে পড়েছে তীব্র ক্ষোভ, হতাশা ও ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া। এমনকি দেশটির কিছু গণমাধ্যম ট্রাম্প প্রশাসনকে সরাসরি ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলতেও পিছপা হয়নি। এমনকি দেশটি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে এই চুক্তি তাদের ওপর কোনো তৈরি করবে না কোন বাধ্যবাধকতা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তিচুক্তির ঘোষণা দিয়েছে মধ্যস্থতাকারী দেশ পাকিস্তান। দেশটির প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ জানান, ওয়াশিংটন ও তেহরান একটি শান্তিচুক্তিতে পৌঁছেছে। তার দাবি, এই চুক্তির মধ্যে লেবাননসহ সব যুদ্ধক্ষেত্রে অবিলম্বে ও স্থায়ীভাবে সামরিক অভিযান বন্ধের বিষয়ও রয়েছে অন্তর্ভুক্ত। সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান দুই পক্ষও নিশ্চিত করেছে চুক্তির বিষয়টি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এটিকে ‘সম্পূর্ণ’ চুক্তি বলে উল্লেখ করেছেন। অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। কিন্তু এই ঘোষণার পরপরই ইসরায়েলে শুরু হয়েছে তীব্র প্রতিক্রিয়া।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানান, ইসরায়েল এই চুক্তির শর্ত মানতে বাধ্য নয়। বিশেষ করে লেবাননে সামরিক অভিযান বন্ধের শর্ত সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে তেল আবিব।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে জানিয়েছেন, ইসরায়েল এই চুক্তির কোনো পক্ষ নয় এবং লেবানন নিয়ে ইরানের কোনো শর্তও তারা মানবে না। এরপরই ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননে নতুন করে হামলা চালায়।
ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎজ আরও কঠোর ভাষায় বলেন, ইসরায়েলি সেনাবাহিনী লেবানন, সিরিয়া ও গাজার নিরাপত্তা অঞ্চলগুলোতে কোনো সময়সীমা ছাড়াই অবস্থান করবে।
অন্যদিকে কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ বলেন, ইরানের সঙ্গে এই চুক্তি ইসরায়েল ও পুরো মুক্ত বিশ্বের জন্য ক্ষতিকর। জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির আরও এক ধাপ এগিয়ে বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের অধীন কোনো রাষ্ট্র নয়। তাই ট্রাম্পের চুক্তি তাদের বেঁধে রাখতে পারে না।
এদিকে এই ক্ষোভ শুধু সরকারের ভেতরেই সীমাবদ্ধ নেই। ইসরায়েলের ডানপন্থী গণমাধ্যম ও বিশ্লেষকদের একাংশ যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা নিয়েও তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে। কেউ কেউ সরাসরি আমেরিকাকে ‘বিশ্বাসঘাতক’ বলেও আখ্যা দিচ্ছেন।
অন্যদিকে বিরোধী নেতারা এই পরিস্থিতির জন্য নেতানিয়াহুকেই দায়ী করছেন। তাঁদের মতে, বহু বছরের ভুল নীতি ইসরায়েলকে এখন ফেলেছে আরও জটিল নিরাপত্তা সংকটে।
আরটিভি/এআর



