দুই মাস আটকে থাকার পর অবশেষে হরমুজ প্রণালি পেরিয়ে বিশ্ববাজারের পথে রওনা হয়েছে ইরানের কোটি কোটি ব্যারেল তেল। যুক্তরাষ্ট্রের নজরদারি ও অবরোধের মধ্যেই অন্তত দুটি সুপারট্যাংকার সফলভাবে হরমুজ অতিক্রম করেছে। আর ঠিক এমন সময়েই ওয়াশিংটন ও তেহরান বসতে যাচ্ছে নতুন শান্তি আলোচনায়। ফলে অনেকের চোখে এটি শুধু তেল রপ্তানির খবর নয়, বরং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।
তেল ও জাহাজ চলাচল পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ট্যাঙ্কারট্রাকার্সের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, ন্যাশনাল ইরানিয়ান ট্যাংকার কোম্পানির অন্তত দুটি সুপারট্যাংকার—ডিওনা ও হিরো-২ যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অবরোধ এলাকা অতিক্রম করেছে। এই দুই জাহাজে ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৮ মিলিয়ন ব্যারেল ইরানি অপরিশোধিত তেল। স্যাটেলাইট ছবি ও ডিজিটাল ট্র্যাকিং তথ্যের ভিত্তিতে ওয়েবসাইটটি একে গত দুই মাসের মধ্যে ইরানের প্রথম বড় তেল রপ্তানি হিসেবে উল্লেখ করেছে। পরে আরও একটি ট্যাংকার একই এলাকা অতিক্রম করেছে বলেও জানানো হয়।
এরই মধ্যে দুই দিন পর সুইজারল্যান্ডের বার্গেনস্টক মাউন্টেন রিসোর্টে নতুন করে আলোচনা শুরু করতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। যেখানে পারমাণবিক কর্মসূচি ও নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলবে। ফলে শুক্রবার শুরু হতে যাওয়া এই বৈঠককে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তির দিকে এগিয়ে যাওয়ার প্রচেষ্টা হিসেবেই দেখছেন বিশ্লেষকেরা।
এদিকে হরমুজ প্রণালি খুলে যাওয়ার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে কিছুটা কমেছে তেলের দাম। তবে যুদ্ধ শেষ হওয়ার যে আশাবাদ তৈরি হয়েছিল, দক্ষিণ লেবাননে ইসরাইলের নতুন হামলার কারণে তা অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে আবারও।
আরটিভি/এআর



