আর মাত্র কিছু সময়ের অপেক্ষা। এরপরই বিশ্বকাপের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত মুহূর্তের সাক্ষী হবে ফুটবল বিশ্ব। একদিকে ফুটবলের জীবন্ত কিংবদন্তি লিওনেল মেসি। অন্যদিকে নতুন প্রজন্মের বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল। একজন হয়তো নিজের শেষ বিশ্বকাপ শিরোপার স্বপ্ন পূরণের লড়াইয়ে, আর অন্যজন নিজের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ের ইতিহাস গড়ার পথে। তবে ফাইনালের বাঁশি বাজার আগেই শস্যদানার ক্যানভাসে ফুটে উঠেছে মেসি ও ইয়ামালের প্রতি এক শিল্পীর ভালোবাসা।
ইউরোপের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ছোট্ট দেশ কসোভোতে ফুটবলের দুই মহাতারকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তৈরি হয়েছে এই অনন্য শিল্পকর্ম। অবাক করার মতো বিষয় হলো, এই শিল্পকর্ম তৈরিতে তিনি ব্যবহার করেছেন প্রায় ১৫০ কেজি বিভিন্ন ধরনের শস্যদানা। ভুট্টা, গম, সূর্যমুখীর বীজের মতো উপাদানে ধীরে ধীরে ফুটিয়ে তুলেছেন মেসি ও ইয়ামালের মুখচ্ছবি।
অত্যন্ত নিখুঁতভাবে এক একটি শস্যদানা সাজিয়ে তৈরি করেছেন এই শিল্পকর্ম। কখনো লিওনেল মেসির চোখের রেখা, কখনো লামিন ইয়ামালের মুখাবয়ব। ঘণ্টার পর ঘণ্টা শ্রম আর অসাধারণ ধৈর্যের সমন্বয়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে দুই ফুটবল তারকার প্রতিকৃতি। দূর থেকে দেখলে যেন মনে হয়, এগুলো কোনো আঁকা ছবি। কিন্তু কাছে গেলেই বোঝা যায়, প্রতিটি রেখা তৈরি হয়েছে অসংখ্য শস্যদানা দিয়ে।
আলকেন্ত পোজেগু জানান, বিভিন্ন ধরনের শস্যের পাশাপাশি কিছু ভুট্টা গুঁড়ো করেও ব্যবহার করা হয়েছে, যাতে প্রতিকৃতির সূক্ষ্ম অংশগুলো আরও নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তোলা যায়।
আরও অবাক করা তথ্য হলো, তিনি কখনো কোনো আর্ট স্কুলে পড়াশোনা করেননি। তার ভাষায়, এই প্রতিভা তিনি পেয়েছেন ঈশ্বরের কাছ থেকে। পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকেও উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন কারুশিল্পের এই অনন্য উপহার।
তবে একদিকে ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার লিওনেল মেসি, অন্যদিকে আগামী দিনের উজ্জ্বল নক্ষত্র লামিন ইয়ামাল। দুই প্রজন্মের দুই তারকাকে এক ফ্রেমে এনে শস্যদানার ক্যানভাসে যে ভালোবাসা ফুটিয়ে তুলেছেন এই শিল্পী, সেটি হয়তো বিশ্বকাপের আবেগকে আরও একবার নতুন করে মনে করিয়ে দেয়। ফুটবল কেবল একটি খেলা নয়, এটি কোটি মানুষের ভালোবাসা, অনুভূতি ও শিল্পের অন্য নাম।
আরটিভি/এআর



