ঢাকা বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৮ আশ্বিন ১৪৩৩

ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভে কাঁপছে বলিভিয়া, সেনা নামিয়ে জারি জরুরি অবস্থা! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

কখনো কখনো একটি দেশের সংকট এতটাই গভীর হয়ে ওঠে, যখন মানুষের রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা মিলেমিশে থামিয়ে দেয় পুরো একটি দেশকে। খালি হয়েছে দোকানপাট। জ্বালানি স্টেশনেও লম্বা লাইন। ওষুধের সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবারগুলো। ঠিক এমনই এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া।

শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী ও কোকোচাষিরা রাজপথে নেমে বিভিন্ন শহরে চালিয়ে যাচ্ছেন মিছিল ও অবরোধ। বহু সড়কে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরোধে, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট আর অচল অর্থনীতি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী নামাতে বাধ্য হয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

এদিকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আগামী ৯০ দিনের জন্য সারা দেশে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। এই সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে সামরিক বাহিনী।

আরও পড়ুন

তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার জন্য।

প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আল্টো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। ভারী বুলডোজার দিয়ে রাস্তার অবরোধ সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান ও পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের অবরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়া অনেক বাসিন্দা সেনাদের স্বাগতও জানিয়েছেন। কেউ কেউ দিয়েছেন হাততালি। রাজধানী লাপাজেও বিরাজ করছে উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট।

গেলো দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসা রদ্রিগো পাজ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই পড়েছেন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে। বিক্ষোভকারীরা চাইছেন, তিনি উদার অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে আসুন এবং পদত্যাগ করুন।

সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও এখনো শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। একটি বড় শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা হলেও কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। এখনো ৪০টিরও বেশি স্থানে রয়েছে অবরোধ। বলিভিয়ার পাহাড়ি শহরগুলোতে তাই এখনো ভাসছে অস্থিরতার ধোঁয়া।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
একটি পাহাড়ি টিলা, যেখানে ভেসে উঠে নানা নকশা, ছুটে চলা হরিণের অবয়ব আর রঙ্গিন আলোর খেলা। আর তা দেখেই অবাক দর্শকরা, অনেকেই আবার ব্যস্ত হয়ে পড়লেন ছবি তুলতে।
আলো আর সুরের মায়াজালে জীবন্ত হয়ে উঠল প্রাচীন সমাধি
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
ডিজেলের দাম এতটাই বেড়েছে যে, পাম্পের ডিজিটাল ডিসপ্লেতেই আর বাড়তি দাম দেখানোর জায়গা নেই কোনো! ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহে চাপ তৈরি হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রেও হু হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম।
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দামে রেকর্ড; স্টেশনের ডিসপ্লেতেই জায়গা হচ্ছে না সংখ্যার! 
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
তেলের দেশ হিসেবেই বিশ্বজুড়ে পরিচিত সৌদি আরব। কিন্তু এবার সেই সৌদির মাটির নিচে মিলেছে আরেক বিশাল সম্পদ। আর জায়গাটিও বেশ পরিচিত—পবিত্র দিনা অঞ্চল। সেখানে প্রায় ১১০ মিলিয়ন টন আকরিক সম্পদের সন্ধান পাওয়ার কথা জানিয়েছে দেশটি। যার মধ্যে রয়েছে মূল্যবান বিরল মৃত্তিকা খনিজ, সঙ্গে ইউরেনিয়ামের আশাব্যঞ্জক উপস্থিতি। সৌদি জ্বালানিমন্ত্রী প্রিন্স আবদুল আজিজ বিন সালমান জানিয়েছেন, মদিনা অঞ্চলের জাবাল সাইদ প্রকল্পে অনুসন্ধান ও ভূতাত্ত্বিক গবেষণায় এই খনিজ সম্পদের সন্ধান মিলেছে। ভিয়েনায় আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সাধারণ সম্মেলনে তিনি জানান, এখানে উচ্চ ঘনত্বের বিরল মৃত্তিকা খনিজের পাশাপাশি রয়েছে আশাব্যঞ্জক মাত্রায় ইউরেনিয়াম। নামটা ‘বিরল মৃত্তিকা’ হলেও আধুনিক বিশ্বে এসব খনিজের গুরুত্ব অনেক। বৈদ্যুতিক গাড়ি, স্মার্টফোন, শক্তিশালী চুম্বক, বায়ু বিদ্যুৎ থেকে প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি—বিভিন্ন ক্ষেত্রেই প্রয়োজন হয় এসব উপাদানের। আর ইউরেনিয়াম ব্যবহৃত হয় পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের জ্বালানি হিসেবে। জাবাল সাইদে ডিসপ্রোসিয়াম ও টারবিয়ামের মতো প্রায় ৫ লাখ ৫২ হাজার টন ভারী বিরল মৃত্তিকা খনিজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি নিওডিমিয়াম ও প্রেসিওডিমিয়ামের মতো হালকা বিরল মৃত্তিকা খনিজের পরিমাণ প্রায় ৩ লাখ ৫৫ হাজার টন। একই এলাকায় প্রায় ৩১ হাজার টন ইউরেনিয়ামের মজুত থাকার কথাও উঠে এসেছে বিশ্লেষণে। এই আবিষ্কার সামনে এলো এমন সময়ে, যখন তেলের বাইরেও অর্থনীতির নতুন ক্ষেত্র তৈরিতে খনিজ সম্পদের দিকে নজর বাড়াচ্ছে সৌদি আরব। দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত খনি কোম্পানি মা'আদেন গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উত্তোলন ও প্রক্রিয়াকরণে বাড়াচ্ছে আন্তর্জাতিক অংশীদারত্ব। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেসামরিক পারমাণবিক সহযোগিতাও এগিয়েছে। সৌদি ও মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রীর মধ্যে হওয়া চুক্তি দীর্ঘমেয়াদি পারমাণবিক সহযোগিতার ভিত্তি তৈরি করেছে বলে জানিয়েছে মার্কিন জ্বালানি দপ্তর। তেল এতদিন সৌদি আরবের সম্পদের সবচেয়ে বড় পরিচয়। এবার মদিনার জাবাল সাইদের মাটির নিচে পাওয়া বিরল খনিজ ও ইউরেনিয়ামের সম্ভাবনা সেই পরিচয়ে যোগ করতে পারে নতুন এক অধ্যায়।  আরটিভি/ এসকেডি  
তেল নয়, এবার মদিনার মাটির নিচে মিলল মূল্যবান খনিজ
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
ভাঙা দেয়াল, খসে পড়া পলেস্তারা আর সময়ের ক্ষয়ে জীর্ণ হয়ে যাওয়া ভবন। দেখে এখন হয়তো বোঝার উপায় নেই, একসময় এখানেই ছিল জমিদারদের প্রভাব আর জৌলুশ। সেই সময় পেরিয়েছে বহু আগেই। তবে প্রাসাদের ধ্বংসাবশেষ, পুরোনো মসজিদ, বাঁধানো পুকুরঘাট আর পারিবারিক কবরস্থান এখনো ধরে রেখেছে সেই ইতিহাসের কিছু চিহ্ন। চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৫ কিলোমিটার দূরের রূপসা গ্রাম। এখানেই রয়েছে ঐতিহ্যবাহী রূপসা জমিদারবাড়ি। মূল প্রাসাদের অনেক অংশ এখন আর অক্ষত নেই। তবে টিকে থাকা বিভিন্ন স্থাপনা দেখতে এখনো এখানে আসেন দর্শনার্থীরা। জমিদারবাড়ির ইতিহাস নিয়েও রয়েছে আগ্রহ। ফরিদগঞ্জ উপজেলা প্রশাসনের তথ্যে মোহাম্মদ গাজী ও তাঁর উত্তরসূরি আহমেদ গাজী চৌধুরীর নাম পাওয়া যায়। তবে স্থানীয় ইতিহাসভিত্তিক বিভিন্ন সূত্রে প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও নাম নিয়ে কিছুটা ভিন্ন তথ্যও রয়েছে। এখানকার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা পুরোনো মসজিদ। স্থানীয় সংবাদসূত্রে এটি ‘মসজিদে নূর’ নামে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সূত্রের দাবি, মসজিদটি প্রায় দুই শতাব্দীর পুরোনো এবং ১২৮৪ বঙ্গাব্দে জমিদার মোহাম্মদ গাজী চৌধুরী এটি নির্মাণ করেন।  মসজিদের পাশেই রয়েছে জমিদার পরিবারের কবরস্থান। পুরোনো কবর ও ফলকে এখনো পাওয়া যায় পরিবারের কয়েক প্রজন্মের স্মৃতি। কাছেই রয়েছে বাঁধানো পুকুরঘাট, যা জমিদারি আমলের জীবনযাত্রার আরেকটি চিহ্ন। সময়ের সঙ্গে রূপসা জমিদারবাড়ির অনেক স্থাপনাই ক্ষয়ে যাচ্ছে। কোথাও দেয়াল ভেঙেছে, কোথাও হারিয়ে যাচ্ছে পুরোনো কাঠামোর চিহ্ন। ফলে ঐতিহাসিক এই স্থাপনা সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তাও সামনে আসছে। জমিদার নেই, নেই সেই সময়ের জৌলুশও। পড়ে আছে শুধু কিছু ভবন, মসজিদ, পুকুরঘাট আর কবরস্থান। সময়ের সঙ্গে এগুলোও হারিয়ে গেলে হারিয়ে যাবে রূপসার ইতিহাসের দৃশ্যমান একটি অধ্যায়।  আরটিভি/ এসিকেডি  
প্রায় ২শ’ বছর পরও দাঁড়িয়ে জমিদারদের মসজিদ-পুকুরঘাট
আরও পড়ুন
কানাডায় জরুরি অবস্থা, দুই শহর থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন ও ফ্রান্স, জরুরি অবস্থা জারি
যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপজুড়ে রেকর্ড তাপপ্রবাহ, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা জারি
কঙ্গোতে ইবোলায় ৮০ জনের মৃত্যু, জরুরি অবস্থা ঘোষণা