ঢাকা বুধবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৯ আশ্বিন ১৪৩৩

ছয় সপ্তাহের বিক্ষোভে কাঁপছে বলিভিয়া, সেনা নামিয়ে জারি জরুরি অবস্থা! 

আন্তর্জাতিক ডেস্ক, আরটিভি নিউজ

প্রকাশ : ২৪ জুন ২০২৬, ১১:২৫ পিএম

কখনো কখনো একটি দেশের সংকট এতটাই গভীর হয়ে ওঠে, যখন মানুষের রাগ, ক্ষোভ আর হতাশা মিলেমিশে থামিয়ে দেয় পুরো একটি দেশকে। খালি হয়েছে দোকানপাট। জ্বালানি স্টেশনেও লম্বা লাইন। ওষুধের সংকটে উদ্বিগ্ন হয়ে ওঠে পরিবারগুলো। ঠিক এমনই এক অস্থির সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ বলিভিয়া।

শ্রমিক ইউনিয়ন, আদিবাসী গোষ্ঠী ও কোকোচাষিরা রাজপথে নেমে বিভিন্ন শহরে চালিয়ে যাচ্ছেন মিছিল ও অবরোধ। বহু সড়কে দেয়া হয়েছে ব্যারিকেড। ছয় সপ্তাহ ধরে চলা এই অবরোধে, খাদ্য সংকট, জ্বালানি সংকট আর অচল অর্থনীতি। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে শেষ পর্যন্ত জরুরি অবস্থা জারি করে সেনাবাহিনী নামাতে বাধ্য হয়েছেন বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ। সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।

এদিকে টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজ বলেন, আগামী ৯০ দিনের জন্য সারা দেশে জরুরি অবস্থা কার্যকর থাকবে। এই সময় যেকোনো ধরনের বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকবে ও দেশের বিভিন্ন স্থানে মোতায়েন করা হবে সামরিক বাহিনী।

আরও পড়ুন

তিনি আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন, আইন ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, এই পদক্ষেপ মানুষের স্বাভাবিক জীবন কেড়ে নেওয়ার জন্য নয়, বরং নেওয়া হয়েছে তা ফিরিয়ে আনার জন্য।

প্রেসিডেন্টের এই ঘোষণার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এল আল্টো শহরে সেনা ও সশস্ত্র পুলিশের টহল শুরু হয়। ভারী বুলডোজার দিয়ে রাস্তার অবরোধ সরানোর কাজও শুরু হয়েছে। এএফপির প্রতিবেদনে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন এলাকায় সামরিক যান ও পুলিশের উপস্থিতি চোখে পড়েছে।

দীর্ঘদিনের অবরোধে ক্লান্ত হয়ে পড়া অনেক বাসিন্দা সেনাদের স্বাগতও জানিয়েছেন। কেউ কেউ দিয়েছেন হাততালি। রাজধানী লাপাজেও বিরাজ করছে উত্তেজনা। প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে সামরিক পুলিশ ও নৌবাহিনীর সদস্যদের। গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে অবস্থান নিয়েছে বিশেষ নিরাপত্তা ইউনিট।

গেলো দুই দশকের মধ্যে প্রথম অ-সমাজতান্ত্রিক সরকার হিসেবে ক্ষমতায় আসা রদ্রিগো পাজ দায়িত্ব নেওয়ার এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যেই পড়েছেন বড় ধরনের রাজনৈতিক সংকটে। বিক্ষোভকারীরা চাইছেন, তিনি উদার অর্থনৈতিক সংস্কার থেকে সরে আসুন এবং পদত্যাগ করুন।

সরকার আলোচনার ইঙ্গিত দিলেও এখনো শান্ত হয়নি পরিস্থিতি। একটি বড় শ্রমিক ইউনিয়নের সঙ্গে সমঝোতা হলেও কয়েকটি আদিবাসী গোষ্ঠী ঘোষণা দিয়েছে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার। এখনো ৪০টিরও বেশি স্থানে রয়েছে অবরোধ। বলিভিয়ার পাহাড়ি শহরগুলোতে তাই এখনো ভাসছে অস্থিরতার ধোঁয়া।

আরটিভি/এআর

আরটিভি অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
বাবা, এক বটবৃক্ষের নাম। সন্তানের সবরকম ভাল থাকার উৎস, সেটিই যেন আবারও প্রমাণিত এই বাচ্চাদের কণ্ঠে। চারদিকে যখন বিরাজ করছে পূজার আমেজ তখন এই কোমলমতি শিশুদের চোখে পানি, আর কণ্ঠে আক্ষেপ। এ বছর যেন উৎসবের দিনগুলোতে নতুন জামার চেয়েও বড় অভাব হয়ে দাঁড়িয়েছে তাদের বাবা। তাই আনন্দের সময়ও যেন থামছেই না তাদের কান্না।
পূজায় নতুন জামা নয়, বাবাকে খুঁজছে এই শিশুরা!
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
ভিডিওর এই শিশুরা সবাই প্রাথমিকের শিক্ষার্থী। যাদের এখন সহপাঠীদের সাথে ছুটোছুটি করার কথা বিদ্যালয়ের মাঠে। অথচ পানি জমে থাকায় তারা পারছে না খেলতে, কেউ আবার যেতে পারে না টয়লেটেও। আবার পানি পেরিয়ে ক্লাসে যেতে গিয়ে ভিজে যায় কারও পোশাক। বই-খাতায় লেগে যায় কাদা। অভিযোগের যেন শেষ নেই কোমলমতি এই শিশুদের। 
স্কুলমাঠে শিশুদের খেলার বদলে সাঁতার কাটছে হাঁস
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
হরমুজ সংকটে সৌদি আরবের তেল রপ্তানির গুরুত্বপূর্ণ বিকল্প হয়ে উঠেছিল লোহিত সাগরের ইয়ানবু বন্দর। কিন্তু সেই পথও এখন রয়েছে হামলার ঝুঁকিতে। হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ এই তেলবন্দর রক্ষায় এবার সৌদি আরবে সেনা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। শুধু সেনা নয়, সঙ্গে যাচ্ছে রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থাও।  বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই ঘোষণা দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এর প্রতিবেদনে প্রকাশ পেয়েছে এই তথ্য।  মাখোঁ জানান, ইয়ানবু রক্ষায় সৌদি আরবের সঙ্গে একটি চুক্তি চূড়ান্ত করেছে ফ্রান্স। সেই চুক্তির আওতায় সেখানে পাঠানো হবে ফরাসি সেনাসদস্য, রাডার ও প্রতিরক্ষাব্যবস্থা। তবে মাখোঁ একটি বিষয় স্পষ্ট করেছেন। ফরাসি সেনাদের পাঠানো হচ্ছে ইয়ানবু রক্ষার জন্য, চলমান সংঘাতে সরাসরি অংশ নেওয়ার জন্য নয়। কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে সৌদি আরবের একটি বন্দর রক্ষায়  কেন সেনা পাঠাতে হচ্ছে ফ্রান্সকে? এর পেছনে বড় কারণ হরমুজ প্রণালির চলমান সংকট। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে হরমুজ দিয়ে জ্বালানি পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হওয়ার পর বিকল্প পথ হিসেবে ইয়ানবুর গুরুত্ব অনেক বেড়ে যায়। সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল থেকে ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের মাধ্যমে তেল নিয়ে যাওয়া হয় লোহিত সাগরের এই বন্দরে। সেখান থেকে হরমুজ এড়িয়ে সরাসরি তেল পাঠানো সম্ভব আন্তর্জাতিক বাজারে। কিন্তু সম্প্রতি সেই ব্যবস্থাও খেয়েছে বড় ধাক্কা। ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি আরবের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুর পাশাপাশি ইয়ানবুতে আরামকোর স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ইয়ানবুসহ বিভিন্ন এলাকার দিকে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। এর আগে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের ইস্ট-ওয়েস্ট পাইপলাইনের তিনটি পাম্পিং স্টেশন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে ইয়ানবু দিয়ে তেল রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যায়। পরে পাইপলাইনটি আবার চালু করা হয়েছে সীমিত পরিসরে।  ফলে ইয়ানবুর নিরাপত্তা এখন শুধু সৌদি আরবের বিষয় নয়। বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার ক্ষেত্রেও বন্দরটির গুরুত্ব বেড়েছে বন্দরটির। আর ফ্রান্সও অনুভব করছে জ্বালানি সংকটের চাপ। মাখোঁ বলেন, আগামী শীতের জন্য ফ্রান্সে পর্যাপ্ত তেল ও গ্যাসের মজুত রয়েছে। নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ করছে তাঁর সরকার। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ডিজেল রপ্তানি নিষিদ্ধ করার কথা বিবেচনা করছে। এমন খবর সত্য হলে তার ফল বিশ্ব ও মার্কিন অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হতে পারে বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। যদিও হোয়াইট হাউস অস্বীকার করেছে এমন কোনো পরিকল্পনার কথা। আরটিভি/এআর 
সৌদি রক্ষায় নামছে ফরাসি সেনারা!
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
আধুনিকতার ছোঁয়া লাগার আগে বরেন্দ্রভূমির মেঠোপথগুলো কেমন ছিল? সন্ধ্যা নামলেই চারপাশের খাঁ-খাঁ নীরবতা, বন্যপ্রাণীর ভয় আর ডাকাতের উপদ্রব— এমন এক অনিশ্চিত সময়ে ক্লান্ত পথিকের একমাত্র ভরসা হয়ে দাঁড়িয়েছিল একটি অনন্য মানবিক উদ্যোগ। প্রায় ১২ যুগ বা ১১৮ বছর ধরে নওগাঁর পোরশার ঐতিহাসিক ‘মুসাফিরখানা’ সেই মানবতার ঐতিহ্যকে পরম যত্নে টিকিয়ে রেখেছে। নিজ সম্পত্তির উপার্জনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবারের এমন দৃষ্টান্ত আধুনিক সমাজেও এক বিরল মানবসেবার বার্তা দেয়।
শতবর্ষী এই মুসাফিরখানায় আজও মিলে বিনামূল্যে আশ্রয় ও খাবার
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
দেশটিতে ১০০ বছর বা তার বেশি বয়সি মানুষের সংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ লাখ ছাড়িয়েছে।
বুড়িয়ে যাচ্ছে জাপান, প্রবীণদের ভিড়ে কমছে শিশু জন্মহার!
আরও পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রে হামের রেকর্ড প্রাদুর্ভাব, নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা
হাম ছড়াতেই নিউইয়র্কে জরুরি অবস্থা ঘোষণা
কানাডায় জরুরি অবস্থা, দুই শহর থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
ভয়াবহ দাবানলে পুড়ছে স্পেন ও ফ্রান্স, জরুরি অবস্থা জারি